সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দ নেই জনবল নষ্ট অ্যাম্বুলেন্স

বগুড়া নিউজ ২৪ঃ সারাদেশের উপজেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সা সেবার সার্বিক ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। তবে সবধরনের ব্যবস্থা থাকলেও জনবল না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে আছে। লোকবলের অভাবে চলে না পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বেশির ভাগ হাসপাতালেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও আয়াসহ বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। অকেজো হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজিসহ বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রপাতি। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেগুলো প্রায়ই নষ্ট থাকে। ফলে রোগী পরিবহনেও সংকট দেখা দিচ্ছে।

অভিযোগ আছে, প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সগুলোর সুবিধা দিতে অধিকাংশ সময় সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট বলে সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়। আবার অধিকাংশ সময় দালালদের যোগসাজশে অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট করে ফেলে রাখা হয়। এক্ষেত্রে এক শ্রেণীর কর্মকর্তারা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে সুবিধা দিয়ে কমিশন নেন। আবার অনেক সময় ডাক্তারসহ এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। দেশের পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইত্তেফাকের প্রতিনিধিরা সরেজমিন পরিদর্শন করে চিকিত্সা সেবার চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যখন যা প্রয়োজন তা বরাদ্দ দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে সিভিল সার্জন পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পালনে যে চরম অবহেলা ও অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন তা স্পষ্ট বোঝা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা দেখে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা বলেন, একটি উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবার সার্বিক অবকাঠামো আছে। তবে জনবল সংকটের কারণে তা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ এগুলো সচল থাকলে করোনাসহ অন্যান্য চিকিত্সা উপজেলার মানুষ উপজেলার হাসপাতালেই পেতেন। জনবল দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোন লাভ হয় না। জরুরি সেবার এই ফাইল কেরানীর কাছেই ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে থাকে। বর্তমানে করোনা রোগীদের সামাল দিতে গিয়ে রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনা রোগীর চাপে অনেক হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে অন্যান্য রোগীরা চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ চিকিত্সা সেবা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে এক্সরে মেশিন নষ্ট একযুগ ধরে। ৬টি চিকিত্সকের পদসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ২৯টি পদে জনবল নেই। ইসিজি মেশিনের টেকনোলজিস্ট এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের প্রিন্টার ও সোনোলোজিস্ট নেই। ডাক্তার থাকলেও নেই ডেন্টাল চেয়ার, অ্যাম্বুলেন্সটি সংস্কারের অভাবে বেশিরভাগ সময় অচল পড়ে থাকে। এনেসথেওলজিস্ট না থাকায় সিজারিয়ানসহ সকল অপারেশন বন্ধ আছে ৫ বছর ধরে। শূন্য রয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন পদ। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ।

পীরগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় কোভিড-১৯ আক্রান্তদের সিলিন্ডার অক্সিজেনের উপর নির্ভর থাকতে হয়। এসব সিলিন্ডারে নিদিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন থাকে। শেষ হয়ে গেলে খালি সিলিন্ডারগুলো পাঠাতে হয় রংপুর। সেখান থেকে অক্সিজেন ভরে সিলিন্ডারগুলো আনতে ২/৩ দিন সময় লেগে যায়। এ অবস্থায় মাঝে মধ্যে অক্সিজেন সংকটে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল জব্বার বলেন, নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ হওয়ার পড়েও কোভিড এর কারণে আটকে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিকিত্সক ও জনবল সংকটের কথা জানিয়েছি। নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন থেকেই নেই ডাক্তার, নষ্ট রয়েছে সরকারি দুইটি অ্যাম্বুলেন্স। ল্যাব টেকনিশিয়ান ও সহকারী ল্যাব টেকনিশিয়ানের পদগুলো শূন্য। দেশব্যাপী করোনা মহামারীর মধ্যে মোংলা বন্দর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত রুগীদের চাপ বেড়েই চলছে। ২৭ জন ডাক্তারের অনুকূলে আছে মাত্র ৮ জন, তাও প্রায় সময়ই অনুপস্থিত থাকেন। তারা থাকেন বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট সরকারি দুটি অ্যাম্বুলেন্স। ল্যাব টেকনিশিয়ান ও সহকারী ল্যাব টেকনিশিয়ানের পদগুলো শূন্য। অন্য হাসপাতাল থেকে ল্যাব টেকনিশিয়ান এনে মোংলায় হচ্ছে করোনা নমুনা পরীক্ষা। নেই এক্স-রে টেকনিশিয়ানও।

