June 21, 2024, 8:33 pm

নওগাঁয় শিমের কেজি ১৮০ টাকা

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতকালিন সবজি। সরবরাহের তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশ চড়া। বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষীরা। তবে দাম উর্ধ্বমূখী হওয়ায় অস্বস্থিতে পড়েছেন ক্রেতারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলায় বিভিন্ন জাতের প্রায় ৮ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়েছে। যা থেকে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০ মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে। তবে আগাম শীতকালিন সবজির চাষ হয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর।

ভোরের কুয়াশা শাকসবজির ফুল ও লতায় পড়লেও সকালের সূর্যের আলোয় তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বেলা গড়ার সাথে বাড়ছে তাপমাত্রা। অনাবৃষ্টিতে শাকসবজির আবাদের কৃষকদের যেমন দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আবার সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে অতিবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অনাবৃষ্টি এবং অতিবৃষ্টিতে শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে শাকসবজির উৎপাদন ব্যহৃত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কম হওয়ায় বেড়েছে সবজির দাম।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের সোমবাড়ি হাট। সোমবার সাপ্তাহিক হাটবার। এ হাটে ভোর থেকে চাষীরা তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে পাইকারি বেচা-কেনা। হাট ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিম । যা প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন ও করলা ৯০ টাকা কেজি, মুলা ও বরবটি ৫০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা, ওল ৩৫-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা পিস এবং লাউ ২০ থেকে ২৬ টাকা পিস। ব্যবসায়ীরা এ হাট থেকে সবজি কিনে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভে তারা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে।

চকআতিতা গ্রামের সবজি চাষী ইসরাফিল বলেন, এক বিঘা জমিতে ৪০০০ পিস ফুলকপির চারা লাগিয়েছিলাম। কিছুদিন আগের বৃষ্টিতে বেশকিছু চারা নষ্ট হয়ে যায়। হাটে ৭০ পিস ফুলিকপি নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতি পিস ৪০ টাকা হিসেবে বিক্রি করলাম। গত হাটে ১৫ পিস বিক্রি হয়েছে। দিন যত যাবে ফুলকপি তত বড় হবে।

বর্ষাইল গ্রামের শিম চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, দুই কাঠা জমিতে সিমের আবাদ করেছি। গাছে ফুল আসলেও ফল আসতে দেরি হয়েছে। দুই বার সাত কেজি শিম বিক্রি করেছি। পাইকারিতে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শিমের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশি পেয়ে লাভবান হচ্ছি। তবে উৎপাদনের পরিমাণ যখন বেশি হবে তখন দাম কমে আসবে।

পাইকারি ব্যবসায়ি মাসুদ রানা বলেন, সবজির দাম অতিরিক্ত। কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। সবজির উৎপাদন কম হয়ে বাজারে সরবরাহ কমেছে। এতে দামও বেশি। সাপ্তাহিক এক দিনের এ হাটে প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি বেচাকেনা হচ্ছে। বিগত বছর এ সময় প্রচুর পরিমাণ সবজি বাজারে উঠতো। তবে এ বছর তার ব্যতিক্রম।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে গাছে শিম আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে দিনের পরিমাণ কমে আসায় শীত বাড়ছে। এতে করে শিমসহ অন্যান্য আগাম জাতের শাকসবজির আবাদ ভাল হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD