May 27, 2024, 10:03 am

চিরকুট দিয়ে রাবির হলে ছাত্র শিবিরের মাংস বিতরণ

রাবি প্রতিনিধিঃ ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে মাংস বিতরণ করেছে ইসলামি ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সকালে ছেলেদের ১১ টা হলের গার্ডের নিকট এই মাংস দেয় তারা। এসময় মাংসের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি রাগীব শাহরিয়ারের পক্ষ থেকে একটি টিরকুট দেওয়া হয়। এ ঘটনা জানা জানি হলে জরুরি বৈঠক করে মাংসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ঈদে আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকলেও এবার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবার ক্যাম্পাসে ঈদ পালন করে ২২৬ শিক্ষার্থী। তারা আবাসিক হলগুলোতে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন শিবির ক্যাডার এসে ছেলেদের ১১টি হলের গার্ডদের নিকট ২-৩ ব্যাগ করে মাংস দিয়ে যায়। এসময় তারা বলেন, হাশেম স্যার শিক্ষার্থীদের জন্য মাংস পাঠিয়েছেন। মাংসের ব্যাগের সঙ্গে একটি চিরকুট ছিল। পরবর্তীতে চিরকুট খুলে শিবিরের বিষয়টি জানার পর অনেক হলের গার্ড মাংস নিতে আপত্তি জানান। কেউবা আবার মাংস শিক্ষার্থীদের না দিয়ে বাইরের মানুষদের দিয়ে দেন।

ব্যাগের সঙ্গে থাকা চিঠিতে বলা হয়, প্রতিবারের ন্যায় এবছরও ছাত্রশিবির রাবি শাখার পক্ষ থেকে কুরবানি দেয়া হয়েছে। এবছর বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায় ৬টি গরু এবং ২১টি খাসি কুরবানি দেয়া হয়েছে। আপনাদের মানসিক অবস্থা আমরা হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করেছি। হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ উপলক্ষে কুরবানির গোশত এবং খাবারের ব্যবস্থা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বড়ই দায়িত্বহীনতার কাজ করেছে। টিরকুটে আরও বলা হয়, আমরা গতকাল পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনাদের জন্য হয়তো কিছু উপহার দিবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত না দেওয়ার কারণে, আমাদেরও আপনাদের কাছে উপহার পাঠাতে দেরি হয়ে গেলো। আমরা যতোটুকু উপহার পাঠিয়েছি আশা করি আপনারা ভালোবাসার সহিত গ্রহণ করবেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন। সমাজের সকল ধরনের যৌক্তিক আন্দোলনে আমরা অতীতে যেভাবে আপনাদের পাশে থেকেছি, বর্তমানে থেকে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও যেন আপনাদের সাথে সেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল দাবি আদায়ের জন্য আমরা একসাথে তৎপর হতে পারি। এদিকে আবাসিক হলে শিবিরের মাংস বিতরণের বিষয়টি জানাজানি হলে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। বেলা সাড়ে এগারোটায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যেসব গার্ড মাংস রিসিভ করেছেন তাদের বিষয়ে আলোচনা হয়।

নাম প্রাকশ না করা শর্তে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক প্রাধ্যক্ষ বলেন, শুধু ছেলেদের হলগুলোতে শিবির মাংস বিতরণ করেছে। তারা হলের গার্ডের কাছে মাংস দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি হলের গার্ডরা মাংস নেয়নি। আবার একটি হলের গার্ড প্রাধ্যক্ষকে না জানিয়ে মাংস ভাগ করে দিয়েছিল। এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে মাংস সংগ্রহ করে ক্যাফেটেরিয়ার ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিটিংয়ে হলগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহলকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তাসনিম আলম বলেন, সকালে তারা হলে হলে মাংস বিতরণ করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। প্রশাসন হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদে কিছু করেনি। সেই জায়গায় ছাত্রশিবির একটি উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটিও করতে দিল না। রাবির হলগুলো সাধারণত ঈদের ছুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৭টি আবাসিক হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বেগম খালেদা জিয়া হলে শিক্ষার্থী না থাকায় মোট ১৬টি হল খোলা রয়েছে। ঈদে এসব হলে মোট ২২৬ জন শিক্ষার্থী আছেন। তবে হল খোলা থাকলেও এসব শিক্ষার্থীর জন্য ঈদে বাড়তি কোনো আয়োজন করেনি প্রশাসন।

ঈদে একটি হলের বাড়ি না যাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু হলই খোলা রেখেছে। ডাইনিংসহ সবকিছু বন্ধ। ঈদের দিনও প্রশাসন হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুই করেনি। শহীদ জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের প্রহরী তাঁকে মাংস নেওয়ার জন্য ডাক দেন। পরে তিনি মাংসের প্যাকেট খুলে দেখেন খামে একটি চিরকুট। সেটি খুলে দেখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নাম। পরে আর তিনি মাংস নেননি। কিছু সময় পরই পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলে আসে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি আছে, হল কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে শিবির মাংস বিতরণ করে বোধগম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল মনিটরিং আরও জোরদার করা। শিবিরে সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই দাবি করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, যখন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নেই তখন শিবির চোরের মতো এসে মাংস দিয়ে গেছে। তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই প্রকাশ্যে আসার। স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিহত করতে রাবি ছাত্রলীগ সবর্দা প্রস্তুত। প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমি সকাল নয়টার দিকে বিষয়টি শুনেছি। তারা চুরি করে এসে মাংস দিয়ে যাওয়ায় আমাদের সন্দেহ হয়েছে। কারা এর সাথে জড়িত সেটি বের করতে আমরা ক্যাম্পাসে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা চেয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD