August 10, 2022, 7:47 pm

সারিয়াকান্দিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার পরিবার

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন হয়নি। বরং পানি আরো বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ হাজার পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রায় সবাই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেঁড়িবাধে। বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিস্কাশন ও খাবার সংকটে রয়েছে বানভাসি মানুষ। এখন পর্যন্ত সারিয়াকান্দির প্রায় ৮৭ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্যমতে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বসবাস করা ৬ হাজার ১২০ টি পরিবার এখন বন্যায় আক্রান্ত। বন্যায় আক্রান্ত এসব পরিবারের লোকসংখ্যা ২৩ হাজার ৪৫০ জন। ডুবে গেছে উপজেলার ২৭৫.৭০ হেক্টর জমি। এসব পরিবারে ২ হাজার ২৩০ টি বাড়িঘর পানিতে সম্পূর্ণ এবং ৫৫০টি পরিবার আংশিকভাবে নিমজ্জিত রয়েছে। বন্যার পানি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে উপজেলার ৯৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানিতে তলিয়ে গেছে ২০ হাজার টিউবওয়েল। পানিবন্দী হয়েছে ১৫ হাজার গবাদিপশু। বন্যা কবলিত এসব এলাকার ৫০০ পরিবারের লোকজন এখন আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেঁড়িবাধে। উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত ৮৭ টি গ্রামের মধ্যে রয়েছে হাটশেরপুরের ১২টি, চালুয়াবাড়ীর ১২টি, কাজলার ১১টি, কর্ণিবাড়ীর ১২টি, বোহাইলের ১২টি, কামালপুরের ৪ টি, চন্দনবাইশার ৭টি, কুতুবপুরের ৪টি, সারিয়াকান্দি সদরের ৯টি, এবং সারিয়াকান্দি পৌরসভার ৪টি এলাকা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার ৭২৬ হেক্টর জমির ফসল এখন পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাট ৫৫০ হেক্টর, আউশ ১৭০ হেক্টর, ভুট্টা ২ হেক্টর এবং বিভিন্ন সবজি ৪ হেক্টর।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের বিশুদ্ধ পানি এবং ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি আর ২ থেকে ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এক্ষেত্রে মাঝারি আকারের বন্যা হবে। সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে বাঙালী নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD