বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জে শ্রমিক সংকটেও বোরো ধান কাটা শুরু

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জে মৌসূমী ইরি বোরো চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে কৃষকের এ ধান কাটা ও মাড়াই চলছে এখন পুরোদমে। কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় অনেক স্থানে আধা পাকা ধানও কাটছে কৃষকেরা। ধান কাটা শ্রমিক সংকট ও মজুরি বেশি থাকায় কৃষকের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবার ১ লাখ ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। এ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ইরি বোরো ধান চাষ করা হয়। এ জেলার শয্যভান্ডার খ্যাত তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, কামারখন্দসহ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধানের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষ দিক থেকে এ ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা কৃষকরা বলছেন, সার ও শ্রমিক মজুরীর দাম সেসময় কিছুটা কম থাকায় ধান চাষ এবার অনেকটা বেশি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় এখন ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ আশংকা অনেক স্থানে আধা পাকা ধান কাটাও হচ্ছে। ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি এখন ৪’শ টাকা থেকে ৫’শ টাকা। আবারো কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নতুন ধান স্থানীয় হাট বাজারে প্রতিমণ গড়ে ৯’শ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারিভাবে এ ধান ২৭ টাকা কেজি দরে ক্রয়ও শুরু হয়েছে। তবে জেলার অনেক স্থানে ব্লাস্টার রোগ ও ২ দফা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উঠতি ধানের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সরকারি মূল্য ও খোলা বাজরের মূল্য প্রায় সমান থাকায় এ ধান বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়ার আশংকা রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হানিফ বলেন, জেলার প্রায় সবকয়টি উপজেলায় এবার ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে না থাকার আশংকায় সংশ্লিষ্ট কৃষকরা এখন পুরোদমে এ ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছে। তবে এ সময় শ্রমিক সংকট ও মজুরি বেশি থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com