May 24, 2024, 6:56 am

সেই যমজ মুসা-মাইশার ঠাঁই হলো খুলনার ছোট মণি নিবাসে

যশোর প্রতিনিধিঃ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দুই ঠিকানায় পাঠানো হলো বাবার পরিচয় না পাওয়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে থাকা যমজ দুই সন্তান ও তাদের মানসিক ভানসাম্যহীন মাকে। যমজ দুই সন্তানকে পাঠানো হলো খুলনার ছোট মণি নিবাসে আর তাদের মাকে ঢাকার কাশিমপুর সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে আলাদা দু’টি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদেরকে সরকারি দুই আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। গাড়িতে ওঠার আগে যমজ দুটি শিশুকে পরানো হয় গোলাপি রঙের নতুন জামা। আর ভারসাম্যহীন তাদের মাকে পরানো হয় লাল-সবুজের প্রিন্ট শাড়ি।

এদিকে আইনি জটিলতায় নবজাতকদের এতদিন নাম রাখা না গেলেও হাসপাতাল ছাড়ার আগে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জমজ দুই শিশুর নাম রাখা হয় মোহাম্মদ মুসা ও মোছাম্মৎ মাইশা।

বিদায় জানান যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধাযক ডা. হারুণ অর রশিদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইয়াকুব আলী মোল্লা, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা অফিসার রুবেল হাওলাদার। পরে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদারও তাদেরকে বিদায় জানান।

মা মোছা. মাহিনুরকে গাজীপুরের কাশিমপুর সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাত্রা করেন জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকতা মুনা আফরিণ এবং শিশু মোহাম্মদ মুসা ও মোছা. মাইশাকে নিয়ে খুলনার ছোটমনি নিবাসের উদ্দেশে যাত্রা করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের চাইল্ড প্রটেকশন কর্মকর্তা খালেদা আক্তার।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন মা ও তার দুই সন্তানকে পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসা ও দেখাশোনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশনায় জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মা ও দুই সন্তানকে দু’টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। রাষ্ট্র তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।

যশোর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হারুণ অর রশিদ বলেন, মা ও দুই নবজাতক হাসপাতালে আসার পর আমরা সব ধরণের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছি এবং দেখাশোনা করেছি। সন্তান দু’টি তাদের মায়ের কাছে নিরাপদ নয়। যখনই শিশুদুটিকে মায়ের কোলে দেওয়া হয়, তখনই মা তাদের ফেলে দিচ্ছেন। মা ও দুই সন্তানকে এখন সরকারি দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রেরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকতা মুনা আফরিণ বলেন, তিনি মা মাহিনুরকে নিয়ে কাশিমপুর সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ও দুই নবজাতকের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার বিষয়ে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডকে দায়িত্ব দেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নতুন গ্রামের জামিরুল ইসলামের পরিত্যক্ষ ঘরে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী জমজ সন্তান প্রসব করেন। পরে গৃহকর্তা জামিরুল ওই নারীকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় তাদেরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে মা ও দুই নবজাতক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালে ভর্তির সময় ওই নারীর পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ( পিবিআই) যশোর ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে। ওই নারীর নাম মোসাম্মৎ মাহিনুর। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের চান্দু মিয়ার মেয়ে। পিবিআই কর্মকর্তারা মাহিনুরের মা ও ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা মাহিনুর ও তার সন্তানদের নিতে রাজি হয়নি। এই অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের তত্ত্ববধায়ন করেন। সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুইজন নারী আনসার সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD