বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

দেশের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ দরিদ্রতায় ভুগছে

যমুনা নিউজ বিডিঃ  দারিদ্র্য নিরূপণের নতুন এক সূচকে দেশের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দরিদ্র বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সূচকে (এমপিআই) দেশে এ পরিমাণ দরিদ্র রয়েছে বলে সরকারি সংস্থা পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র্যের শিকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেশে ২০২১ সালে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৩ লাখে। এ হিসাবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সংখ্যা ৬ কোটি ৫১ লাখে।

আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য সভায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। জিইডির সদস্য (সিনিয়র) সচিব ড. শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়ন তথা দারিদ্র্যের ধারণাগত পরিবর্তন হয়েছে। শুধু প্রবৃদ্ধিনির্ভর উন্নয়ন হলেই চলবে না। বৈষম্য কমিয়ে এনে সাম্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন করতে হলে জীবনযাত্রার অনেক কিছুই বিবেচনায় নিতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, আগামীতে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জিইডির ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য সোশ্যাল পলিসিজ ফর চিলড্রেন অন এ মিডল ইনকাম ইকোনমি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সূচকে (এন-এমপিআই) এবং বহুমাত্রিক শিশু দরিদ্রসূচক (সি-এমপিআই) প্রতিবেদনটি তৈরিতে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ এবং অক্সফোর্ড প্রভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (ওপিএইচআই) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রসঙ্গে শামসুল আলম বলেন, ‘কাল (বুধবার) এটি প্রকাশ করা হবে। এরপর বিস্তারিত বলা যাবে।’

জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আর্থসামাজিক খাতের মোট ১১টি সূচকের মাধ্যমে এমপিআই সূচক তৈরি করা হয়েছে। আর সি-এমপিআই তৈরি করতে এই ১১ সূচকের পাশাপাশি শিশু অধিকার সংক্রান্ত চারটি সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন সূচকের মাধ্যমে প্রণয়ন করা এমপিআই বা সি-এমপিআইর মান শূন্য থেকে ১ পর্যন্ত হতে পারে। এ সূচকের মান শূন্যের যত কাছাকাছি হবে, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হবে তত কম। আর এর মান ১ এর কাছাকাছি গেলে বহুমাত্রা দারিদ্র্য বেশি হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে এমপিআই দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ১৬৮ পয়েন্টে, যা পল্লী এলাকায় শূন্য দশমিক ১৮৫ ও শহর এলাকায় শূন্য দশমিক ১০৬ পয়েন্ট। শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ১৭ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশু রয়েছে এমন খানার ৫৭ শতাংশই বহুমাত্রিক দারিদ্র্য মোকাবিলা করছে। এ হিসাবে শিশু রয়েছে এমন খানায় দারিদ্র হার ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপের মাধ্যমে পাওয়া দারিদ্র্য হারের মতোই বহুমাত্রিক দারিদ্র্যও পল্লী এলাকায় কেন্দ্রীভূত রয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, শহর অঞ্চলের ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। পল্লী অঞ্চলে এর হার প্রায় দ্বিগুণ, ৩৯.৭ শতাংশ।

এ হিসাবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ দরিদ্র মানুষের অবস্থান পল্লী অঞ্চলে। এর ব্যাখ্যায় প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার এমনিতেই বেশি। আর মোট জনসংখ্যার ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ বসবাস করেন গ্রামে। এ হিসাবে মোট দরিদ্রের সংখ্যা গ্রামেই বেশি।

শিশুদের খানায় দরিদ্র বেশি : শিশু রয়েছে এমন খানাগুলোতে সি-এমপিআই দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ২২৬ পয়েন্টে যা জাতীয় এমপিআই শূন্য দশমিক ১৬৮ থেকে অনেক বেশি। একইভাবে শিশুদের খানাগুলোতে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের গড় হার ৫৭ শতাংশ, যা জাতীয় গড় হারের চেয়ে ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। শিশু রয়েছে এমন নারীপ্রধান পরিবারে সি-এমপিআই শূন্য দশমিক ১৯৯ পয়েন্ট, যা পুরুষপ্রধান খানার শূন্য দশমিক ২২৮ পয়েন্ট থেকে অনেক কম।

কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সি-এমপিআই শূন্য দশমিক ২৮৫ পয়েন্ট। আর এই বয়সী শিশু রয়েছে এমন পরিবারগুলোর ৬৮ দশমিক ৭ শতাংই দারিদ্র্যের শিকার। অন্যদিকে ১৬-১৭ বছর বয়সী শিশু রয়েছে এমন পরিবারে সি-এমপিআই শূন্য দশমিক ২৮৫ পয়েন্ট। আর এমন পরিবারে দারিদ্র্যের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের শিকার। এ বিভাগের শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশই দারিদ্র্যের শিকার।

নতুন দারিদ্র্য পকেট সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ : প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ খানাই বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগকে দারিদ্র্যের নতুন পকেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান জেলা সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বরিশাল বিভাগের ভোলায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার ৬২ শতাংশ। আর ৬১ শতাংশ দারিদ্র্য নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ।

এছাড়া বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের তালিকায় ওপরের দিকে থাকা জেলার মধ্যে রয়েছে রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজার (৫৭ শতাংশ), হবিগঞ্জ (৫৫ শতাংশ), কুড়িগ্রাম (৫৪ শতাংশ), নেত্রকোনা (৫২ শতাংশ) ও খাগড়াছড়ি (৫১ শতাংশ)। সুত্র -বাংলার চোখ

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com