সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হচ্ছে

যমুনা নিউজ বিডিঃ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে অভয় দিয়ে বলেছেন, ভারত অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করে না। এই মুহূর্তে দেশে কোনো অক্সিজেন সংকট নেই।

মন্ত্রী বলেন, ‘লিকুইড অক্সিজেনের তুলনায় গ্যাস অক্সিজেনের উত্পাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা অনেক বেশি। দিনে এখন আড়াই শ টন গ্যাস অক্সিজেন উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। আর লিকুইড অক্সিজেন উত্পাদন হয় দেড় থেকে দুই শ টন। দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল খাতেও ৪০ থেকে ৫০ টন অক্সিজেন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনে সেখান থেকেও নেওয়া যাবে। এ ছাড়া আমরা এখন দেশের হাসপাতালগুলোতে স্থাপনের জন্য ছোট ছোট অক্সিজেন প্লান্ট এনে স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশে অক্সিজেন সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বছর ভারত বা অন্য কোনো দেশ থেকে অক্সিজেন আমদানি করার প্রয়োজন পড়েনি। করোনার পিক অবস্থায় ভারত থেকে কিছু অক্সিজেন আমদানি করা হয়েছিল। এখন ভারতের কঠিন সময় যাচ্ছে। তাই হয়তো ভারত অক্সিজেন দেওয়া বন্ধ করেছে।’

মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক চাহিদা এক থেকে দেড় শ টন মাত্র। চাহিদা দ্বিগুণ হলেও অক্সিজেন সংকট এই মুহূর্তে হবে না। অন্যদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপও কমেছে। তবে রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেলে তখন ভিন্ন চিত্র দেখা দিতে পারে। এ জন্য রোগী যাতে না বাড়ে সেদিকে সবার মনোযোগী হতে হবে।

টিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত চুক্তি অনুযায়ী টিকা দিতে না পারলে বা বিলম্বে দিলে সে জন্য সরকার বসে থাকছে না, বরং সরকার চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য ভ্যাকসিন উত্পাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে লকডাউন যেভাবে চলছে তাও কাজে লাগছে, বলা চলে লকডাউন থাকায় সংক্রমণ এখন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে লকডাউনের কারণে ছোট ব্যবসায়ীদের বা যারা কাজ করে চলে তাদের জন্য ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সরকার স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে দোকানপাট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা রাখছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রমণ রোধে সব কিছুই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করতে পারবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা দেওয়া, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, টিকা দেওয়া, পরীক্ষা করা এবং সংক্রমণ রোধে কী কী করা দরকার সেসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। পরিবহন বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ, রাস্তায় মানুষের চলাচল-যাতায়াত, বিমান চালু রাখা বা বন্ধ রাখা, পর্যটন বন্ধ রাখা, দোকানপাট কিভাবে খুলছে না খুলছে সেসব দেখার জন্য আলাদা দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় রয়েছে। সবাই মিলে একযোগে কাজ করেই করোনা থেকে মুক্তি পেতে হবে।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com