June 15, 2024, 1:40 am

খালেদা জিয়াকে বাসায় স্থানান্তর

যমুনা নিউজ বিডিঃ করোনাভাইরাসের ঝুঁকির কারণেই এখন শারীরিকভাবে স্থিতিশীল খালেদা জিয়াকে বাসায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। ঢাকার বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এর আগে হাসপাতালের মিলনায়তনে খালেদার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার তার বাসায় ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, বাসায় স্থানান্তর করা হলেও খালেদা জিয়া এখনও অসুস্থ। তাকে যে অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল সেই অবস্থা থেকে তিনি এখন স্থিতিশীল। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তেই তাকে আপাতত বাসায় নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের নতুন যেসব জটিলতা তৈরি হচ্ছে সেগুলোই এখন বড় চ্যালঞ্জিং। খবর বিডিনিউজের।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বুকে ব্যথা নিয়ে গত ১০ জুন গভীর রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে এনজিওগ্রাম করে তার হৃদযন্ত্রে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। একটি ব্লক অপসারণ করা হলেও খালেদার হৃদপিণ্ডে আরও দুটি ব্লক ধরা পড়ার কথা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ওই হাসপাতালে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর।

শুক্রবার খালেদার হাসপাতাল ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির জন্য কোভিড বাড়তেছে, উনাতে এখানে রাখতে চাচ্ছি না। কারণ কোভিড প্লাস ইনফেকশন ইজ এ চান্স। এসব কারণে তার যদি এগুলো হয়… তাকে আবার ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে নিয়ে চলে যাবে। সেজন্য আমরা পূর্নাঙ্গ মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তাকে আপাতত বাসায় নেয়া হোক। পরে যদি কোনো কমপ্লিকেশন হয় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

বাসায় থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসনকে পুরোদমে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বাকি দুটো ব্লক অপসারণ না করার কারণও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আরও যে দুটো ব্লক রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক গাইডলাইন হচ্ছে যে, যেই রক্তনালীর ব্লকের জন্য তার সমস্যা হচ্ছে ওটা করে চলে আসো। ডু ইট অ্যান্ড কামঅন অ্যান্ড সেইভ দ্য পেসেন্ট। আমরা ওটা করেছি।

এখন দ্বিতীয়টা করি, তৃতীয়টা করি- কোনো কোনো পেসেন্টের করা হয় যেসব পেসেন্ট শকে থাকে। যারা দেখতেছে তারা মরে যাবে যদি না করি অথবা রক্তনালীগুলো বড় থাকে, যাদের কোনো কমপ্লিকেশন নাই, যাদের লিভার ডিজিস নাই, কিডনি ডিজিস নাই, চান্স অব হার্ট ফেলিউর নাই-তখন আমরা করে আসি। আদারওয়াইজ আমাদের সেকেন্ড-থার্ড করার কোনো নিয়ম নাই। কারণ আপনি দেখেন উনার (খালেদা) একটা ব্লক অপসারণ করতে গিয়ে তার কিন্তু কিডনি সাটডাউন হয়েছে, হার্ট ফেইলিউর হয়েছে। ওই দুইটা যদি করতাম তার কিডনি টোটাল সাটডাউন হত। সেজন্য আমরা ওই দুইটা ব্লক অপসারণ করিনি।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকী বলেন, ম্যাডামের অনেক জটিল অসুস্থতা আছে। উনার রেনাল ফেইলিউর, উনার বিল্ডিংয়ের চান্স, উনার যে সিরোসিস অব লিভার সেটা কিন্তু রয়ে গেছে। সেটার কোনো চিকিৎসা হয় না। আমরা শুধু উনার বিল্ডিং স্পটগুলোকে লাইগেশন করে দিয়ে বন্ধ করে রেখেছি। সেগুলোর কি অবস্থায় গত ৬ মাসে আমরা কিন্তু ফলোআপ করতে পারিনি। এখন এই কার্ডিয়াক কন্ডিশনের জন্য উনার ফলোআপ করাটা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা যা করার করছি। আল্লাহর অশেষ রহমত, আমরা সামহাউ আমাদের সিদ্ধান্তগুলো এখন পর্যন্ত অলনাইট আপটু হার সারভাইভেল।

খালেদা জিয়ার সব জটিলতা কাটাতে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি আবারও উন্নত দেশের উন্নত সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিতসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এটা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং উনার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ, ডা. মো. জাফর ইকবাল ও ডা. আল মামুন এবং হাসপাতালের মেডিকেল প্রমোশন বিভাগের প্রধান বিনয় কাউল উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD