শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৪ অপরাহ্ন

অজিদের ১৩২ রানের টার্গেট বাংলাদেশের

যমুনা নিউজ বিডিঃ  মিরপুর শেরে বাংলায় সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা হাত খুলে খেলতেই দিলেন না স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা। লেগ স্টাম্পের ওপর করা মিচেল স্টার্কের বলটাকে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে যেন মোহাম্মদ নাঈম শুরু থেকেই আক্রমণের অভিপ্রায়টা জানান দিচ্ছিলেন। তবে সে ‘টোন’টা বাংলাদেশ এরপর ধরে রাখতে পারল কোথায়? পাওয়ার প্লেতে খেলেছে একের পর এক ডট, যা একটু করে চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছিল স্বাগতিকদের ওপর।  মন্থর ব্যাটিংয়ে সেই যে চাপ ভর করল, সেটা তাড়ান গেল না ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। শেষমেশ বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়েছে সাত উইকেট হারিয়ে ১৩১ রানে। ফলে প্রথম ম্যাচ জিততে অজিদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৩২ রানের।

একের পর এক ডট চাপটা তৈরি করেছিল। সেটা আরও বাড়ায় দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও নাঈমের উইকেট। ইম্প্রোভাইজ করতে গিয়ে উইকেট দিয়েছেন দু’জনেই। তাতেও সেই ডটের প্রভাব ছিল বৈকি। ক্রমাগত ডট যেমন চাপ বাড়াচ্ছিল দলের ওপর, সেই চাপ ঝেটিয়ে বিদায় করতেই তো দরকার পড়েছিল ‘ইম্প্রোভাইজেশন’-এর।  সৌম্য যেন অনেকটা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন, জায়গা বানিয়ে খেলবেন, অফসাইডে বৃত্তের ভেতর ছাতার মতো ফিল্ডার সাজালে এমন ভাবনা অমূলক কিছু নয়। তবে তার প্রয়োগে যেন একটু খুঁত থেকে গিয়েছিল। জায়গা বানাতে শুরু করেছিলেন একটু আগেভাগেই। তা বুঝতে পেরে জশ হেইজেলউডও বলটা করলেন লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে। ফলে সমন্বয়ে গোলমাল হলো। প্লেড অন হয়ে উইকেট হারালেন সৌম্য, ফিরলেন ৯ বলে ২ রান করে। সেই ইম্প্রোভাইজেশনের চেষ্টাতেই কাটা পড়ল নাঈমের উইকেট। এবারও নিয়ামক হিসেবে কাজ করল সেই অফসাইডে বৃত্তের ভেতর ছাতার মতো সাজানো ফিল্ডারদের সারি। অ্যাডাম জ্যাম্পার বলটা রিভার্স সুইপ করে পাঠাতে চেয়েছিলেন। ব্যাটে বলে তো হলোই না, উলটো বল গিয়ে ভাঙল স্টাম্প। নাঈম ফেরেন ২৯ বল খেলে ৩০ রান করে। এরপর ব্যাটসম্যান বদলালেও বদলায়নি ব্যাটিংয়ের ধরন। ডট আসতে থাকল, তাতে প্রথম ৫০ এলো ৫১ বলে। ১৩তম ওভারে এসে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রানের গতি বাড়াতে চেষ্টা করেছিলেন। হেইজেলউডের প্রথম বলটা স্কয়ার লেগ দিয়ে সীমানাছাড়া করেন তিনি। চেষ্টাটা ছিল পরের বলেও, কিন্তু অজি পেসারের নাকল বলটা যেন পড়তে ভুল করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ধরা পড়েন মিড অফে।  রানের গতি বাড়ানোর চাপে উইকেট হারিয়েছেন নুরুল হাসান সোহানও। অ্যান্ড্রু টাইয়ের ওয়াইড লাইন পেরোনো বলটাকে অফ সাইড দিয়ে সীমানাছাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ডিপ পয়েন্টে। একবার ‘জীবন’ পাওয়া সাকিবও হেইজেলউডের শিকার বনেছেন সে অভিপ্রায় থেকেই। এরপরও বাংলাদেশের রানরেট যে ছয় পেরিয়ে শেষ করেছে, সে কৃতিত্বটা আফিফ হোসেনের। তার তিন চারের সাহায্যে ১৭ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে ভর করেই শেষমেশ রানটা ১৩১ এ গিয়ে থামে বাংলাদেশের। তাতে অজিদের সামনে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের জন্য লক্ষ্যটা দাঁড়ায় ১৩২ রানের।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com