সিলিন্ডারের অক্সিজেন দিয়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অধিক চাপের অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৫০ শতাংশ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জীবিতোষ বিশ্বাস বলেন, এখানে বড় সমস্যা হলো লোকবল সংকট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬টি শয্যা আছে করোনা রোগীদের জন্য। তবে অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। একজন কোভিড ১৯ রোগীর জন্য ২-৩ ঘণ্টায় একটি সিলিন্ডার শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা নেই। ফলে বেশি মাত্রার অক্সিজেন যাদের লাগে, তাঁদের আমরা এই সেবা দিতে পারি না।

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচার কক্ষ) তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। গত এক যুগেও এখানে কোন অপারেশন হয়নি। ফলে এ হাসপাতালে প্রসূতির সিজার, অ্যাপেন্ডিসাইটিসসহ অন্যান্য অস্ত্রোপচার না হওয়ায় রোগীরা মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে অপারেশন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহৃত মূল্যবান যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। অথচ উপজেলার ৪ লক্ষাধিক মানুষের উপজেলা পর্যায়ে চিকিত্সার ভরসাস্থল চাটমোহরের এই সরকারি হাসপাতাল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক বুলবুল অপারেশন থিয়েটার তালাবদ্ধের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, অপারেশন থিয়েটারটি চালু করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে, তারা ব্যবস্থা নেবেন।

শিবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৯ লাখ জনগনের জন্য মাত্র ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও সেটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। জনবল সংকট। কর্মরত চিকিত্সকরা জানান, অর্ধেক জনবল দিয়ে এই হাসপাতালটি কোন রকমে চলছে। অপারেশনসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ। এখানে অনুমোদিত পদে ২১ জন চিকিত্সকের স্থলে আছেন ১২ জন। শূন্য রয়েছে ৯টি পদ। মাঠকর্মীর ক্ষেত্রে ৮০ জনের স্থলে রয়েছে ৫৪ জন। শূন্য রয়েছে ২৬ জন। অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ১টি। তাও আবার চালক অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় রোগীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। আরো একটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন যাবত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে মাত্র ৩২টি, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নেই। সাধারণ এক্সরে মেশিনও জনবল সংকটের কারণে বন্ধ।

