August 13, 2022, 2:38 pm

বগুড়ায় শিক্ষা উপবৃত্তি ও উপকরণের টাকা তুলতে ভোগান্তিতে অভিভাবকরা

স্টাফ রিপোর্টার : নগদের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ কেনার টাকা উত্তোলনে ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন অভিভাবকেরা। এক সপ্তাহ আগে নগদ এ্যাকাউন্টে টাকা এলেও অনেকে তা উত্তোলন করতে পারেননি। নগদ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে উত্তোলন করতে গেলে অধিকাংশ অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের পূর্বের পিন দিলে did not pin match লেখা দেখাচ্ছে।

বগুড়ায় শিক্ষক ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপকরণ কেনার জন্য ১ হাজার টাকা নগদের মাধ্যমে বিতরণ করে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প। কিন্তু মোবাইলে কোন ম্যাসেজ আসেনি। স্কুল থেকে বলা হয়েছে বোমাইলে টাকা এসেছে মোবাইলে খোলা নগদ একাউন্টে টাকা এসেছে। যত তাড়াতাড়ি টাকা উত্তোলনের জন্য অভিভাবকদের বলা হয়। কিন্তু নগদ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে উত্তোলন করতে গেলে অধিকাংশ অভিভাবকের এ্যাকাউন্টের পূর্বের পিন did not pin match লেখা দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে সাহায্যের জন্য নগদের ১৬১৬৭ হেল্প নম্বরে ফোন দিয়েও নম্বরটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘নেটওয়ার্ক বিজি’ বা ‘নম্বর বিজি’ পাচ্ছেন। কখনো কখনো কল রিসিভ হলেও কল সেন্টার থেকে বলা হচ্ছে ‘আমাদের সকল কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি এই মুহূর্তে ব্যস্ত আছেন। আপনার কলটি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অল্প কিছুণের মধ্যেই একজন কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি আপনার কলটি রিসিভ করবেন। এভাবে দীর্ঘ সময় অপো করেও সার্ভিস প্রতিনিধির নাগাল না পেয়েই কল কেটে যাচ্ছে। আবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবক নগদ একাউন্ট সম্পর্কে কিছু জানে না। তারা এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে গিয়ে ভীড় করছে। এজেন্ট কর্তৃপক্ষ উপকারভোগীদের মোবাইল নম্বরসহ এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করে নগদের ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে পাঠালেও সেখানে সময় লাগছে প্রায় ৫/৬ দিন। অথবা বগুড়া প্রধান ডাকঘর অফিসে স্থাপিত নগদ অফিসে গিয়ে মোবাইল নম্বরসহ এনআইডি কার্ড জমা দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে জমা দিতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। তারপরও রয়েছে অভিভাবকদের যাতায়াত খরচ। ফলে অভিভাবকরা হয়রানিসহ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক জন প্রধান শিক্ষক জানান, পিন জটিলতার কারণে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে অভিভাবকেরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে, গত ১৩ জুন ১৫ দিনের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা ক্যাশ আউট করাসহ চারটি নির্দেশনা দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একটি নির্দেশনা জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প-৩য় পর্যায়ের আওতায় গত ২০২০-২১ অর্থবছরের উপবৃত্তি ও কিটস অ্যালাউন্সের অবিতরণকৃত ৮৬৪ কোটি ২০ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। চার নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টটি (যেটি ২০২০-২১ অর্থবছরে খোলা হয়েছিল) সচল এবং পিন রিসেট করে গোপন রাখতে হবে, অ্যাকাউন্ড হোল্ডার বা সুবিধাভোগী কোনো অবস্থায়ই তার পিন নম্বর অন্যের সঙ্গে শেয়ার করবেন না, অভিভাবক তার ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট নম্বরের মোবাইলটি নিজের কাছে রাখবেন এবং এসএমএস দেখবেন, সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে অবশ্যই টাকা ক্যাশ আউট করবেন। সুবিধাভোগীর মোবাইল অথবা সিমকার্ড হারিয়ে গেলে বা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করে সিম কার্ড পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগে জানাতে হবে। যেকোনো সমস্যায় অভিভাবক বা সুবিধাভোগী সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD