December 6, 2022, 10:26 am

বগুড়ায় সরকারি কর্মচারীদের ৭ দফা দাবি আদায়ে মানববন্ধন

সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পে-কমিশন গঠন, অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য মহার্ঘ ভাতা প্রদানসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে বগুড়ায় মানববন্ধন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের সাতমাথায় বাংলাদেশ কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ জেলা শাখা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সংগঠনের জেলা শাখার সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাােখন সংগঠনের জেলা সমন্বয়ক জুলফিকার আলী প্রাং, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর মোস্তবা আল আমীন, বাংলাদেশ সমাজসেবা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের উপদেষ্টা আলমগীর হোসেন, বাকাসস বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুল আলম, বাংলাদেশ পোষ্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আলী, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী পরিষদ (১৭-২০ গ্রেড) জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ছাইফুল ইসলাম তালুকদার।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমাজ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রয়েলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ জেলার কো-সমন্বয়ক আব্দুল মান্নান। এসময় আরো  বক্তব্য রাখেন ফজলুর রহমান, আব্দুল গোফ্ফার, জিল্লুর রহমান, টিপু সুলতান, মেহেদী হাসান, আব্দুস সাত্তার, ফজলুল হক, রেজাউল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল হান্নান, সেলিম হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মোস্তফা, শহিদুল ইসলামসহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-১. জাতীয় স্থায়ী বেতন কমিশন গঠনপূর্বক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৭৩ সালের ১০ ধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের পার্থক্য ১ঃ৫ হতে হবে। পূর্বের ১০০% পেনশন প্রথা পুনঃবহল করতে হবে। ২. এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি চালুসহ সচিবালয়ের ন্যায় সচিবালয়ের বাহিরে সরকারি কর্মচারীদের পদ ও বেতন বৈষম্য দুর করতে হবে ও ব্লক পোষ্টদারীদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ৩. আউটসোসিং পদ্ধতি বাতিলপূর্বক উক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। বিভিন্ন দপ্তর/প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন খাতে কর্মরত কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। ডাক বিভাগের প্রার্থী প্রথা চালুসহ মাস্টাররোল ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মরত মাস্টার রোল, কন্টিজেন্স ও ওয়ার্কচার্জ কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। ৪. সরকারি কর্মচারীদের পূর্বের ন্যায় ৩টি টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও বেতন সমতাকরণ পূর্ন:বহাল করতে হবে। জীবন যাত্রার মান সমুন্নত রাখার স্বার্থে ও টাকার অবমূল্যয়নের কারণে এবং দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির বিষয় বিবেচনা করে পেনশনের হার ৯০% থেকে ১০০% ও গ্রাইচ্যুটির হার ১ টাকায় ২৩০টাকার স্থলে ৪০০ টাকায় উন্নীতকরণ করতে হবে। ৫. ৯ম পে-স্কেল প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধোগতির বিষয় বিবেচনা করে ৫০% মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে দিতে হবে। ৬. প্রশানস ক্যাডারে কর্মরত কর্মচারীদের ন্যায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বিনা সুদে ৩০ লক্ষ টাকা থেকে ৫০ লক্ষ টাকা গৃহনির্মান ঋণ দিতে হবে ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের যোগদানের দিন থেকে সিনিয়রিটি পাওয়ার জন্য করা রিট মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে জারিকৃত আদেশ অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ৭. চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর এবং অবসর গ্রহনের বয়সসীমা ৬২ বছর করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ন্যায় অন্যান্য সকল দপ্তরে পোষ্য কোটা চালু করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD