February 25, 2024, 8:13 am

বিশ্বকাপ ট্রফির ছোঁয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা রোমাঞ্চিত

যমুনা নিউজ বিডিঃ ‘তাড়াতাড়ি তোলেন ভাই’- কাছে থাকা পরিচিত এক ফটোগ্রাফারকে বললেন তাসকিন আহমেদ। বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলে ফিটনেস ট্রেনিংয়ে যোগ দেওয়ার তাড়া তারকা পেসারের। তবে ড্রেসিং রুম থেকে যখন ট্রফি নিয়ে বের হলেন মুশফিকুর রহিম, তখন যেন হাতে অফুরান সময়। হেলেদুলে মঞ্চে এসে তিনি ট্রফি রাখলেন পোডিয়ামে। সেই ট্রফি কাছে পেয়ে শামীম হোসেনের ব্যস্ততা যেন আর থামে না! বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিন বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আসা হয় মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। মঙ্গলবার সকালে অনুশীলন শুরুর আগে ট্রফির সঙ্গে দলীয় ফটোসেশন সেরে নেন জাতীয় ক্রিকেটাররা। পরে আলাদাভাবে ছবি তোলেন শামীম, তাসকিনসহ আরও কয়েকজন। শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের সামনে তৈরি করা মঞ্চে আগেই অবস্থান নেন ফিটনেস ক্যাম্পে থাকা ক্রিকেটাররা। কিছুক্ষণ পর ১১ কেজি ওজনের সোনালি ট্রফিটি দুই হাতে কোলে নেওয়ার মতো করে ড্রেসিং রুম থেকে নিয়ে আসেন মুশফিক। ট্রফি বহনের দৃশ্য ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন আইসিসির কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা। মুশফিকের মুখের চওড়া হাসি যেন আরও বাড়িয়ে দেয় ট্রফির উজ্জ্বলতা। ক্রিকেটাররা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন ট্রফির সঙ্গে। সহকারী কোচ নিক পোথাস ও ট্রেনার নিক লিও ছিলেন মঞ্চে। ছবি তোলা পর্ব শেষে অনুশীলনে যোগ দিতে চলে যান ক্রিকেটাররা। তবে মঞ্চেই রয়ে যান তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের তিন সদস্য শামীম, তানজিদ হাসান তামিম, তানজিম হাসান সাকিব। তারা আলাদা করে ছবি তোলেন ট্রফির সঙ্গে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ট্রফিতে কিছু একটা দেখেন তাসকিন। শামীম চুমু এঁকে দেন ট্রফিতে। সেই ছবি ধারণ করেন নিজের মোবাইল ফোনে। যুব বিশ্বকাপ জয়ের পরের ট্রফিতে চুমু দেওয়া ছবির সঙ্গে এই ছবি কোলাজ করে নিজের ফেইসবুক পাতায় পোস্ট করে শামীম লেখেন, ‘হাজারবার এটির পুনরাবৃত্তি করতে ভালোবাসি। কোনো একদিন, ইনশাল্লাহ!’ এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব। একে একে মুশফিক, তাসকিন ও স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ আইসিসির কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের করা প্রশ্নের উত্তর দেন। অভিজ্ঞতার ভেলায় বাংলাদেশ অনেক দূর যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুশফিক। আর তাসকিন বলেন, ‘দলীয় চেষ্টা, আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের’ মিশেলে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। মঞ্চের কাজ শেষে ট্রফি নেওয়া হয় মাঝমাঠে। সেখানে কিছুক্ষণ ধরে চলে ফটোসেশন। পরে মাঠকর্মীদেরও দেওয়া হয় ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ। প্রায় ঘণ্টাখানেকের এই পর্বের সমাপ্তির পর ট্রফি আনা হয় শের-ই বাংলার মিডিয়া প্লাজায়। শুরুতেই ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয় বিকেএসপির ছাত্রদের। সকাল থেকে অপেক্ষায় থেকে শেষ পর্যন্ত ট্রফি দেখা ও ছবি তোলার সময় তাদের চোখে-মুখে দেখা যায় রোমাঞ্চের আভা। বিকেএসপির এই দলে ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের ভাইয়ের ছেলে তানজিদ আহমেদ। ছবি তোলার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি, ‘খুব ভালো লাগছে। ট্রফি দেখার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা ধরে করছি, অবশেষে দেখলাম। ইনশাল্লাহ আবার দেখব। যখন বাংলাদেশ ট্রফিটা জিতে নিয়ে আসবে।’ এরপর চলে সংবাদকর্মীদের ছবি তোলার পালা। এর মাঝেই আসেন ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া হাবিবুল বাশার। কাঁচ ঘেরা বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার পর বিশ্বকাপ ট্রফিটি সরাসরি ছুঁয়ে দেখার মনোবাসনা প্রকাশ করেন তিনি। “বিশ্বকাপ খেলাটাই আসলে বিশেষ কিছু। প্রতিটা বিশ্বকাপ আশা নিয়ে আসে। দিন দিন আশা বাড়ছে। আমরা যখন প্রথম শুরু করেছিলাম… আর এবারের বিশ্বকাপটা আবার শুরু করছি। আশা প্রতিবার পরিবর্তন হচ্ছে, আর এবারের আশাটা শুধু আমার নয়, আমার মনে হয় আশাটা সবারই একটু বেশি।” “গত দুই বছর ধরে এই সংস্করণে খুব ভালো খেলছি আমরা। ট্রফিটা ছুঁতে পেরে খুব ভালো লাগছে, একটা স্বপ্ন তো থাকেই। যদি খোলা ট্রফিটা ধরতে পারি জেতার পরে, তাহলে আরও ভালো লাগবে। একটু রোমাঞ্চ অনুভব করছি, আমাদের জন্য বিশ্বকাপ মনে হচ্ছে শুরু হয়ে গেলো।” কিছুক্ষণ পর ছবি তুলতে আসেন শিহাব জেমস, পারভেজ রহমান জীবনসহ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কয়েকজন সদস্য। তাদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তোলেন দুই সাবেক ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার ও আতহার আলি খান। পরে সংবাদমাধ্যমে আতহার বলেন, এবার তিনি ভালো কিছুর আশা করছেন জাতীয় দলের কাছ থেকে। অনুশীলন ক্যাম্পে রিপোর্টিংয়ের জন্য সকালে মিরপুরের বিসিবি একাডেমিতে আসেন নারী দলের ক্রিকেটাররা। বেলা ১২টার কিছুক্ষণ আগে তারাও আসেন ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলতে। পরে দলের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। “আগে কখনও সামনাসামনি ট্রফি দেখার সুযোগ হয়নি। ধন্যবাদ বিসিবি ও আমাদের নারী বিভাগকে, আমাদের এ সুযোগটা দেওয়ার জন্য। এখান অনেক তরুণ খেলোয়াড় ছিল, তাদের জন্য আসলে স্বপ্নের মতো ছিল বিশ্বকাপ ট্রফিকে সামনে থেকে দেখা।” “বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রত্যাশা… খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সবারই অনেক বেশি। এ ছাড়া জনগণেরও অনেক বেশি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমার মনে হয়, সেরা দলটাই বোধহয় এবার। তরুণ খেলোয়াড়রা খুব ভালো ছন্দে আছে এবং এই সংস্করণে আমরা খুব ভালো খেলি। তাদের কাছ থেকে আমরা তো সেরাটাই আশা করব।” নারী ক্রিকেটাররা ছবি তোলা পর্ব শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষণ পরই মিডিয়া প্লাজা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রফি। এরপর লম্বা সময় ট্রফিটি রাখা হয় প্রেসিডেন্ট’স বক্সের সামনে। সেখানে বোর্ড পরিচালক ও অন্যান্য কর্তাব্যক্তিরা ছবি তোলেন। বাংলাদেশ সফরের শেষ দিন ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাবেন আগ্রহী জনসাধারণ। রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে বুধবার বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলতে পারবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তিন দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ ট্রফিটি চলে যাবে কুয়েতে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই মাসে ১৯টি দেশ ঘুরবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের এই ট্রফি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর শুরু হবে আগামী ৫ অক্টোবর। প্রথম ম্যাচে আহমেদাবাদে মুখোমুখি হবে গত আসরে ফাইনাল খেলা দুই দল ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ড। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধর্মশালায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD