April 16, 2024, 11:11 am

সিয়াম সাধনা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান

পরিবার সদস্যদের স্বাস্থ্য সমস্যার হদিস নির্ণয়ে আমরা এখন ব্যাংককে। থাই রাজধানীর কয়েকটি মশহুর হাসপাতালে গেল এক সপ্তাহে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকাঠামো দেখছি, জানছি ঠিক এ সময় আজ ১১ মার্চ এখানে রোজা শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের পেছনে দূরপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন- থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এমনকি জাপানেও সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে মাহে রমজানের রোজা শুরু ও শেষ হয়। আজ ১১ মার্চ ব্যাংককে আমরা রোজা শুরু করেছি, বাংলাদেশে শুরু হবে ১২ মার্চ থেকে। আমরা মুসাফিররা এখানকার হিসাবে এবং বাংলাদেশে ফিরে সেখানকার নিয়মে রোজা রাখলে শেষে ঈদের দিন নিয়ে সংশয় উপস্থিত হবে। যাই হোক, ব্যাংককের চিকিৎসাব্যবস্থার হালহকিকত বুঝতে গিয়ে মাহে রমজানে সিয়াম সাধনায় স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় অবদানের দিকে দৃষ্টিপাতের লোভ সংবরণ করতে পারলাম না।

সিয়াম সাধনা বা রোজা পালনের দ্বারা সুস্থতাসহ মানুষের যে শারীরিক কল্যাণ সাধিত হয় কায়রো থেকে প্রকাশিত Science Calls for Fasting গ্রন্থে তার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। পাশ্চাত্যের প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, The power and endurance of the body under fasting conditions are remarkable. After a Proper day’s fast, the body is literally born afresh. রোজা একই সাথে দেহে রোগ প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। রোজা পালনের ফলে দেহে রোগ-জীবাণু জীর্ণ অন্ত্রগুলো ধ্বংস হয় এবং ইউরিক এসিড বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। শরীরে ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পেলে নানা প্রকার নার্ভ সংক্রান্ত রোগ বৃদ্ধি পায়। দেহের বেশির ভাগ রোগের সৃষ্টির কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, গৃহীত খাদ্যদ্রব্যের ২৫ শতাংশ বা তার অধিক অংশ অপ্রয়োজনীয়। দেহযন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে টকসিন নামক এক প্রকার রস জাতীয় বিষ সঞ্চিত হয়। বাড়তি খাবার ক্ষেত্রবিশেষে স্বাস্থ্য রক্ষায় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাসব্যাপী রোজা পালনে পরিপাকযন্ত্র যে অবসর পায় তার ফলে দেহের অপ্রয়োজনীয় খাবারের সারাংশ ও সঞ্চিত বিষাক্ত রস নিঃশেষ হয়ে যায়। দেহের বাড়তি ওজন, রস ও চর্বি ইত্যাদি হ্রাস পায়। পাকস্থলী সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ যেমন- ক্ষুধামন্দা, পেটফাঁপা, টক ঢেঁকুর, লিভারে দুর্বলতা, বমি বমি ভাব রোজা পালনে স্বাভাবিকভাবে উপশম হওয়ার সুযোগ পায়। রোজাদারের শরীরে পানির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার ফলে চর্মরোগ বৃদ্ধি পায় না। আধুনিক যুগের চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোজার ব্যবহারিক তাৎপর্য উপলব্ধি করেই জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, হল্যান্ড প্রভৃতি দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে প্রতিবিধান হিসেবে উপবাসের (fasting) পরামর্শ দেয়া হয়। সুফি সাধকদের মতে, হৃদয়ের স্বচ্ছতা অর্জনে স্বল্প খাদ্য গ্রহণের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

কুরআন মাজিদে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘রোজা শেষ করো নিশাগমকালে’। সূর্যাস্তের পর রাত্রি শুরুর প্রাক্কালে গোধূলি লগ্নে রোজা শেষ করার মধ্যে মানসিক, আধ্যাত্মিক এমনকি শারীরিক গূঢ় রহস্য ও তাৎপর্য রয়েছে। রোজা শেষ করা হয় ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, এটি সুন্নত। ইফতারের উপকরণগুলোর মধ্যেও বিশেষ স্বাস্থ্যগত তাৎপর্য রয়েছে। এক ধরনের ঐতিহ্য হিসেবেই ছোলা ইফতারের একটি উপাদান। ছোলার মধ্যে আমিষ, ভিটামিন, শ্বেতসার ও খনিজ লবণের পরিমাণ আশ্চর্যজনকভাবে বেশি। ছোলাতে ১৭.১ শতাংশ আমিষ (তুলনায় গোশতে ১৮.৫ এবং মাছে ২২.৬); ভিটামিন-এ ৩.১৭ (গোশতে মাত্র ৩.১) খনিজ লবণ ২.৭ শতাংশ (গোশতে ১.৩ এবং মাছে ০.৯) এবং শ্বেতসার ৬১.২ শতাংশ। চিনির শরবত ইফতারের আরেকটি উপাদান। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের প্রয়োজনে এই শরবত সহজেই আত্মীকরণযোগ্য এবং তা টনিক হিসেবে কাজ করে। ইফতারের পর সামান্য আহার বিধেয় এই জন্য যে, তা তারাবিহ নামাজ পাঠে বিঘ্ন ঘটায় না এবং সাহরির আগেই হজম হয়ে যায়।

প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী গধপ ঋধফফবহ মনের প্রসারতা ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশেও সিয়াম সাধনার ভূমিকা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ‘রোজার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে কী পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা হলো তার উপর বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ও কর্মক্ষমতা নির্ভর করে না; বরং খাদ্য গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ ও কতিপয় বাধ্যবাধকতার উপরই তা নির্ভরশীল।’ ইমাম গাজ্জালি তার ‘আল মুশতাতরাফ’ গ্রন্থে বুদ্ধি বিকাশে রোজার ভূমিকা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, রোজা পালনের ফলে রোজাদারের মন একাগ্রচিত্ত হয়। ফলে তার মানসিক ঔৎকর্ষ বৃদ্ধি পায়। চিন্তাশক্তির স্বচ্ছ বিকাশে প্রয়োজন মানসিক বিশ্রামের। রোজার সময় ষড়রিপু নিয়ন্ত্রণে থাকে, চিন্তাশক্তির একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক বিশ্রাম সহজতর হয়। ফলে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটে। আহার গ্রহণ এবং জৈবিক শ্রান্তি আনয়ন করে এমন অন্যান্য কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার ফলে মননশীলতা বিকাশের বিশেষ স্বচ্ছ ও সাবলীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বচ্ছ চিন্তাশক্তি বিকশিত হয়। চিন্তা থেকেই কাজের উৎপত্তি। সৎকর্মের ফলে রোজাদারের মুখমণ্ডল ও আচার-আচরণে যে সপ্রতিভ সজীবতা লক্ষ করা যায় তার মধ্যে উন্নত মননশীলতার নিদর্শন নিহিত।

মানবদেহে পরিপাক প্রক্রিয়ায় ও দেহের সুঠাম গঠনে সিয়াম সাধনা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সচরাচর গৃহীত খাদ্যের মধ্যে আমিষ, শ্বেতসার ও স্নেহজাতীয় খাদ্য শরীরে সম্পূর্ণ জীর্ণ হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে শোষিত গ্লুকোজই দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। দেহে যতটা গ্লুকোজ উৎপন্ন হয় তার সবই প্রতিনিয়ত খরচ হয় না। যকৃৎ থেকে কিছু গ্লুকোজ রক্তে প্রবাহিত হয়ে দেহের চালিকাশক্তিকে কর্মক্ষম রাখে। বাকি অংশ গ্লাইকোজেন রূপে যকৃৎ ও মাংসপেশিতে জমা হতে থাকে। কিছু অংশ অবশ্য চর্বিজাতীয় পদার্থে পরিণত হয়ে ত্বকের নিচে ও দেহের অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত হয়। এই সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ও চর্বিজাতীয় পদার্থ রোজার সময় শরীরের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে পুনরায় গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের মধ্যে প্রবাহিত হয়। সেই রূপান্তরিত গ্লুকোজের দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা দ্বিগুণ। রোজা পালনের ফলে নিয়মিতভাবে গ্লাইকোজেন ও চর্বি প্রয়োজনানুযায়ী খরচ হতে থাকে। ফলে সবলতা ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। চর্বি জমতে পারে না। মেদ কমে যায়। কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। লক্ষ করা যায়, রমজান মাসের প্রথম দু-তিন দিন রোজাদার কিছুটা শারীরিক দুর্বলতা বোধ করলেও পরে সে বেশ স্বাভাবিক বোধ করে। এমনকি প্রতিদিন দুপুরের দিকে রোজাদার ব্যক্তি কিছুটা কাহিল হয়ে পড়লেও বিকেলের দিকে ততটা দুর্বলতা বোধ করে না। এর কারণ, সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ও স্নেহজাতীয় পদার্থের যথাসময়ে উপযুক্ত ভূমিকা পালন। রোজা পালনের ফলে শরীরের অভ্যন্তরে দহনক্রিয়া বাড়ে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর তৎপরতা বাড়ে। ফলে দেহের অবসাদ কমে ও কর্মক্ষমতা বাড়ে।

