রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

বিষাক্ত মদপানে মৃত্যু : বগুড়ার দুই হোমিওর লাইসেন্স সাময়িক বাতিল

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বিষাক্ত মদপানে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় বগুড়ার পারুল হোমিও ল্যাবরেটরি প্রাইভেট লিমিটেড এবং পুনম হোমিও ল্যাবরেটরিজের উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ড্রাগ কন্ট্রোল আইন ১৯৮২-এর ১৫ (১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বগুড়ার কাহালুর মেসার্স ইস্টল্যান্ড ল্যাবরেটরিজের (ইউনানি) উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এতে সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাটাগারির ৮০ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাতে পারুল হোমিও ছাড়াও বগুড়ার আরও দুই প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

ঔষধ প্রধাশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুসরণ না করা এবং উৎপাদন লাইসেন্স ইস্যুর শর্ত ভঙ্গের দায়ে বগুড়ার পারুল হোমিও ল্যাবরেটরি প্রাইভেট লিমিটেড এবং পুনম হোমিও ল্যাবরেটরিজের উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ড্রাগ কন্ট্রোল আইন ১৯৮২-এর ১৫ (১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বগুড়ার কাহালুর মেসার্স ইস্টল্যান্ড ল্যাবরেটরিজের (ইউনানি) উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়।
চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি শহরের পুরান বগুড়া এলাকায় একটি বিয়ে বাড়িতে এবং শহরের কালিতলা ও ভবের বাজার এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু হয়। পরে কয়েক দিনে কাহালু এবং শাজাহানপুর এলাকায় আরও ১০ জনসহ মোট ১৬ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ৮ ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানানো হয়। তখনই পুলিশি তদন্তে পারুল হোমিও ল্যাবরেটরির নাম আসে। বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে অসুস্থ এক ব্যক্তির ভাই মনোয়ার হোসেন পারুল হোমিও ল্যাবেরেটরিসহ তিন প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীসহ ১৬ জনের নামে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন।গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে করা সেই মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পারুল হোমিও ল্যাবরেটরীর স্বত্বাধিকারী শহরের ফুলবাড়ি এলাকার নুরুন্নবী ওরফে নুরনবী (৫৮) এবং তিনটি দোকান যথাক্রমে শহরের গালাপট্টি এলাকার মুন হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক (৫৫), করতোয়া হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী শহিদুল আলম সবুর (৫৫) ও হাসান হোমিও হলের কর্মচারী আবু জুয়েলকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে বিষাক্ত অ্যালকোহল উৎপাদন এবং বিক্রির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ হলেই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com