বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৩৮ অপরাহ্ন

বগুড়ায় মসজিদের ভিতর স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বাক-বিতণ্ডা

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় মসজিদের ভিতরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাজেদুর রহমান জুয়েলকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার মুকুলের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ শেষে শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৪তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাংসদ (বগুড়া-৬) গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায় সাইফুল ইসলাম, বগুড়া পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ আরো অনেকে। তাদের সামনেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

মাহফিলে থাকা নেতা-কর্মীরা বলেন, দোয়া চলার সময়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাজেদুল রহমান জুয়েলকে লাঞ্ছিত করেন সংগঠনের জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার মুকুল।

অভিযোগ উঠেছে, জেলার কয়েকটি ইউনিটে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন করা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। কমিটি গঠনের পর জেলা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুয়েল ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার মুকুলের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরেই সরকার মুকুল দোয়া মাহফিল চলাকালীন জুয়েলকে লাঞ্ছিত করেন।

নেতা-কর্মীরা জানান, দোয়ার আগে বগুড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলছিলেন। এসময় মসজিদের ইমামের পাশে বসে ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাজেদুর রহমান জুয়েল ও যুগ্ম আহবায়ক সরকার মুকুল। এমন সময়ে দুজনের মধ্যে উত্তেজনাকর অবস্থা তৈরি হয়। ওই সময় সাংসদ সিরাজ  তাদের দুজনকে ধমক দিয়ে চুপ থাকতে বলেন। এরপর তিনি পুনরায় কথা বলতে থাকেন।

অনুষ্ঠান শেষে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল মসজিদ থেকে বের হয়ে এসে চিৎকার করে বলেন, ‘বেয়াদবির একটা সীমা আছে। লাথি মারছে আবার উল্টা কথা বলছে। আমি রাজনীতি করে খাই না। যারা রাজনীতি করে খায় তারাই বুঝবে। এসময় জেলা নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।’

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুয়েল বলেন, ‘দুপুরে মসজিদে বিএনপির নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ অন্যান্য লোকজন ছিল। মসজিদের বাইরে যা বলেছি তা সবাই শুনেছেন। সেসব আর বলতে চাই না। তবে এমন পরিস্থিতি আচরণ ও ব্যবহারগত সমস্যার কারণে হয়েছে। পরে সিনিয়ররা পরিস্থিতি শান্ত করেন।”

জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার মুকুল বলেন, তিনি (জুয়েল) মূলত আমাকে উত্তেজিত করার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলছেন।  কেন্দ্র থেকে জেলায় চারটি কমিটি করে দেয়ার পর থেকে তিনি আমার সাথে এমন করছেন। শুধু তাই নয়; দলের অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ফেসবুকসহ একাধিক মাধ্যমে উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন জুয়েল।

জুয়েলকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সরকার মুকুল বলেন, ‘মসজিদের ভিতর কী ওই পরিবেশ আছে? লাথি মারলে সিনিয়র নেতারা দেখবে না?’

মাহফিলে দুই নেতার দ্বন্দ্ব নিয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন ধরেই জেলা তাদের (জুয়েল ও মুকুল) মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। কেন্দ্র থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলার কয়েকটি ইউনিট গঠন করার পর থেকেই এ বিরোধ হয়ে আসছে। এটা বড় কিছু নয়, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারা উত্তেজিত হয়েছিলেন বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com