May 27, 2024, 4:30 am

সরকার যে কোনো মুহূর্তে বিদায় নিতে বাধ্য হবে: মঈন খান

যমুনা নিউজ বিডি: ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার পরাজিত হয়েছে—এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, তাদের (সরকার) পায়ের নিচে মাটি নেই। অনেকে বলে, এই সরকার কি আরও পাঁচ বছর থাকবে? তখন বলি, স্বৈরাচার এরশাদ চলে যাওয়ার আগেও কি কেউ জেনেছিল তিনি চলে যাবেন? তিনিও গেছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকীর স্মরণে রোববার (২১ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

১৯৩৬ সালে ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ী গ্রামে জন্ম নেন জিয়াউর রহমান, যিনি সামরিক বাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। ক্ষমতায় থেকেই গঠন করেন বিএনপি।

মঈন খান বলেন, ‘‘আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন এই সরকার কি আরও পাঁচ বছর থাকবে? আমি তাদের উত্তরে বলি, ১৯৯০ সালের যেদিন এরশাদ সরকার এদেশ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তার একদিন আগেও কি সেই সরকার জানত যে, এভাবে তাদের চলে যেতে হবে? জানত না।

“আজকে আওয়ামী লীগ শূন্যের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। যে কোনো মুহূর্তে এই সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হবে।…সরকার যদি মনে করে যে তারা চিরদিনের জন্য ক্ষমতা পেয়ে গেছে, তাহলে কিন্তু তারা মারাত্মক ভুল করবে।”

নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা অনেক রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরো দিতে হবে। আমরা রাজপথে আন্দোলনে রয়েছি, আমাদের রাজপথে আন্দোলনে থাকতে হবে। তবে এই আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপ্রিয় এবং নিয়মতান্ত্রিক।”

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে ড. মঈন খান আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন ক্ষমতায় জন্য নয়, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলনে বিশ্বাস করে না। বিএনপি জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করে। আমরা আন্দোলনে আছি জনগণের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। তাদের ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, তাদের অর্থনৈতিক, মানবাধিকার ও সাম্যের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, সরকার কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়, বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে, এই রাষ্ট্র কোন রাজনৈতিক দলের নয়, এই রাষ্ট্রের মালিক হচ্ছে জনগণ।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি করে তারা না কি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, ভালো কথা। তারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, তাদের কাছে এদেশের মানুষ অনেক কিছু প্রত্যাশা করেছিলো।

কিন্তু তাদের ভূমিকা কী ছিল সেটা সবার জানা। সেদিন আওয়ামী লীগ দায়িত্ব পালন করেনি। সবাই পলায়ন করেছিল। মিথ্যাচার দিয়ে একটি দেশের নেতা হওয়া যায় না, রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।

মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD