সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নে সড়কের বেহাল অবস্থা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল হাজীপাড়া-কাছারিপাড়া – আইসঢাল সরকারপাড়ার কাঁচা সড়কটির বর্তমানে বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন যাবৎ কোন রকম মেরামত কিংরা সংস্কার না করায় এমন করুণ দশা রাস্তাটির। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বার বার সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তাটি মেরামতের জন্য বললেও কোন ফল হয়নি। ফলে রাস্তাটি দিয়ে সকল রকম যানবাহন ছাড়াও মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আসছে বর্ষার আগেই রাস্তাটি সংস্কার করা না গেলে উল্লিখিত তিন গ্রামের মানুষ অবর্নণীয় দূর্ভোগের শিকার হবেন। আর এ দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে গ্রামবাসীরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে আইসঢাল হাজীপাড়া, আইসঢাল কাচারিপাড়া ও আইসঢাল সরকারপাড়া গ্রাম। নানা শ্রেণি ও পেশার কয়েক হাজার মানুষের বসবাস উল্লিখিত গ্রাম তিনটিতে। এ গ্রামগুলোর মানুষের চলাচলের জন্য কামারপুকুর ইউনিয়নের আইয়ুব পাম্প সংলগ্ন পথিরাম ব্রীজের মোড় সংলগ্ন রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক থেকে একটি কাঁচা রাস্তা উত্তর পূর্ব দিকে নিজবাড়ি পাকা রাস্তা পর্যন্ত চলে গেছে। আনুমানিক তিন-চার কিলোমিটারের এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন উল্লিখিত গ্রামগুলোর সব শ্রেণী পেশার মানুষ এ রাস্তাটি দিয়ে সৈয়দপুর শহর, কামারপুকুর বাজার কিংবা পার্শ্ববতী রংপুরের তারাগঞ্জ হাট ও চিকলীবাজারে যাতায়াত করেন। এ রাস্তাটি ব্যবহার করেন আইসঢাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কাঁচা রাস্তাটি মেরামত কিংবা সংস্কার না করায় বর্তমানে এটি মানুষের চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আইসঢাল হাজীপাড়া থেকে নিজবাড়ি পাকা রাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত কাঁচা রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। পুরো রাস্তাটিতে অসংখ্যক খানাখন্দে সৃষ্টি হয়েছে। আর ইটভাটার জন্য মাটি ও তৈরি ইট ট্রাক,ট্রাক্টর ও ট্রলিতে বহনের জন্য মাঝে মাঝে কাঁচা রাস্তার গর্তে ইটের টুকরা ফেলে চলাচলে উপযোগী করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুয়ের বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, কিংবা রিকশা- রিকশাভ্যান নিয়ে চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে কোন এ্যাম্বুলেন্স চালকই উল্লিখিত গ্রামগুলোতে আসতে চায় না। ফলে গ্রামের কোন মানুষ আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকরে চেম্বারে নিতে কষ্টকর হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন যাবৎ সংষ্কার না করায় অনেকটাই নিরূপায় হয়ে এলাকার মানুষজন অনেক কষ্ট করে দীর্ঘদিন যাবৎ সড়কটি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

আইসঢাল হাজীপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা সয়ার কাজীপাড়া স্কুল ও কলেজ সহকারি শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ভোট আসলে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার জন্য অনেকেই নানা রকম প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে রাখেন না। বর্তমানে আমাদের চলাচলের কাঁচা রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল নিয়েও ঠিকভাবে চলাচল করতে পারি না। রাতের বেলা প্রায় সময় মারাত্মক দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। কিন্তু সে দিকে জনপ্রতিনিধিদের কোন রকম নজর কিংবা ভ্রুক্ষেপ নেই।

আইসঢাল সরকারপাড়া আব্দুর রাজ্জাক রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তাটির মানুষের চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেক বার ধর্ণা দিয়েও কোন ফল হয়নি। তাই আমরা নিজেরাই রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।

কাছারিপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ আলী বলেন, “ এ যেন আলোর নিচে অন্ধকারের মতো অবস্থা।” মূলতঃ কামারপুকুর ইউনিয়নটি একেবারে সৈয়দপুর শহর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। অথচ এ ইউনিয়নের হাজীপাড়া কাচাারিপাড়ার রাস্তাটি দীর্ঘদিনেও পাকা হয়নি। অথচ এ উপজেলার অনেক প্রত্যন্ত এলাকার বহু রাস্তাই পাকা হয়েছে এখন।

কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম লোকমান বলেন, আইসঢাল হাজীপাড়া এলাকায় কয়েকটি ইটভাটার কারণে কাঁচা রাস্তাটির এমন করুণ অবস্থা। প্রতিদিন ওই রাস্তাটি দিয়ে ইটভাটার মাটি ও ইট বড় বড় ট্রাক, ট্রাক্টর ও ট্রলিতে বহন করা হয়। ফলে আইসঢাল হাজীপাড়া- কাছারিপাড়া যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটির মানুষের চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কথা অপকটে শিকার তিনি বলেন, কামারপুকুর ইউনিয়নের প্রায় সব রাস্তায় পাকা হয়ে গেছে। শুধুমাত্র অজ্ঞাত কারণে এ কাঁচা রাস্তাটি পাকা হচ্ছে না। তবে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবণা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media


দেশ রাজনীতিকরাজনীতিবিদরা এখন দেশ পরিচালনা করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশ এখন রাজনীতিবিদরা পরিচালনা করছেন না। একজন রাজনীতিবিদকে (শেখ হাসিনা) সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী সব কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেস কাব মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সংসদে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে তারা আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে। আপনারা জানেন এই আওয়ামী লীগই ৭২-৭৫ সালে চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিল। সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যিনি স্বৈরাচার এরশাদের হাত থেকে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে সম হয়েছিলেন। আমাদের বাক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছি। আজকে একটি সরকার জোর করে বসে আছে। যারা আমাদের ৫০ বছরের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুঃসময় শুধু সংবাদমাধ্যমের নয়, এই দুঃসময় শুধু বিএনপির নয়। এই দুঃসময় পুরো জাতির জন্য। ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আজকে আবার শোনা যাচ্ছে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। কেউ বলছে এটার জন্য একটি আইন করা দরকার। কিন্তু আইনটা করবে কে? সংসদে তো আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কিছু নেই। যারা এদেশে গণতন্ত্রকে হরণ করে এদেশের মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে তারাই আজকে এই আইনটি করবে। ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, প্রেস কাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তামান সভাপতি ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাবেক সভাপতি বাকের হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।রা চালাচ্ছেন না: ফখরুল

© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com