মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:২৬ অপরাহ্ন

নেসকো রাজশাহীর এমডিসহ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যাপক অনিয়মের তদন্তে দুদক

মঈন উদ্দীন: নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) রাজশাহীর এমডি জাকিউল ইসলামসহ বেশ কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে রয়েছেন সাতজন কর্মকর্তা ও দুইজন উচ্চমান সহকারি। তাদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে বিল উত্তোলন, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত এবং ঘুষ, দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে দুদক রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আল-আমিন, উপসহকারী পরিচালক সদীপ কুমার চৌধুরী, সহকারী পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত টিম বুধবার নেসকো বিদ্যুৎ ভবন রাজশাহীতে একটি অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় দুদক টিম নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড রাজশাহী অফিস সরজমিনে পরিদর্শনকালে অফিসের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আজিজ ও অপর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম আহম্মেদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা গত ১৮-১৯ অর্থ বছরে লাইট লাগানোসহ অন্যান্য কাজের টেন্ডার সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্র তৎক্ষণাৎ সরবরাহ করতে বলেন। কিন্তু আব্দুল আজিজ তা পারেননি। ফলে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব কাগজপত্র ও রেকর্ড সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়।
এর মধ্যে রয়েছে, গত ১৮-১৯ অর্থবছরে লাইট লাগানো টেন্ডার সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি; অফিসের ডিজিটাল হাজিরার রেকর্ড; এমডির গত ১৪ মাসের টিএ/ডিএ সংক্রান্ত বিলের সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি, ঢাকা লিয়াজো অফিস ও রেস্ট হাউজের ভাড়াসহ গত এক বছরের তথ্যাদি। এছাড়াও ২০২০ সালের ১ম ও ২য় শ্রেণীর পদে নিয়োগ সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি, নেসকো রাজশাহীর মোট গ্রাহক সংখ্যা ও বকেয়া বিলের গত এক বছরের তথ্যাদি, ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রকল্প সমূহের তালিকা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি, এছাড়াও অভিযোগে বর্ণিত কর্মকর্তাদের ২০১৯-২০ অর্থ বছরে টিএ/ডিএ বিলের হিসাব সংক্রান্ত তথ্যাদি।
এছাড়াও দুদক টিম নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আজিজ, নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম আহম্মেদ, সৈয়দ আবু তাহের (ডিসিএস), সুব্রত কুমার দাস (নির্বাহী পরিচালক), মো: শরিফুল আওলাদ (নির্বাহী পরিচালক), মো: আবু মোতালেব (ম্যানেজার), মো: দেলোয়ার হোসেন (ডিজিএম), মো: নজরুল ইসলাম (উচ্চমান হিসাব সহকারী) ও মো: শহীদুল ইসলাম (উচ্চমান হিসাব সহকারী) এবং তাদের স্ত্রীদের সর্বশেষ আয়কর নথির ফটোকপি দুদক, রাজশাহী কার্যালয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহের নির্দেশনা প্রদান করেন।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com