August 11, 2022, 11:08 pm

পাবনায় জমজমাট কোরবানীর পশুর হাট দাম স্বাভাবিক : কঠোর নিরাপত্তা

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনা ঈদের আগ মুর্হুতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। জেলার ৪০টি হাটেই দেখ গেছে ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড়। বেশ কিছুদিন ক্রেতারা ঘুরে ফিরে বেড়ালেও শেষ মুর্হুতে কেনাকাটা শুরু করেছে ক্রেতারা। জেলা প্রয়োজনে তুলনায় ৩ লক্ষাধিক বেশী পশু থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে পাবনার কোরবানীর পশু। ভারতীয় গুরু না আসায় খুশি হলেও দাম কম এবং গো খাদ্যের খরচ বেশী বলে লাভ হচ্ছে না বলে জানান খামারীরা। দাম স্বাভাবিক থাকায় স্বষিÍর নিশ^াস ক্রেতাদের। ২ হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম হাট বনগ্রাম পশুহাটে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতা- বিক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। দূরের ব্যাপারীদেরও এসব হাটে পশু কিনতে দেখা গেছে। আবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গরু নিতে শুরু করেছেন ব্যাপারীরা।
বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রচুর গরু মহিষ এবং ছাগল উঠেছে ক্রেতাও প্রচুর তুলনামুলক ভাবে বিক্রির পরিমানও বেশী। একই অবস্থা সদও উপজেলার দাপুনিয়া হাটের। মাঝারি এবং ছোট গুরুর চাহিদা বেশী। বড় খাসির ক্রেতাবেশী।
বিক্রেতারা বলছেন, দেশী খাবার খাইয়ে এসব পশু মোটাতাজাকরণ হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার গত বছরের চেয়ে এবার তাদের ১৫-২০ শতাংশ খরচ বেশি হয়েছে। সে অনুপাতে কোরবানির পশুর দাম কম। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে বেচাকেনা বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদাররা।
ব্যাপারী ও ফড়িয়ারাও বলছেন তারা বাড়ি বাড়ি থেকে কিছুদিন আগে গরু কিনে রেখেছিলেন। হাটে বেশি দামে বিক্রির জন্য রাখলেও এখন উল্টো কমে গেছে।
কাশীনাপুর ইউনিয়নের বরাট গ্রামের ব্যাপারী লাল মিয়া বলেন, ‘প্রতি লাখে তাদের ১০-১৫ হাজার টাকা লস গুনতে হচ্ছে।
পাবনা সদর উপজেলার শুকচর এলাকার আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, ‘১২ মাস গরুর ব্যবসা করি। কোরবানি উপলক্ষে ২৫টি গরু কিনেছি। কোরবানির হাটে গরুর দাম কম। আমার সাড়ে ৩ লাখ টাকার মতো লোকসান গুনতে হবে।’
সুজানগরের আবদুল আলিম রিপন বলেন, উপজেলার চারটি হাটেই আমি গরু কেনার জন্য গিয়েছি এবার গরু ছাগলের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। হিসেব মতে প্রতি মন গরুর মাংশ ২৬/২৭ হাজার টাকা করে পরবে।
শহরের হুমুয়ুন কবীর তপু বলেন, আমি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে যে গরু কিনেছি সেটার মাংশ আড়াই মন হওযার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন বাজার স্বাভাবিক রয়েছে মনে মনে হচ্ছে।
বনগ্রাম গ্রামের ইজারাদারদের পক্ষে ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনছুর আলম পিন্টু জানান, হাট এবার জমজমাট। এবার ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু কেনার দিকে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তবে গরুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা কম।
পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কৃষ্ণ মোহন হাওলাদার বলেন,বাণিজ্যিকভিত্তিতে জেলায় প্রায় ২৩ হাজার ৫শ ৯০ জন খামারি রয়েছেন যারা ৬লক্ষ ৫ হাজার ৭৮৪ টি গরু ছাগল পালন করেন। জেলায় প্রায় ৩ লক্ষ পশু কোরবানি হবে অবশিষ্ট ৩ লক্ষাধিক পশু অন্য জেলায় যাবে। গড় হিসেবে এগুলোর দাম ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
পাবনা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রত্যেক হাটে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মোবাইল টিম কাজ করছে যাতে অতিরিক্ত হাটতোলা নেয়া না হয়, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি যাতে কোন অপকার্ম করতে না পারে। সহাসড়কে সিনিয়র অফিসারদের নেতৃত্বে কোরবানীর পশু ক্রেতা বিক্রেতা যাতে সমস্যায় না পড়ে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কাজ করছে।
পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ^াস রাসেল হোসেন জানান, পাবনাবাসীর ঈদ নির্বিঘœ করতে মিটিং করে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জাল নোট চিহ্নিত করতে মেশিন স্থাপন, হাট এবং মহাসড়কে পুলিশ টহল বাড়ানো, হাটে অতিরিক্ত হাটতোলা না নেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD