সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

প্রকাশ্যে এলো প্রেসিডেন্ট প্যালেসে তালেবানের চরম দ্বন্দ্ব

যমুনা নিউজ বিডিঃ যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গেল ১৫ আগস্ট দখলে নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর সম্প্রতি নতুন সরকার ঘোষণা করে কট্টর ইসলামিক সংগঠন তালেবান। এখনো দায়িত্বপ্রাপ্তরা শপথ না নিলেও এরই মধ্যে তারা কাজে নেমে পড়েছেন। এর মাঝেই নতুন সরকারের গঠন ইস্যুতে গোষ্ঠীটির নেতাদের মধ্যে চরম কোন্দলের খবর প্রকাশিত হলো। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঘটনাটি ঘটেছে। তালেবানের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজ তথ্যটি জানিয়েছে।

মূলত নতুন সরকারের পদ-পদবি নিয়ে সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গানি বারাদার ও মন্ত্রিসভার এক সদস্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যদিও তালেবানের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিস্তারিত এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

তালেবানের দুই শীর্ষ নেতাকে কয়েক দিন যাবত প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। তারা হলেন- সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং নতুন সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গানি বারাদার। তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এখন অনেকে সন্দিহান। যদিও তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহীন টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক দপ্তরের সাবেক প্রধান মোল্লা বারাদারের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি ভুয়া এবং ভিত্তিহীন।

গেল দুই দশক যাবত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা এবং শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন ইসলামিক আমিরাতের কেবিনেট।

তালেবানের একটি সূত্র বলছে, প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রভাবশালী নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানির বাকবিতণ্ডা হয়। খলিল তালেবান সরকারের শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী। কাতারে অবস্থানরত তালেবানের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে।

বারাদার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে আখুন্দকে তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়টিকে একটি সমঝোতার বিষয় বলে জানা যাচ্ছে।

তালেবানের বিভিন্ন সূত্র বলছে, দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হলো, সরকারের কাঠামো নিয়ে বারাদার অসন্তুষ্ট। এছাড়া তালেবানের আবার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পেছনে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, সেটা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

বারাদার মনে করেন, তার মতো ব্যক্তিরা, যারা কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিলেন, তাদের কারণেই তালেবানের ‘জয়’ হয়েছে। অন্যদিকে, হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যরা মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ের মাধ্যমে তালেবানের জয় নিশ্চিত হয়।

২০২০ সালে তালেবান নেতা বারাদারই সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। এর আগে, তালেবানের পক্ষ থেকে দোহা চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com