June 15, 2024, 2:06 am

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার

যমুনা নিউজ বিডি: গত ২০১৭ সালের ৬ মে কক্সবাজারে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কক্সবাজারকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ সেই কথাটি আজ কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে। গত কয়েক বছর ধরে কক্সবাজারের উপর দিয়ে উন্নয়নের ঝড় বইছে। একের পর এক মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে কক্সবাজারের দৃশ্যপট।

সর্বশেষ ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের এসে জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এর আগে ২০১৭ সালে এসে ৩ লাখ কোটি টাকার ৪০টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছিলেন। শনিবার (১১ নভেম্বর) এসব প্রকল্পের বাস্তবরূপ দেখবেন কক্সবাজারের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী আজ আরও ৮৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প কক্সবাজারবাসীকে উপহার দেবেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সরব কক্সবাজার। হোটেল-মোটেল সব বুক্ড। সর্বত্র নেতা-কর্মীদের আনাগোনা। নির্বাচনকে সামনে তার এবারের সফরকে ঘিরে পুরো শহরকে সাজানো হয়েছে নানা আঙ্গিকে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড-পোস্টারে ছেয়ে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন সড়ক, উপসড়ক। কক্সবাজারের বিশাল এলাকাজুড়ে ভাঙাচোরা সড়কের সংস্কার, ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। সড়কে লাইটিং ও সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে কক্সবাজার সেজেছে নতুন রূপে। দিন-রাত কাজ চলেছে প্রধান সড়কে। নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা নজরে পড়ার মতো।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে শহরের কলাতলীর হাঙর ভাস্কর্য মোড় পর্যন্ত পাঁচ-ছয় কিলোমিটার সড়কে তোরণ নির্মাণের ধুম পড়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক তোরণ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিরাপদ করতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চলছে কড়া পাহারা। বিশেষ করে নজরবন্দী রাখা হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে। এখান থেকে কেউ যেন বের হতে না পারে তার জন্য বিশেষ প্রস্ততি রয়েছে। শহরের কলাতলী সৈকত সড়কের বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে বড় বড় ব্যানার-বিলবোর্ড।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার জেলা পরিষদ নিজেদের জানান দিচ্ছে। পিছিয়ে নেই বিভিন্নর হোটেল মোটেলও। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মহেশখালির পুরো দ্বীপটিই যেন বদলে গেছে। মাতারবাড়ী পর্যন্ত হাজার হাজার রঙ বেরঙের ব্যনার ফেস্টুণের ছড়াছড়ি।

জানা গেছে, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী এসেই সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের চাঁন্দেরপাড়ায় ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেল স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল উদ্বোধন করবেন। বেলা সাড়ে ১১ টায় সর্বপ্রথম তিনি রেল স্টেশন উদ্বোধন করবেন। এখানে তিনি সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী ট্রেনের টিকেট কেটে রামু পর্যন্ত রেলভ্রমন করবেন বলে জানা গেছে। রামু থেকে হেলিকপ্টার যোগে তিনি মহেশখালির মাতারবাড়ী যাবেন।

কক্সবাজারে বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেই তিনি মহেশখালি রওয়ানা দেবেন। বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেল উদ্বোধন ও প্রথম টার্মিনাল নির্মানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী আওয়ামী লীগের দলীয় জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেবেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে রেল চালুর ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ৮৮ হাজার কোটি টাকার ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে, ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প, ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ীতে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের টার্মিনাল-১ নির্মান, ৬৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে কুতুবদিয়ার দ্বীপকে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করণ প্রকল্প, ৪৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁকখালী নদীর উপর সংযোগ সেতু নির্মান, ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের ভূমি ভরাট, প্রোটেকশান বাঁধ নির্মাণ, অ্যাপ্রোচ রোড ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ, ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডিজাইন ও স্থাপনকরণ, ৪২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মহেশখালী গোরকঘাটা-শাপলাপুর জনতা বাজার সড়কের মজবুত ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প, ২৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প।

এ ছাড়াও উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, কুতুবদিয়ায় কৈয়ারবিল আরসিসি গার্ডার ব্রিজ, চকরিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, ঈদগাঁও জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন,মহেশখালী ইউনুচখালী নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, উখিয়া রত্নাপালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় একাডেমিক ভবন নির্মাণ, মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যায়য়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকনাফ মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার রিসিলেন্ট শেল্টার কাম আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণ, ২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রামু উপজেলা জোয়ারিয়ানালা-নন্দাখালী সড়কে ১৮৪ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, ১৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার সদরে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণ (৪র্থ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই। পুরো কক্সবাজার জেলা ঘিরে মহল্লায় মহল্লায় প্রচার প্রচারণা চলেছে। জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি নেতা-কর্মীরা দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কক্সবাজারে সকল প্রকার বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ শাহীন ইমরান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও জেলায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।’

কক্সবাজার-৩ রামু,কক্সবাজার, ঈদগাঁও আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে চড়ে রামু যাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তত রয়েছে, চার ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর এ আগমনকে ঘিরে জেলার সর্বত্র উৎসবের আমেজ চলছে।

মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেকউল্লাহ রফিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য মহেশখালির মানুষ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে। অনেকগুলো বড় বড় প্রকল্প তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন। দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD