বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:১৫ অপরাহ্ন

অবশেষে নিজ কর্মস্থলের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাবুনগরী

যমুনা নিউজ বিডিঃ লাখ লাখ ভক্ত-অনুরাগিকে কাঁদিয়ে চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পাশে নিজ কর্মস্থলে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই আলেম বাবুনগরীকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবরের পাশেই হাটহাজারী মাদ্রাসার বাইতুল আতিক জামে মসজিদ সংলগ্ন ‘মাকবারাতুল জামিয়া’ নামক কবরস্থানে অবশেষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। তবে হেফাজত আমিরের জীবদ্দশায় করা অছিয়তের কথা করে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদেও বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে তার মরদেহ রেখে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হাটহাজারীর ‘বড় মাদ্রাসা’ হিসেবে পরিচিত আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলামের মাঠ প্রাঙ্গণে স্থান সংকুলন না হওয়ায় ডাক বাংলো চত্বরে জানাজার নাম সম্পন্ন হয়। জানাজার নামাজের ইমামতি করেন হেফাজত আমিরের মামা ফটিকছড়ির উপজেলার নানুপুর মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজতের সদ্য ঘোষিত ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।
স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এই জানাজায় হাটহাজারী সাংসদ ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহামুদ এমপি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদেও প্রশাসক এম এ সালাম, হাটহাজারী রউপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম, চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং তাদের অংঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আলেম, রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ জনতা অংশনেন। এ সময় শতবর্ষী আলেম আল্লামা বাবুনগরীল সহকর্মী, ছাত্র, ভক্ত ও অনুসারীসহ জানাজায় আসা সকলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
জানাজা উপলক্ষে এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। নিশ্চিন্দ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকশতাধিক র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোষাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন ছিল।
এর আগে বিকাল ৩টায় শেষবারের মতো নিজ বাড়িতে উদ্দেশ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে রওনা হন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর মরদেহ। বিকেল সাড়ে ৪টায় ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাবুনগর গ্রামে তাঁর মরদেহ পৌঁছলে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
সন্ধ্যার পর বাবুনগরীর মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসার দিকে রওনা দেন। এ সময় বাবুনগরীর জীবদ্দশায় তাকে নানার কবরের পাশে দাফন করার জন্য বলেছিলেন এমন দাবীতে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি স্থানীয়রা আটকে দেয়। পরে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি রওনা দিয়ে রাত ৯টার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছে।
এদিকে, রাত সাড়ে ৮টা থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী বাসস্টেশন ও মিরের হাট এলাকায় যান চলচল বন্ধ করে দেয়। এতে ওই মহাসড়কে ৩-৪ এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় যাত্রীসাধারণ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জুনায়েদ বাবুনগরী ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
এর আগেও তিনি কয়েক দফা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ৮ আগস্ট দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় গাড়িতে বসে করোনাভাইরাস প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com