সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় তীব্র যানজট, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের পর বগুড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। এসব সড়কে যানবাহনে যাত্রীরা গাদাগাদি করে বসছেন। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও  বিধিনিষেধ। বিভিন্ন কাজে শহরে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

১১ অগস্ট থেকে বিধিনিষেধ শিথিলের পরপরই যানবাহন চলাচল শুরু করে, পুরোপুরি খুলে দেয়া হয় হোটেল-রেস্তোরা,মার্কেট,শপিংমল ।

সোমবার সকাল থেকেই বগুড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা যায়। গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপে ও সড়কে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই মানুষের ভিড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। থেমে থেমে চলছে যাত্রীবাহী করতোয়া গেটলক, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, ইলেকট্রিক ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ সব ধরণের যানবাহন। এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গত কয়েকদিন থেকেই।

তবে জনসাধারণকে স্বাস্থাবিধি মানাতে চোখে পড়ার মত জেলা প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। ফলে পুরোপুরি লাগামহীনভাবে চলছেন জেলার বাসিন্দারা। অন্যদিকে বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে করোনায় ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা।

শহরের গোহাইল রোডের ফুলতলা বাজার থেকে সাতমাথা বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ার চত্তরের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। স্বাভাবিকভাবে অটোরিকশায় ফুলতলা-সাতমাথা যাতায়াতের সময় লাগে দশ মিনিট। অথচ সেখানে এখন সময় লাগছে প্রায় ৪০ মিনিট। যানজটের কারণে থেমে থেমে চলছে যাত্রীবাহী যানগুলো। প্রতিদিন শহরের খান্দার মোড় থেকে পাসপোর্ট অফিস পর‌্যন্ত যানজট লেগে থাকলেও সেখানে কোন ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায়না।

সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ফুলতলা থেকে সাতমাথার উদ্দেশ্যে অটোরিকশায় উঠেন ইমরান ।  তিনি প্রায় ৪০ মিনিট পর সাতমাথায় এসে পৌঁছেছেন।

তিনি বলেন, ১১ আগস্ট থেকেই যানজটের কারণে সড়কে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাড়ি (ফুলতলা) থেকে  সাতমাথা পর্যন্ত আসতে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগছে। অথচ অটোরিকশায় এটা সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের পথ।’

তিনি বলেন, ‘অটোরিকশাতে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। গাদাগাদি করেই বসতে হচ্ছে। এছাড়া কোনো উপায় নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ১১ আগস্টের পর থেকে কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত আমার চোখে পড়েনি।’

সোমবার দুপুরে শহরের নামাজগড়,বড়গোলা মোড়, দত্তবাড়ি মোড় , চেলোপাড়া, মফিজ পাগলার মোড়, কলোনী বাজার, বনানী এলাকাসহ অন্যান্য এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যানজট ও সাধারণ জনগণের উপচে পড়া ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই মাস্ক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশীদ বলেন, ট্রাফিক পুলিশের জনবল কম থাকায় সব খানে যানজট নিরসনে কাজ করতে ট্রাফিক বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com