Please Share This Post in Your Social Media


বৈশ্বিক মঙ্গলের জন্য কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত হলো চার দেশীয় জোট কোয়াডের বৈঠক। কোয়াড অন্তর্ভুক্ত চার দেশের সরকারপ্রধান এই প্রথমবার মুখোমুখি দেখা করলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। বৈঠকে বিশ্বের বর্তমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোভিড-১৯ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি এশিয়ার পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুরুতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নরেন্দ্র মোদি কোয়াডের বৈঠকে বলেছেন, ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার উন্নয়নের জন্য ২০০৪ সালে সুনামির পর আমরা প্রথম দেখা করেছিলাম। সারা বিশ্ব যখন কোভিড মহামারিতে বিপর্যস্ত, তখন মানবতার কল্যাণে আমরা আবার এক সঙ্গে হলাম।’ কোভিড টিকা নিয়ে কোয়াডের উদ্যোগ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলোকে সাহায্য করবে জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমাদের কোয়াড জোট বিশ্বের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক এবং বিশ্ব শান্তির জন্য জরুরি।’ সারা বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে কোয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করেন মোদি। মুক্ত এশিয়া গড়ে তোলাও কোয়াডের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। মোদি বলেন, ‘আমাদের নিজ নিজ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপ্রেক্ষিতে কোয়াড এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাব। জলবায়ু, কোভিড মোকাবিলা এবং বিশ্বের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কোয়াড সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে পেরে ভালো লাগছে। বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে কোয়াড।’ মুক্ত এবং উদার এশিয়া গড়া কোয়াডের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চার দেশীয় জোট বৈশ্বিক মঙ্গলের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আজ, যখন বিশ্ব কোভিড মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, কোয়াডের অধীনে আমরা আবার মানবতার কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখানে এসেছি।’ মোদির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সরকারপ্রধানরাও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন বৈঠকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখে উঠে আসে সমস্যা মোকাবিলা করতে চার গণতান্ত্রিক দেশের প্রচেষ্টার কথা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মরিসন ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে দখলদারত্ব থেকে মুক্ত রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সমস্যার সমাধানের পক্ষে মত দেন। এদিকে, স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরের আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। মৌলিক অধিকারে বিশ্বাসী চারটি দেশের পক্ষ থেকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ’ হিসেবে কোয়াডকে অভিহিত করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য ঐক্যবদ্ধ ও ইতিবাচক কর্মসূচির লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোয়াড নেতৃবৃন্দ। এবং জোট এই লক্ষ্যে চমৎকার অগ্রগতি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কোয়াডের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নরেন্দ্রে মোদি। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত হলো চার দেশীয় জোট কোয়াডের বৈঠক। কোয়াড অন্তর্ভুক্ত চার দেশের সরকারপ্রধান এই প্রথমবার মুখোমুখি দেখা করলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। বৈঠকে বিশ্বের বর্তমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোভিড-১৯ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি এশিয়ার পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুরুতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নরেন্দ্র মোদি কোয়াডের বৈঠকে বলেছেন, ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার উন্নয়নের জন্য ২০০৪ সালে সুনামির পর আমরা প্রথম দেখা করেছিলাম। সারা বিশ্ব যখন কোভিড মহামারিতে বিপর্যস্ত, তখন মানবতার কল্যাণে আমরা আবার এক সঙ্গে হলাম।’ কোভিড টিকা নিয়ে কোয়াডের উদ্যোগ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলোকে সাহায্য করবে জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমাদের কোয়াড জোট বিশ্বের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক এবং বিশ্ব শান্তির জন্য জরুরি।’ সারা বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে কোয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করেন মোদি। মুক্ত এশিয়া গড়ে তোলাও কোয়াডের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। মোদি বলেন, ‘আমাদের নিজ নিজ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপ্রেক্ষিতে কোয়াড এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাব। জলবায়ু, কোভিড মোকাবিলা এবং বিশ্বের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কোয়াড সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে পেরে ভালো লাগছে। বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে কোয়াড।’ মুক্ত এবং উদার এশিয়া গড়া কোয়াডের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চার দেশীয় জোট বৈশ্বিক মঙ্গলের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আজ, যখন বিশ্ব কোভিড মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, কোয়াডের অধীনে আমরা আবার মানবতার কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখানে এসেছি।’ মোদির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সরকারপ্রধানরাও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন বৈঠকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখে উঠে আসে সমস্যা মোকাবিলা করতে চার গণতান্ত্রিক দেশের প্রচেষ্টার কথা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মরিসন ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে দখলদারত্ব থেকে মুক্ত রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সমস্যার সমাধানের পক্ষে মত দেন। এদিকে, স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরের আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। মৌলিক অধিকারে বিশ্বাসী চারটি দেশের পক্ষ থেকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ’ হিসেবে কোয়াডকে অভিহিত করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য ঐক্যবদ্ধ ও ইতিবাচক কর্মসূচির লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোয়াড নেতৃবৃন্দ। এবং জোট এই লক্ষ্যে চমৎকার অগ্রগতি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কোয়াডের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নরেন্দ্রে মোদি। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছিলেন মোদি। খবর এনডিটিভিষীয় বৈঠক করেছিলেন মোদি। খবর এনডিটিভিকোয়াড জোট : মোদি

© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com