বুধবার, ২৩ Jun ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

করোনা টিকার মজুত শেষ

যমুনা নিউজচ বিডিঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার ‘কভিশিল্ড’ টিকা আর মজুত নেই। তবে বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে কিছু টিকা আছে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য। অনেক কেন্দ্রে টিকা শেষ হয়ে গেছে। দেশে দ্বিতীয় ডোজের টিকায় ঘাটতি আছে ১৫ থেকে ১৮ লাখ। আর যারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের অন্য কোম্পানির দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে ঘাটতি এই টিকা পেতে বিভিন্ন দেশের কাছে চেষ্টা করা হচ্ছে। আমেরিকার কাছে অক্সফোর্ডের ২০ কোটি ডোজ টিকা মজুত আছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছেও মজুত আছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকেও টিকা পাওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো কার্যকর সাড়া মেলেনি।

ভারতের কাছেও ১৮ লাখ ডোজ টিকা দিতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে চীন থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সিনোফার্মের ৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এর মধ্যে ৩০ হাজার ডোজ টিকা দেশে থাকা চীনা নাগরিকরা পাবেন। আগামী ২৫ মে থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার ডোজ চীনা টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। এই টিকাও একজন মানুষকে দুই ডোজ নিতে হবে। তবে চীন থেকে ক্রয় করা সিনোফার্মের দেড় কোটি ডোজ টিকা আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আসতে পারে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান। দুই দেশের সরকার টু সরকার আলোচনার মাধ্যমে এই টিকা আসছে।

চীনের টিকার মূল্য এক ডোজ ১০ ডলার। প্রতিটি মানুষের দুই ডোজ করে টিকা নিতে হবে। দুই ডোজের মূল্য ২০ ডলার। এদিকে দেশীয় ওষুধ কোম্পানির করোনার টিকা তৈরি সক্ষমতা আছে। তবে টেকনোলজি পাওয়া দুষ্কর। টেকনোলজি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সদিচ্ছার ওপর। যেসব কোম্পানি করোনার টিকা উত্পাদন করেছে, তারা টিকা তৈরির টেকনোলজি দিতে চায়। কিন্তু সরকারের অনুমতি ছাড়া দিতে পারবে না।

এদিকে জুনের ২ তারিখে দেশে ফাইজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টিকা উপহার হিসেবে আসতে পারে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাসের টিকা সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস-গ্যাভি। তারা দেবে ৬০ লাখ ডোজ টিকা। কিন্তু সরকার আরো বেশি টিকা চেয়েছে গ্যাভির কাছে। গ্যাভি থেকে প্রতি ডোজ টিকার মূল্য ৭ ডলার প্রস্তাব করেছে। এই সবকিছুই আশ্বাসের ওপর নির্ভর করছে।

এ পর্যন্ত দেশে ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এসেছে ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ। গত বছর নভেম্বরে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে টিকা পাঠানোর কথা। টাকাও অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছিল। এ বছরের ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা ঠিকমতো এলেও দ্বিতীয় চালান থেকেই টিকা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় চালানে মাত্র ২০ লাখ টিকা পাঠায় সিরাম ইনস্টিটিউট। এরপর আর কোনো টিকা পাঠায়নি প্রতিষ্ঠানটি। তবে উপহার হিসেবে ভারত সরকার বাংলাদেশকে দুই দফায় ৩৩ লাখ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়েছে। সেই হিসাবে চুক্তির ৩ কোটি টিকার মধ্যে এখন পর্যন্ত দেশে এসেছে মাত্র ৭০ লাখ টিকা। বাকি টিকা পাওয়ার বিষয়টি এখন অনিশ্চিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেন, আমাদের কাছে করোনার টিকা আর মজুত নেই। বিভিন্ন কেন্দে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। এক কেন্দে টিকা শেষ হলে সেখান বাড়তি টিকা থাকলে তা অন্য কেন্দে পাঠানো হচ্ছে।

মহাবিপদ আসন্ন :বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো—ভিসি ও বক্ষব্যাধি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেন বলেন, টিকা হলো করোনার প্রতিষেধক। মাস্ক পরে দিনের পর দিন থাকা অনেকের জন্য কষ্টকর। অনেকের নাক বন্ধ হয়ে যায়। নাকে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। দিনে টানা ১২ ঘণ্টা মাস্ক পরে থাকলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনে সংকট হয়। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তাদের আরো কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। সঙ্গে নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এসব জটিলতার কারণে আমেরিকা ও ইউরোপের কোন কোন দেশ নির্দিষ্ট এলাকায় মাস্ক পরা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ঐসব এলাকায় দুই ডোজ টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। সামনে কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ লোককে টিকার আওতায় আনতে না পারলে ‘মহাবিপদ’ আসন্ন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com