June 13, 2024, 4:54 pm

চার দিনের সফরে ব্রাসেলস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যমুনা নিউজ বিডিঃ  ইউরোপীয় কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের বৈঠকে অংশ নিতে ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে যাচ্ছেন। ২৫ ও ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের বৈঠকে অংশ নেওয়ার ফাঁকে ২৭ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা ও ব্রাসেলসের কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানিয়েছে, গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েনের বৈঠক প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের ব্রাসেলসে উপস্থিত থাকার কথা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইইউভুক্ত দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন সফরের পর ব্রাসেলসে এই সফর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এক বছরের বেশি সময়জুড়ে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অব্যাহতভাবে আহ্বান জানিয়ে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গত মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবেও ২০২৪ সালে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাই গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইইউভুক্ত দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হলে নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান তাঁদের কাছে সরাসরি তুলে ধরতে পারবেন। এর পাশাপাশি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ঘিরে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বেড়ে গেছে বাংলাদেশের। এমন এক আবহে বাংলাদেশের উন্নয়ন, ব্যবসা–বাণিজ্য এই বিষয়গুলোতে সরাসরি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপের নেতাদের, এমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশের কূটনীতিকদের।
যা থাকছে গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে

দুই দিনের গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে মূল অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কয়েকটি অধিবেশনে আলোচনা হবে। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনায় অংশ নেবেন। মূলত ছয়টি প্রতিপাদ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়গুলো হচ্ছে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে উত্তরণ, শিক্ষা ও গবেষণা, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল, যোগাযোগের করিডর, স্বাস্থ্য পণ্য উৎপাদন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন অভিযাত্রার আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় যোগাযোগের করিডর এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে সহযোগিতায় জোর দিচ্ছে ইইউ। এরই অংশ হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) থেকে সৌরবিদ্যুৎ এবং বায়ুবিদ্যুতে বাংলাদেশকে কম সুদে সাড়ে তিন শ মিলিয়ন ইউরো ঋণ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের ফাঁকে এ বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে। এর পাশাপাশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য মঞ্জুরি সহায়তা দেওয়া হবে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রস্তাব পাশের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে ইইউ। গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সিইসির কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হবে কি না, তা এই মুহূর্তে যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ঢাকা সফর করে যাওয়া ইইউর প্রাক্-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সুপারিশের ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান (হাই রিপ্রেজেনটেটিভ) জোসেপ বোরেল বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চিঠিতে ইইউর পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা সব ধরনের প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের ফাঁকে বাংলাদেশের নির্বাচনসহ সুশাসন ও মানবাধিকারের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে সরকার। কারণ, নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক না পাঠানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ সামনে রেখে জিএসপি প্লাস আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপের বাজারে অগ্রাধিকার বাজারসুবিধা (জিএসপি) ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাবে বাংলাদেশের পণ্য। এরই ধারাবাহিকতায় জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে অনেকগুলো শর্ত মেনে চলতে হবে। এসব শর্তের অন্যতম হচ্ছে গণতন্ত্র, সুশাসন তথা সুষ্ঠু নির্বাচন। ফলে ব্রাসেলস সফরের সময় শ্রম অধিকার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নসহ সুশাসনের বিষয়ে ইইউভুক্ত সদস্যদেশগুলোর নেতাদের কাছে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান নিজের অবস্থানটা আরও স্পষ্ট করতে চাইবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD