মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:২২ অপরাহ্ন

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বেড়েছে তিস্তা নদীর পানি। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যদিও বিকাল ৩টার পর পানি পাঁচ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১০ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট (জলকপাট) খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১০ হাজারের বেশি পরিবার। ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জেলার ডিমলার ডালিয়া পানি উন্নয়ন রোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ সকাল ৬টা থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা হলো ৫২.৬০ সেন্টিমিটার। বিকাল ৩টার পর পানি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দুপুর ১২ পর্যন্ত একই লেভেলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ডিমলা, জলঢাকা ও লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ, হাতিবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদী অববাহিকার চর গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডিমলা উপজেলার কিসামত ছাতনাই, ঝাড় শিঙ্গেশ্বর, চর খড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিম খড়িবাড়ি, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, বাইশ পুকুর, ঝুনাগাছ চাপানির ছাতুনামা কেল্লাপাড়া, ভেন্ডাবাড়ি, প্লাবিত হয়।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের ছয় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি দুই জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জানাম ভুঁইয়া জানান, দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ এবং ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার তিস্তা ও ধরলা নদী অববাহিকা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ রাত ১টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান। নদ-নদীতে পানি বাড়তে থাকলে সপ্তাহের শেষ দিকে দেশের দশটি অঞ্চলে মধ্যমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর মধ্যাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানির সমতল বেড়ে আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুর দিকে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com