May 27, 2024, 2:27 am

মহানবী (সা.) চোখে সুরমা ব্যবহারে যেভাবে উৎসাহ দিয়েছেন

যমুনা নিউজ বিডি:  সুরমা এক প্রকার খণিজ পদার্থ। এর মূল উপাদান ‘লিড সালফাইড’। লিড সালফাইড চূর্ণ করেই সুরমা তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে মাস্ক গুঁড়া, জমজম পানি এবং মধু ব্যবহার করে চোখের অনেক রোগ সাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি চোখের নানাবিধ উপকার করে, যেমন- দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, চোখের পাতায় চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চোখ পরিষ্কার রাখে। মহানবী (সা.) সুরমা ব্যবহার করতেন।

নিশ্চয়ই জানেন, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যত্ন নেওয়া মহানবী (সা.)-এর সুন্নাত। মহানবী (সা.) নিজেও তাঁর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যত্ন নিতেন। তার মধ্যে চোখ অন্যতম। এটি মহান আল্লাহর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামত। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এটিকে হিদায়াত, ঈমান গ্রহণ, উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কি তোমাদের চক্ষু দিইনি?’ (সুরা : বালাদ, আয়াত : ৮)

চোখ আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি

চোখ আল্লাহর সূক্ষ্ম কারিগরির একটি নিদর্শন। কোনো বস্তু দেখার জন্য মুহূর্তের মধ্যে আমাদের চোখ ও মস্তিষ্কে কত কিছু ঘটে যায়, সেটা অনুমানের অতীত। আমাদের চোখ ঠিকভাবে কাজ করার জন্য তাতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র পার্টস। আমাদের চোখের গঠন এতটাই জটিল যে সেটা মাঝেমধ্যে কল্পনাকে হার মানায়। চোখের কার্যপদ্ধতি অনেকটা ক্যামেরার পদ্ধতির মতোই।

বলা যায় চোখই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ক্যামেরা। আধুনিক যুগের ক্যামেরার সঙ্গে চোখের তুলনা করতে গেলে দেখা যায়, মানুষের চোখ ৫৭৬ মেগাপিক্সেল। এর ফলে আমরা চোখ দিয়ে প্রায় এক কোটি রং আলাদাভাবে দেখতে পাই। চোখের পাতা কাজ করে ক্যামেরার শাটারের মতো। চোখের ভেতরে আছে স্থিতিস্থাপক লেন্স, যা দর্শনীয় বস্তুকে ফোকাস করে এবং তারপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে একসময় তা আমরা দেখতে পাই। এই প্রক্রিয়াকরণ চলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই।

মহানবী (সা.)-এর চোখে সুরমা ব্যবহার

মহান আল্লাহর এই অমূল্য নিয়ামতের পরিচর্যা করা সবার দায়িত্ব। মহানবী (সা.) তাঁর চোখের যত্ন নিতেন। তিনি নিয়মিত চোখে সুরমা ব্যবহার করতেন। বিভিন্ন হাদিসে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর চোখে সুরমা ব্যবহারের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) আরো বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রত্যেক রাতে (ঘুমানোর আগে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবর লিল ইমাম বাইহাকী , হাদিস : ৮৫১৬)

চোখে সুরমা ব্যবহারে উৎসাহ

চোখের যত্নে তিনি সুরমাকে এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে সাহাবায়ে কেরামকে তিনি তা ব্যবহারে উৎসাহ দিতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও। কেননা তা তোমাদের উত্তম পোশাক। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ‘ইসমিদ’ সুরমা। কারণ তা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের পাপড়ি গজায়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৭৮)

চোখের পাপড়ি যেভাবে সুরক্ষা দেয়

চোখের পাপড়ি মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, ধুলা-দূষণ ও বাতাস থেকে আমাদের চোখের সুরক্ষায় ঢাল হিসেবেও কাজ করে। অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ ও মানুষের মুখভঙ্গি বুঝতেও চোখের পাপড়ির প্রভাব রয়েছে। জার্নাল দ্য রয়াল সোসাইটি ইন্টারফেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন মতে, বাতাসে মিশে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা, সংক্রামক জীবাণু, অণুজীব ছাঁকার কাজ করে চোখের পাপড়ি। এরপর ছাঁকনকৃত বাতাস চোখের ভেতর প্রবাহিত হতে সাহায্য করে। এছাড়া অক্ষিগোলকে মিউকাস, তেল ও পানির সংমিশ্রণে যে তরল প্রলেপ থাকে, সেটা শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে চোখের পাপড়ি। ফলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

সুরমা নিয়ে ভুল ধারণা

প্রসঙ্গত, অনেকের ধারণা সুরমা তুর পাহাড়ে পাওয়া যায়। হজরত মুসা (আ.) যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখতে চেয়েছিলেন তখন আল্লাহর তাজাল্লিতে পাহাড় ভস্ম হয়ে গিয়েছিল। সেই ভস্মীভূত পাহাড় থেকেই সুরমার উৎপত্তি ও ব্যবহার—এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

সুরমা একটি খণিজ দ্রব্য। এর সঙ্গে তুর পাহাড়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়, অ্যান্টিমনি। অ্যান্টিমনি হলো একটি মৌলিক পদার্থ। এটি একটি চকচকে ধূসর ধাতুকল্প, এটি প্রকৃতিতে মূলত সালফাইড খনিজ স্টিবনেট হিসেবে পাওয়া যায়। অ্যান্টিমনি যৌগগুলো প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত ছিল এবং গুঁড়া করে চিকিৎসাক্ষেত্রে ও প্রসাধনীতে ব্যবহার করা হতো। এটিকে প্রায়ই আরবি কাজল নামে ডাকা হতো।

তাই আমাদের উচিত চোখের যত্নে মহানবী (সা.)-এর এই সুন্নাতটি পালন করা। এতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিও পাওয়া যায় এবং চোখের সুরক্ষাও পাওয়া যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD