রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৩ অপরাহ্ন

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তৃণমূলকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি

যমুনা নিউজ বিডিঃ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছে বিএনপি। তিন দিনব্যাপী চলা বৈঠকে নেতাদের মতামতের বিষয়ে শনিবার বৈঠকে বসে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে আগামী ২১, ২২, ২৩শে সেপ্টেম্বর নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের সঙ্গে

বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেয়া হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড। এ ছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন দলটির নেতারা।

বিএনপি’র দলীয় সূত্রে জানা যায়, মূলত দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে মতামত নিতেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছে বিএনপি। ইতিমধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তাদের মতামত দিয়েছেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনের কর্মপন্থা এখনই চূড়ান্ত করছে না বিএনপি।

এদিকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের শীর্ষ নেতা ও তৃণমূল নেতাদের মতামত পেতে ১০-১২টি আলোচনার বিষয়ও ঠিক করেছেন।

বৈঠকের ভাবনার বিষয়ে জানতে চেয়ে বেশ কয়েকজন তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় মানবজমিন-এর। তারা জানান, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এমনিতেই হতাশার শেষ নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে, এর ওপর আবার হাইকমান্ড কোনো যুৎসই সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বা সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেনি। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই স্থবির ছিল। এতদিন পর তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বিএনপি’র হাইকমান্ডের বৈঠকে দলের মধ্যে অনেকটাই প্রাণের সঞ্চার করেছে। এতে করে কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে যে একটা গ্যাপ রয়েছে সেটা পূরণ হবে এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন- সংগ্রামে নেতাকর্মীরা আরও সক্রিয় থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতারা।

দলের নীতিনির্ধারকদের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবিতে দেশের বিরোধী সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জোটগত এবং যুগপৎ আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি। আন্দোলনে নামার আগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে ঢেলে সাজানোরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিরিজ বৈঠকে দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, কোনো কারণে আন্দোলন-সংগ্রামে না থাকতে পারলে পদ ছেড়ে দিতে হবে। কেউই পদ ধরে রাখতে পারবে না।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, বৈঠকে সব নেতারা বলেছেন, নির্বাচনের মাঠে নামার আগে আন্দোলনের বিকল্প নেই। বৈঠকে প্রায় সবাই বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে দলের কৌশল কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন, সেসব বৈঠকে শীর্ষ নেতারা জানার চেষ্টা করছেন।

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের বিষয়ে যা বললেন ফখরুল: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে রোববার বিকালে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা জানেন বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। তিনি যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তখনো পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য একটা আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটা দেয়নি। এবারো সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বিদেশ যেতে পারবেন না বলে একটা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। মূল বিষয় হচ্ছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা (সরকার) এত বেশি ভয় পান এজন্য তাকে দেশের বাইরে যাওয়া অথবা মুক্ত করার বিষয়টা ভাবতেই পারেন না। চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন বলছিল বেগম জিয়ার উন্নত ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন তখনো সরকার অনুমতি দেয়নি। তাকে আটকে রেখেছিল।

সারা দেশের কমিটি নিয়ে তৎপর বিএনপি: সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কাজ জোরদার করা হচ্ছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সারা দেশে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে এবং চলছে। অঙ্গ সংগঠনগুলোরও বেশ কিছুদিন ধরে কাজ চলছে। জেলা, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ হচ্ছে। যেগুলো বাকি আছে সেগুলো শিগগিরই হয়ে যাবে। যেহেতু এতদিন করোনার ভয়াবহতা বেশি ছিল তাই সম্মেলন করে করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ জায়গায় সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ঠিক একইভাবে বিএনপিতেও যেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আছে সেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আর কয়েকটি জেলার সম্মেলন অতি দ্রুত শেষ হবে।

স্থায়ী কমিটিতে কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি আগেও বলেছি, বৈঠকে রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক আলোচনা হয়েছে। পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বর্তমান পরিস্থিতি, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের সরকারের প্রচেষ্টা, বিরোধীদলীয় নেতাদের ওপর নির্যাতন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া, নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা-হামলা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর আমাদের বৈঠকের কার্যক্রম শেষ করেই আপনাদেরকে সার্বিক বিষয়ে জানাবো।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com