শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

News Headline :

বগুড়ায় মানুষ মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

মমিন রশীদঃ বগুড়ার সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি ও কঠোর বিধি নিষেধ বা লকডাউনের কোন ও কিছু মানছেন না। এতে বগুড়ায় প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার (২৯শে জুন) জেলায় ১৫২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় ১৩ হাজার ৭১২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৫৫১ জন। মারা গেছেন ৩৮৬ জন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৭৭৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে ও জেলার বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বগুড়া শহর ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকলেও দোকান মালিক বা কর্চারীরা দোকানের আশে পাশে থেকে বিক্রেতা পেলে মালামাল বিক্রি করেন । আবার মার্কেটের ভিতরে কিছু দোকান খোলা রয়েছে। হোটেল রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খাচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকসায় ৫ জন ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকসায় ৪-৬ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। গায়ের সাথে গা লাগিয়ে যাত্রীরা সিটে বসে রয়েছে। চায়ের দোকানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আড্ডা করছে রাত অবধি। তবে প্রশাসনের লোকদের দেখে সব গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন যানবাহন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টায় অবিরাম মামলা দিচ্ছে মোটর সাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহনে আটক করছে ইজি বাইক তবুও কমছে না যানবাহন। । লকডাইনে শুধু যাত্রীবাহী বাস বন্ধ রয়েছে। আর সবকিছু আগের মতোই চলছে।

শহরতলী ও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গ্রামের হাটবাজারগুলো আগের মতোই চলছে। পৌর এলাকার সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও বনানী হাট সপ্তাহের দুই হাটবার সোম ও শুক্রবার  চলতে দেখা গেছে । হাট বাচারে কেউ মাস্ক পরছে, কেউবা পরছে না। স্বাস্থ্যবিধির মানার বালাই নেই কারোর মাঝে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারি কম থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও করোনা শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

জেলার দুইটি সরকারি হাসপাতলে রোগী ভর্তি করার মত স্থান সংকুলান হচ্ছে না। জেলার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে এ মূহুর্তে ১০০ শয্যার মধ্যে ভর্তি আছেন ১০১ জন, বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতলে ২০০ শয্যার বিপরীতে ১৯২ জন ভর্তি আছেন। বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি আছেন ৮০ জন। নতুন করে কোনো রোগী এলে আর ভর্তি করা সম্ভব হবেনা বলে জানান, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. ওয়াদুদ।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম বার বলেন, করোনা প্রতিরোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জনগণকে উদ্বুদ্ধকরন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরন করা হয়েছে। শহরের প্রতিটি এলাকায় পুলিশী চেক পোষ্ট বসানো হয়েছে। সচেতন করা হচ্ছে জনগনকে। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ১ জুলাই থেকে আরো কঠোর হবে পুলিশ । সব মিলিয়ে করোনা প্রতিরোধে পুলিশ প্রথম সারির ভূমিকা পালন করছে ।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com