মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০২:৩২ অপরাহ্ন

মণিরামপুরে ১১ গ্রামে বাণিজ্যিক পেপে চাষে লাভবান কৃষক

যমুনা নিউজ বিডিঃ যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ও হরিহরনগর ইউনিয়নে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে পেঁপে। এতে করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এ কারণে চাষিরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সরেজমিনে দেখা
গেছে, রাজগঞ্জের মশ্মিমনগর ইউনিয়নের সাহাপুর ও হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর, সাঞ্চাডাঙা, সালামতপুর, শৈলী, এনায়েতপুর, খাটুরা, মধুপুর, কায়েমকোলা, নিমতলা ও মুক্তারপুর এই ১১ টি গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হয় পেঁপে।
পেঁপে চাষি হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মনছুর হোসেন জানান পেঁপে চাষ একটি লাভজন ফসল। এজন্য গ্রায় ১৫/১৬ বছর ধরে পেঁপে চাষ করি। এছাড়া এ গ্রামের অনেক চাষি পেঁপে চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তিনি প্রতিবছর তিন বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেন। তিনি আরো জানান প্রথম বার পেঁপের চারা লাগানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যায় প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ক্ষেত থেকে পেঁপে বিক্রি করতে শুরু করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিমণ পেঁপে ৪০০/৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। প্রতি ২০/২৫ দিন পরপর ক্ষেতে পেঁপে বিক্রি যোগ্য হয়। তাতে করে প্রতিবার ২০/২৫ মন পেঁপে বিক্রি করা যায়।
একবার চারা লাগালে ক্ষেত থেকে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী দুই বছর গাছের পরিচর্যায় খরচ খুবই কম লাগে। এছাড়া ঝড় বৃষ্টিতে গাছের ক্ষতি না হলে মোটামুটি লাভজনক ফসল ধরে নেওয়া যায়। কৃষক আব্দুল কাদের জানান- পেঁপে একটি লাভজনক ফসল।
তিনি এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন। চলতি বছরে এ ক্ষেত থেকে প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষেত নষ্ট না হলে আগামীতে আরো বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।
হরিহরনগর ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ রায় জানান, হরিহরনগর ইউনিয়ন ব্যাপি এ বছর ১৭০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে পেঁপে গাছের বিভিন্ন রোগের, যেমন-গাছের গোড়া পঁচা, পোঁকা বাহিত বিভিন্ন রোগ, ক্ষতিকারক ভাইরাস থেকে গাছকে মুক্ত রাখতে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়। এ ছাড়া পেঁপে গাছের খাদ্যের অভাব মেটাতে বিভিন্ন অনুখাদ্য প্রয়োগ করতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া পেঁপের পরাগায়নসহ ভালো ফলন পাওয়ার জন্য কৃষকদের প্রতিবিঘায় দুইটি পুরুষ গাছ রাখার কথা বলা হয়ে থাকে। রাজগঞ্জের হরিহরনগর ইউনিয়নের মাঠে মাঠে বিভিন্ন জাতের পেঁপে চাষ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে বারি জাতের শাহিরাচি, কাশিমপুরি, হানিডিউ, পুশাজাজেন্ট। এসব জাতের পেঁপের চাষ করেছে এই এলাকার চাষিরা।
পাইকরি পেঁপে ক্রেতা ব্যাপারী মোশাররফ হোসেন ও আক্তার হোসেন বলেন, আমরা চাষিদের ক্ষেত থেকে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা প্রতিমণ দরে পেঁপে কিনে থাকি। যা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাজারে বিক্রয়ের জন্য পাঠানো হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে জানায়, পেঁপে চাষের সুবিধা হচ্ছে, জমিতে একবার চারা লাগালে তিন বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রথম বছরের পর, পরবর্তী দুই বছর ক্ষেত পরিচর্যার খরচ খুবই কম লাগে। এতে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে, এ বছরও চাষিরা পেঁপে চাষে ব্যাপকভাবে লাভবান হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com