পবিত্র কুরআনে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচর্যার স্বার্থে রোজা পালন থেকে বিরত থাকা বা অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, আবার এ দৃষ্টিতে একজন অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতা বিধানার্থে পানাহারের বিকল্প নয় এমন পর্যায়ের প্রতিষেধক গ্রহণেও সম্মতি রয়েছে। যেমন- রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা, এমনকি প্রয়োজন হলে ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া যেতে পারে। বিজ্ঞ আলেমরা অভিমত দিয়েছেন, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

বিশ্বে এই মুহূর্তে ১.১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন মুসলমান (যা বিশ্ব জনসংখ্যার ১৮-২৫ শতাংশ) বসবাস করে। এই জনসংখ্যার সবল ও সাবালক সদস্যরা রমজানের রোজা রাখে। বিশ্ব ডায়াবেটিক ফেডারেশনের হিসাব মতে, পৃথিবীর জনসংখ্যার ৪.৬ শতাংশ ডায়াবেটিসে ভোগে। ১৩টি ইসলামী দেশে ১২ হাজার ২৪৩ জন ডায়াবেটিক রোগীর উপর পরিচালিত ‘এপিডিমাইওলজি অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড রমজান’ (২০১১) শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগী এবং ৭৯ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগী মাহে রমজানে রোজা রাখে। এই হিসাবে ৪০-৫০ মিলিয়ন মুসলমান ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখে।

সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রোজায় ডায়াবেটিস রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তুলনায় উপকৃত হন বেশি। দেখা গেছে, রোজার সময়টিতে সাহরিতে সর্বশেষ খাদ্য গ্রহণের মোটামুটি আট ঘণ্টা পর শরীর প্রাকৃতিকভাবেই যকৃতে সঞ্চিত গ্লুকোজ ব্যবহার করতে শুরু করে। এমতাবস্থায় গ্লুকোজের মাত্রা কমে এলে চাপ পড়ে সঞ্চিত চর্বির ওপর। এভাবে দেহের সঞ্চিত চর্বি ব্যবহারের ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পেতে থাকে, সেই সাথে কমে বাড়তি ওজনও, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

চিকিৎসকের সাথে পরামর্শক্রমে ওষুধ সেবন এবং ইনসুলিন গ্রহণের সময়সীমা ও মাত্রা পুনর্নির্ধারণ করিয়ে নিয়ে এবং অন্যান্য পরামর্শ সমন্বয় করে একজন ডায়াবেটিস রোগী অনায়াসে রোজা রাখতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যারা রোজা রাখেন তারা বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ করে- ১. রক্তে সুগারের স্বল্পতা বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া; ২. রক্তে সুগারের আধিক্য বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া; ৩. ডায়াবেটিস কিটো এসিডোসিস এবং ৪. পানিশূন্যতা বা ডি-হাইড্রেশনে ভুগতে পারেন। সাধারণত শুধু খাবার আর ব্যায়ামের মাধ্যমে যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেন তাদের রোজা রাখায় কোনো সমস্যা বা ঝুঁকি নেই। যারা মেটফরমিন, গ্লিটাজোনস কিংবা ইনক্রিটিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করেন তাদের হাইপো হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা হলেও থাকে। ওষুধ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে কমিয়ে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগী রোজার আগের চেয়ে রোজার সময় বরং ভালো বোধ করেন, রক্তের শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। শুধু প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে- ১. রোজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাগুলো এবং এর উত্তরণের উপায়সমূহ আগেভাগে জেনে নেয়া; ২. হাইপো না হওয়ার জন্য খাদ্য, ব্যায়াম এবং ওষুধের সমন্বয় করে নেয়া; ৩. প্রয়োজনে দিনে রাতে সুগার পরিমাপ (রোজা রেখে সুগার মাপলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না বলে বিশিষ্ট আলেমদের অভিমত রয়েছে) করে ওষুধ কিংবা ইনসুলিন সমন্বয়ের বিষয়টি রোগী ও রোগীর পরিবারের সবাইকে অবহিত বা অবগত রাখা; ৪. তিন বারের ওষুধ দুই বা একবারে পরিবর্তন করে নেয়া; ৫. রোজা শুরুর কয়েক দিন আগে থেকে দুপুরের ওষুধ রাতে খাওয়া শুরু করা, এবং ৬. রোজা শুরুর আগে নফল রোজা রেখে প্রস্তুতি নেয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের এবং এখানে এই ব্যাংককের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার তুলনামূলক পরীক্ষা পর্যালোচনায় সিয়াম সাধনার সময় উপস্থিত হওয়াকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করি। খোশ আমদেদ মাহে রমজান।

লেখক : ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সাবেক সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান এনবিআর

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD