July 4, 2022, 6:11 am

বগুড়া স্টেশনরোড ব্যাপক অপব্যবহারের শিকার : দেখার কেউ নেই

শেখ শাহেদ : বগুড়া স্টেশন রোড ব্যাপক অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। রাস্তা যানবাহন, পথচারী চলাচল ও মালামাল পরিবহনের জন্য। সেই রাস্তাই যদি কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী দখলে নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা ফেদে বসে সেটাই অপব্যবহার। স্টেশন রোড বগুড়া শহরে যাতায়াতের অন্যতম রাস্তা। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বগুড়াকে মফস্বল শহর থেকে সিটি শহরে রূপদান করেন তারেক রহমান। বগুড়াবাসীকে তিনি পাইপ লাইনে গ্যাস, আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুইমিংপুল, বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ নট্রামস্সহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান উপহার দেন। তার সুদুর প্রসারী চিন্তা ভাবনায় বগুড়া শহরের অনেক সরু রাস্তা প্রশস্ত করা হয়। তারেক রহমান শহরের ভিতর দিয়ে মাটিডালী থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কের প্রশস্ততা তিনগুণ বাড়িয়ে দুইলেনে উন্নীত করেন। একই সাথে তিনি স্টেশন রোডকেও দুই লেনে উন্নীত করেন। এতে যানজট শূন্যের কোটায় নেমে আসে। এখন বগুড়া শহরে যানবাহন বেড়েছে। পাশাপাশি শহরের রাস্তাগুলোয় সুযোগ সন্ধানীরা তাদের অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য ফেদে বসেছে। সরেজমিন ২.৮ কিলোমিটারের স্টেশন রোড ঘুরে দেখা গেছে, দুই লেনের এই রাস্তায় অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। তাদের এই ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে রাস্তায় যানজট, দুর্ঘটনা, চুরি ছিনতাই লেগেই আছে। স্টেশন রোডের সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের সামনে থেকে পুরান বগুড়া পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে ইট, বালি খোয়া সারি করে রেখেছে। এতে রাস্তা শরু হওয়ার পাশাপাশি রাস্তার পাশ দিয়ে পৌরসভার লাগানো ২০/৩০টি ফলজ আম গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি গাছ মরেও গেছে। ওই স্থানে একজন ব্যবসায়ী শখের বসে রোড গার্ডেন করে কয়েক হাজার বিভিন্ন জাতের ফুল ও পাতাবাহার গাছ লাগিয়েছিলেন। ওই ব্যবসায়ীরা তা নিধন করেছে। রাস্তার ওই স্থানে রাতে ইটের খামালে লুকিয়ে থাকা ছিনতাইকারীরা সুযোগ পেলেই পথচারী ও যানবাহন থেকে ছিনতাই করছে। ওই খানে কোন যানবাহন নষ্ট হলে রাস্তার পাশে স্ট্যান্ড করার কোন সুযোগ নেই। কামারগাড়ির সামনে স্টেশন রোডে জনৈক মটর মেকানিক্স নাসির প্রতিদিন ১৫/২০টি কার মাইক্রোবাস দাঁড় করিয়ে রেখে তা কিস্তিতে বিক্রি করছেন। এতে প্রতিদিনই কামারগাড়ি গুমটিতে যানজট হচ্ছে। ওই রাস্তার তিনমাথা, কামারগাড়ি, সেউজগাড়িতে বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল মেকানিক তাদের মোটর সাইকেল সার্ভিসিংয়ের কাজ রাস্তায় সারছেন। এতে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। ২.৮ কি: মি: রাস্তাটির বেশ কয়েক জায়গায় রয়েছে সবুজ সিএনজি মেরামতের গ্যারেজ। রাস্তাটির সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার হচ্ছে সেউজগাড়ি থেকে সাতমাথা পর্যন্ত। সেউজগাড়ি ও রেল স্টেশনের সামনে রাস্তায় প্রতিদিনই চলছে ট্রান্সপোর্টের গাড়িগুলোর লোড-আনলোডের কাজ। এছাড়া স্টেশনের সামনে রাস্তায় অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড বানিয়ে সব সময়ই ৩০/৩৫টি বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। রেলওয়ে আদর্শ হকার্স মার্কেটের সামনে বাঁশ কাঠের মাচান বানিয়ে রাস্তা দখল করে হকার্স মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা করে যাচ্ছেন। বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে পিকআপের অস্থায়ী স্ট্যান্ড বানানো হয়েছে। এখান থেকে সাতমাথা পর্যন্ত সিএনজি’র স্থায়ী ষ্ট্যান্ড বানানো হয়েছে। এছাড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে সাতমাথা সপ্তপদী মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে অনেক ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাস্তা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন। পেপার পত্রিকায় যানজট নিয়ে লেখালেখি শুরু হলে টনক নড়ে প্রশাসনের, তখন ওইসব ব্যবসায়ীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শুরু হয় চোর পুলিশ খেলা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একদিকে তাড়িয়ে দিলেও তারা অন্যদিকে গিয়ে বসে। আবার রাতে এসে ওই পুলিশ সদস্যরাই তাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলে। ওই রোডে যাতায়াতকারী ব্যাংকার রুহিন জানান, রাস্তা প্রশস্ত হওয়ায় পথচারী কিংবা যানবাহন চালক মালিকদের লাভ হয়নি। লাভ হয়েছে রাস্তা অপব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের। রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার পর থেকেই অনেক সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি রাস্তার অপব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা বাণিজ্য করলেও দেখার কেউ নেই। এই অপব্যবহারকারীদের রোখার কেউ না থাকায় তারা একেকজন শিকড় গাড়া বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD