বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মানব বন্ধন কমর্সূচী পালিত

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ প্রস্তাবিত বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে, কমপক্ষে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ বরাদ্দ এবং প্রতি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবিতে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে ১৬ জুন সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেণ চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বগুড়া জেলা সংগঠক রাধা রানী বর্মন, বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বগুড়া জেলা উপদেষ্টা কমরেড এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু,চারণ সংগঠক রাকিবুল ইসলাম, নিয়তি সরকার,পূজা প্রামাণিক, সংহতি বক্তব্য রাখেন প্রবীন রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল হক দুলু, সাংস্কৃতিক কর্মী তাপসী দে প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পেশ করেছে। এই বিশাল বাজেটের সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ মাত্র দশমিক শূণ্য ৯৭ শতাংশ। এতে সারাদেশের সংস্কৃতি কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত সব মহল হতাশ হয়েছে। একদিকে সরকারের উচ্চ মহল বলছে মৌলবাদকে প্রতিহত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাড়াতে হবে। অথচ সংস্কৃতিতে এত কম বরাদ্দের সাথে তাদের বক্তব্য অসঙ্গতিপূর্ণ। এক সময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রা-কবিগান-নাটক-জারি গান-সারি গান ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন ছিল। আজ মৌলবাদী তৎপরতায় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ার এইগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাউলরা প্রতি পদে পদে আক্রান্ত হচ্ছেন। শরীয়ত বাউল কে জেলে যেতে হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে রাধা রানী বর্মন বলেন, এক সময় বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লোক কবিদের ব্যাপক আধিপত্য ছিল। লোকসংস্কৃতির প্রাধান্যই মৌলবাদী সংস্কৃতিকে বাড়তে দেয় নি। আজ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও লোকজ বাংলা সংস্কৃতির সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ মৌলবাদের উত্থান এর জমিন তৈরি হয়েছে।
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, মৌলবাদকে প্রতিহত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাড়াতে হবে অথচ আমরা দেখছি সরকারি নির্দেশে দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ হচ্ছে অথচ সংস্কৃতিজনদের দাবি প্রতি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স তা আজও অনুমোদন হয় না। এই করোনাকালে প্রচুর বাউলসহ প্রান্তিক সাংস্কৃতিক কর্মীরা বেকার হয়ে গিয়েছে। অনেকে বাদ্যযন্ত্র বিক্রি করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদের প্রতি সরকারের কোন প্রণোদনা নেই। মৌলবাদী সংস্কৃতি ও আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে নারী শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি, অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে, সমাজে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। তাই আজ দেশজ অসা¤প্রদায়িক সংস্কৃতি বিকাশের স্বার্থে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১ শতাংশ বরাদ্দ সময়ের দাবি। নামমাত্র অনুদান দিয়ে সর্বগ্রাসী সংকট থেকে জাতিকে রক্ষা করা যাবে না।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com