সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

নন্দীগ্রামে সেই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নামে মামলা

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কোষাশ উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সেই সভাপতি শামিম হোসেন লিটনসহ ৩ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘুষি মেরে প্রধান শিক্ষকের দাঁত ভেঙে ফেলা অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছে প্রধান শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া সাতমাথায় বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ বগুড়া শাখার আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাজ্জাদুল ইসলাম দুদুর স্ত্রী ও একই উপজেলার কোষাশ উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে কোষাশ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং হয়। মিটিংয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামিম হোসেন লিটন ৪ জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে নোটিশ খাতা ছিড়ে ফেলেন। তিনি মিটিং না করেই বিদ্যালয় থেকে চলে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় আমার স্বামী ভরতেতুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল ইসলাম দুদু কুমিড়াপন্ডিত পুকুর বাজারে যান। ওই বাজারে কোষাশ উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামিম হোসেন লিটনের কাপড়ের দোকান আছে। আমার স্বামী তার দোকানে গিয়ে নোটিশ খাতা ছিড়ে ফেলার কারণ জানতে চায়। এনিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায় শামিম হোসেন লিটন আমার স্বামীকে মারধর করে এবং মুখে ঘুষি দিলে তার সামনের তিনটি দাঁত পড়ে যায়।

এঘটনায় গত শনিবার নন্দীগ্রাম থানায় ভরতেতুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল ইসলাম দুদু বাদী হয়ে কোষাশ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছে।

এদিকে ঘুষি মেরে প্রধান শিক্ষকের দাঁত ভেঙে ফেলা অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শাস্তির দাবিতে বগুড়া সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে প্রধান শিক্ষকরা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ বগুড়া শাখার আহ্বায়ক ভূপাল চন্দ্র প্রামাণিক, সদস্য সচিব ফরিদুল ইসলাম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন একজন শিক্ষককে শারীরিক নির্যাতন কোনভাবে কাম্য নয়। হীনমন্য ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। এ হীনমন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একইসঙ্গে অপরাধীকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দেয়ার দাবি করছি। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এবিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com