বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন

মাছ ধরতে ঝালকাঠিতে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘চাক জাল’

যমুনা নিউজ বিডিঃ প্লাস্টিকের সুঁতা দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে জাল বুনানো হয়। এরপরে বাঁশের কঞ্চি চিকন করে ছেঁচে শলা আকৃতিতে চাক বানিয়ে জালের সঙ্গে সেট করা হয়। সুঁতার জাল আর বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি করা হয় মাছ ধরার ফাঁদ। চাকার মতো ঘোরানো যায়, তাই স্থানীয় নাম ‘চাক জাল’। তবে দেখতে বুচনা চাঁইয়ের মতো হওয়ায় এটি বুচনা জাল নামেও পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে চিংড়ি মাছ ধরার জন্য কৃষক ও জেলেরা চাক জাল ব্যবহার করেন।

রাজাপুরের বাগড়িতে সপ্তাহের প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার চাক জালের হাট বসে। বর্ষা মৌসুমে ধান ক্ষেতে মাছের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন হাট বাজারে চাক জালের কেনাবেচা হয়। চাক জালের কারিগররা জানান, গ্রামাঞ্চলে বর্ষাকালে ধান ক্ষেত ও নালায় বাঁশের তৈরি চাঁই পেতে মাছ ধরতেন মৎস শিকারীরা। এক দশক ধরে উপকূলীয় এলাকায় বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁইয়ের উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তা ছাড়া বাঁশের সংকটও রয়েছে। তবে চাক জাল তৈরিতে খরচ কম। জাল তৈরির কাঁচামাল সহজলভ্য। তাই বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চাক জাল।

ধরন ও পদ্ধতি হুবহু বুচনা চাঁইয়ের মতো। শুধু বাঁশের পরিবর্তে সুতার জাল ব্যবহার করে এই জাল তৈরি করা হয়। স্থানীয় কৃষকদের নিজস্ব মেধা ও শ্রম দিয়ে উদ্ভাবিত এ জালের উৎপাদন খরচ ও দাম কম হওয়ায় চাক জালের চাহিদা বেড়েছে।

মাছ শিকারী মো. আইউব বলেন, এক সময়ে বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের চাহিদা ছিল। বর্তমানে বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের দাম বেশি হওয়ায় চাক জাল মানুষ বেশি কিনছে। শাহাদাৎ হোসেন নামে আরেকজন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ধান ক্ষেতে ও ছোট নালায় প্রচুর চিংড়ি মাছ পাওয়া যায়। চিংড়ি মাছ ধরার জন্য চাক জালের প্রচুর চাহিদা। তিনি বাড়ির পাশে নালায় চাক জাল দিয়ে চিংড়ি মাছ ধরার জন্য জাল কিনেছেন।

বর্ষা মৌসুমে খাল, বিল ও ধানের ক্ষেতে পানি বাড়ায় মাছ ধরার জন্য চাঁই ও জালের চাহিদা বেড়ে যায়। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত চাক জালের বেচাকেনা বেশি হয়। এ সময় ধানের ক্ষেত ও ছোট ছোট নালায় চাঁই ও চাক জাল পেতে মাছ ধরা হয়। তবে বছরজুড়েই মাছ ধরার জন্য চাক জলের চাহিদা রয়েছে। বড় চাক জাল ১৫ থেকে ২০ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়। বড় একটি জাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। ছোট জাল সাধারণত চার থেকে পাঁচ হাত হয়। দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।

চাক জাল বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ধান ক্ষেতে চিংড়ি মাছ ধরার জন্য চাক জালের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় তারা কৃষি কাজের অবসরে প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি চাক জাল তৈরি করেন। ঘরে বসে নারীরাও চাক জাল তৈরি করেন। প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার বাগড়ি হাটে জাল বিক্রি করেন। প্রতিটি বড় জাল বিক্রি করে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং ছোট জাল বিক্রি করে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা লাভ হয়।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com