শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

News Headline :
সিরাজগঞ্জ চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ-০১ নিয়মনীতিহীন আইপি টিভির বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী চরকার আদিজন্ম ভারত, ইউরোপের শিল্পে যেভাবে জনপ্রিয় হলো রাজবাড়ীতে অস্ত্র ও গুলি সহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতার আফগানিস্তানে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০, নিখোঁজ ১৫০ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগের ডিডিকে পবিত্রতা অনুশীলনের জন্য এমওই প্রদান আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে ফের সংঘাত, নিহত ৩ আর্মেনীয় সেনা ৫ আগস্টের পরও বিধিনিষেধ বহালের সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত টেকনাফে ১ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

সুদ মওকুফের সুযোগ নেন গ্রাহকরা, উদ্ধার হয় না ঋণের টাকা

যমুনা নিউজ বিডিঃ ব্যাংকিং খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের টাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সুদ মওকুফ চালু হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংক টাকা উদ্ধারে সফল না হলেও ঠিকই সুদ মওকুফ করে নিচ্ছেন গ্রাহকরা। একইসঙ্গে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করা গ্রাহকরাও সুদ মওকুফের এই সুযোগ নিতে চাইছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসে (২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত) রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ব্যাংকসহ ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সুদ মওকুফ করেছে ৫০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক করেছে ১৭০ কোটি টাকা, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মওকুফ করেছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। বাকি প্রায় ৩০ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করেছে অন্যান্য ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলো কোটি কোটি টাকার সুদ মওকুফ করলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ৮ ব্যাংক গত ৫ বছরে সুদ মওকুফ করেছে ৩ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ৪০৮ কোটি ৫ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে ৭৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ২০১৪ সালে ৫৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, ২০১৩ সালে ৫১৮ কোটি ৬৪ লাখ এবং ২০১২ সালে ৯৯৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মওকুফ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢালাওভাবে সুদ মওকুফ হলেও যারা নিয়মিত টাকা পরিশোধ করেন, তাদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। যাদের টাকা শোধ করার ইচ্ছে আছে, তারাও সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে ব্যাংকের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।’
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেখা যাবে, যে সব গ্রাহক সুদ মওকুফের সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের বড় অংশই ঋণ নেওয়ার সময় যথাযথ নিয়ম মানেননি।’ তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ সুদ মওকুফের সুবিধা পেলে অন্য যারা নিয়মিত টাকা পরিশোধ করেন, তারাও অনীহা দেখাবেন।’ সুদ মওকুফের ঘটনা রাজনৈতিক ও ব্যাংকের মালিকদের প্রভাবে হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, ৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সুদ মওকুফ করেছে রূপালী ব্যাংক, ব্যাংকটি ৬ মাসে ৮৪ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করেছে। ৬ মাসে সোনালী ব্যাংক সুদ মওকুফ করেছে ৪৭ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক করেছে ১৬ কোটি টাকা এবং জনতা ব্যাংক ১৬ কোটি টাকা।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ওই ৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সুদ মওকুফ করেছে যমুনা ব্যাংক ৫৪ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংক করেছে ৪৮ কোটি টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংক করেছে ২৫ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংক করেছে ১৯ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক করেছে ১৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সব মিলে গত ৬ মাসে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদ মওকুফ করেছে ৩০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে রাষ্ট্রীয় খাতের ৮ বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক ৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করেছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো সুদ মওকুফ করে ২ হাজার ১০৬ কোটি টাকার। পরের বছর ২০১১ সালেও ২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকার সুদ মওকুফের ঘটনা ঘটে। প্রসঙ্গত, ব্যাংকগুলো মূলত ২০০৬ সালে জারিকৃত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রের ক্ষমতাবলে সুদ মওকুফ করে থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ ব্যাংক সুদ মওকুফে কস্ট অব ফান্ড শিথিল করে ঋণগ্রহীতাকে সুযোগ দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই পরিপত্রে ব্যবসার দুর্দশাজনিত কারণে সুদ মওকুফের বিধান থাকলেও অন্য কারণ দেখিয়েও সুদ মওকুফ হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সোনালী ব্যাংক ২ হাজার ৪৪৬ কোটি, জনতা ব্যাংক ৩ হাজার ৩৩৫ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৯৮৪ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৭১৫ কোটি, বেসিক ব্যাংক ৬৮ কোটি ৫৬ লাখ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ২৪৩ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ৩৮৬ কোটি ৪৭ লাখ এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৯৭ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো কোটি কোটি টাকার সুদ মওকুফ করলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না। গত জুন (২০১৭) পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৯৯ কোটি টাকাই সরকারি ব্যাংকগুলোর। গত জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৫৩ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। বিডিবিএল-এর খেলাপি ঋণ ৫২ শতাংশ, সোনালীর খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণের পরিমাণ ৩৪ শতাংশ, রূপালীর খেলাপি ঋণ ২৭ শতাংশ, অগ্রণীর ২০ শতাংশ, জনতার ১৪ শতাংশ, কৃষি ব্যাংকের ২৩ শতাংশ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com