শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে কোভিড সংক্রমের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ সারা দেশের মত করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজশাহীতেও চলছে ‘কঠোর লকডাউন’। ওষুধ ও জরুরি পণ্যের দোকান ছাড়া শপিংমলসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে কিংবা কৌতুহলি হয়ে বের হচ্ছেন অনেকেই।

চিকিসকদের মতে, করোনার সংক্রমণ ঝুঁকিতে বেশি রয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিরা। কিন্তু চলমান লকডাউনে এই শ্রেণির মানুষেরাই বেশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যত্যয় ঘটাচ্ছেন। ঘরের বাইরে এসে এদের অনেকই মাস্ক পরছেন না, মাস্ক যভাযথভাবে পরছেন না কিংবা সামাজিক দূরত্বও মানছেন না। বাজারে সবজি কিনতে, মসজিদে নামাজ আদায়ে ইফতার সামগ্রি কিনতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না তারা। এতে করোনা সংক্রমণ ঝুকি বাড়ছেই।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজার, ইফতার ও খাদ্যপণ্যের দোকানস ফার্মেসী ও মসজিদ ঘুরে দেখা গেছে, এসব জায়গায় ৫০ উর্ধের ব্যক্তিরাই বেশি যাচ্ছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করলেও কিছুক্ষণ পরপর অনেকেই মাস্ক খুলছেন। অনেক সময় মাস্ক খুলেই কথা বলছেন। সেক্ষেত্রেও বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা গেছে। । তাদের খুব কমজনই মাস্ক পরেছিলেন। আর সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই ছিল না।

বয়স্কদের বাইরে বের হওয়ার বিষয়ে একাকীত্বকে দায়ী করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফরোজা সুলতানা সাংবাদিকদের জানান, বয়স্করা সাধারণত সব সময় সঙ্গী খুঁজতে থাকেন। তারা গল্প আড্ডা দিতে বেশি পছন্দ করেন। তারা ঘরবন্দি আবদ্ধ জীবন যতটা সম্ভব পরিহার করতে চান। ঘরের মধ্যে নিজেকে অসহায় ভাবে। এতে তারা হয়তো বাজারে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এবার মসজিদ কিংবা বয়স ভেদে কোনো নির্দেশনা নেই। আর এবার সংক্রমণটা যুবকদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া সবাই মসজিদে যেতে পারবে। মসজিদগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com