May 27, 2024, 3:02 am

নন্দীগ্রামে বাজারে সবজির দামে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ

নন্দীগ্রাম থেকে আব্দুর রউফ উজ্জলঃ বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে এই ভরা মৌসুমে শাক সবজির দাম লাগামহীন ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছে। যার কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। আর বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। দৈনন্দিন বাজারে তাদের গুণতে হচ্ছে উচ্চ মূল্য। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের অবস্থা আরো করুন হয়ে উঠেছে। একদিকে চালের দাম বেশি অন্য দিকে সবজির বাজারে আগুন। আর এতে করে খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে। এদিকে উপজেলার চাকলমা, হাটকড়ই, বীজরুল, শিমলা, কুন্দার, নন্দীগ্রাম সদর, ওমরপুর, রনবাঘা, পন্ডিতপুকুর , দাসগ্রাম সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে এলাকার উৎপাদিত শাক সবজি বাজারে তেমন দেখা যাচ্ছে না। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে মরিচসহ উৎপাদিত বিভিন্ন শাক-সবজি। বাহির থেকে ও তেমন একটা আমদানি নেই যার কারণে বাজার ব্যাপক উর্ধ্বগতি। বর্তমান বাজারে আলু ৫৫ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, বই কচু ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৯০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ টাকা, শঁসা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, কাঁচা কলা ৫০টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, লাল শাক ৩০ টাকা, পুই শাক ২৫ টাকা, তরি ৮০ টাকা, কদর ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, বই কচু ৭০ টাকা, ঢেড়স ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। যে সকল গ্রামে শাক সবজি কৃষকরা নিজে উৎপাদন করে তাদের মধ্যে, বাদলাশন গ্রামের কৃষক জামিল, রেজাউল, কাথম গ্রামের রশিদ, রফিকুল, ছায়েত আলী, বুড়ইল গ্রামের রবিদ্র, যতিশ, রিধইল গ্রামের বাবুল জানান, তারা বাড়ির পাশের ভিটেতে বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি আবাদ করেছে কিন্তু একটানা বর্ষা থাকার কারণে শাক সবজি সহ বেগুন, শিম, কাঁচা মরিচ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। নন্দীগ্রাম বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, তারা যেসব জায়গা থেকে কাঁচা সবজি পাইকারি দরে ক্রয় করে এনে এখানে খুচরা বিক্রয় করত সম্প্রতি সেসব এলাকায় বন্যা ও কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে সেসব গাছ পঁচে মরে গেছে। ফলে তারা তাদের চাহিদা মত সবজি ক্রয় করতে পারছে না। যতটুকু কিনতে পারছে সে গুলোও কিনতে হচ্ছে চড়া মূল্যে। আর তাই পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে তার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে চাষীরা নতুন সবজি উৎপাদন করলে সবজির দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে মঙ্গলবারে হাট করতে আসা হাবিব, জয়নাল, মান্নান, আকবর, রাজু বলেন- বর্তমানে আমরা যে টাকা রোজগার করি সেই টাকা দিয়ে হাট বাজার করতে এসে কাঁচা শাক-সবজির ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছি।এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক জানান, রোপনকৃত শাক সবজি এক টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এই উপজেলার কৃষকরা আবারো নতুন করে শাক সবজি রোপন করেছে সেগুলো বাজারে আসলে দাম অনেকটাই কমে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD