রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

অনাবৃষ্টিতে আম ঝরাতে স্বপ্ন পূরণে দিশেহারা চাষিরা

যমুনা নিউজ বিডিঃ প্রতিবছর দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলা থেকে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আম ইউরোপীয় উপমহাদেশের ইতালি, যুক্তরাজ্য, গ্রীস, সুইডেন, জার্মানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। আম চাষিদের থেকে জানা গেছে ২বছর ক্রেতা সংকট ও প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে প্রায় ৭০শতাংশ রপ্তানিযোগ্য আম নষ্ট হয়। এ কারণে দেশসহ বহির্বিশ্বে রপ্তানি করতে না পেরে বিপুল পরিমাণ গাছ ভেঙে ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় চাষিরা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আম্ফানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন ভাবে গাছ ও মাটির পরিচর্যা করে সফলতা পেতে কলারোয়া উপজেলায় এবছর ৬শত ৫০ হেক্টর জমিতে আম আবাদ করেছে চাষিরা। চলতি মৌসুমে অনেক গাছেই আশানুরূপ নেই আমের ধরন। ডালে ফলন বেশী হলেও অনাবৃষ্টির কারণে গুটি ঝরে নষ্ট হওয়ায় স্বপ্ন পূরণে বিপাকে রয়েছে আম চাষিরা।

উপজেলা কৃষিবিভাগ আমের বাম্পার ফলনের লক্ষ্যে চাষিদের স্বপ্ন পূরণে পরামর্শ দিচ্ছেন। আম্পানের ক্ষতি পুষিয়ে উপজেলায় বিভিন্ন জাতের নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এবার বিদেশে রপ্তানিও করা যাবে বলে মনে করেছেন কৃষি অধিদপ্তর।

উপজেলার বৃহৎ আম আবাদের অঞ্চল কেরালকাতা ইউনিয়নের ইলিশপুরের আম চাষি কবিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, কয়েক বছর যাবত কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় বাইরের দেশে আম বিক্রি করে সফলতা পেয়েছি। প্রতিবছর ১৮ বিঘার বাগান থেকে প্রায় ১৬-১৮ লক্ষ টাকার মতো আম বেচা-বিক্রি হয়।

কিন্তু গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে মাত্র ২লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পেরেছিলাম। আর্থিক ক্ষতির থেকেও গাছের ক্ষতি বেশি হওয়ায় এবার প্রতি গাছে ফলন ভালো হয়নি। কিছু ডালে অত্যন্ত ভালো ফলন এসেছে কিন্তু অনাবৃষ্টিতে প্রখর তাপে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। একদিকে করোনা অন্যদিকে অনাবৃষ্টিতে আমের গুটি ঝরে পড়া এ দ্বিমুখী প্রভাবে আম্ফানের ক্ষতির রেশ কাটিয়ে লাভবান হওয়াটা অনেকটা আশায় বুক বাধার মত প্রতিকূল অবস্থা দেখেছি। তবুও কৃষি অধিদপ্তরে সার্বিক পরামর্শে হিমসাগর, আম্প্রপালি, লেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম বেশ কয়েক বছর ধরেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছি। তবে গত ২ বছর আম রপ্তানি বন্ধ আছে। কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছেন এ বছর আম বিদেশে পাঠাতে পারবো। আশা করছি আমের গুটি ঝরা রোধ করতে পারলে কিছুটা সফলতা সম্ভব হবে।

কেরেলকাতা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা মৃণাল কান্তি জানান, করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রাদুর্ভাবের কারণে আম বিদেশে রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দেশের মধ্যে থেমে নেই আম চাষিরা। এবারও ভাল ফলনের আশায় হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন তারা। পোকার সংক্রমণ রোধ ও আমের গুটি যেন ঝরে না পড়ে সে লক্ষে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিটি বাগানে আমের গুটি ঝরছে। তবে হতাশ না হয়ে চাষিদের ইউরিয়া স্প্রে ও সঠিক জৈব সার ব্যাবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে আমের গুটি ঝরা তুলনামূলক কম হবে। উপজেলার বিভিন্ন জাতের আমের মধ্যে বেশি আবাদ হয়, হিম সাগর, ল্যাংড়া, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, মল্লিকা, আম্প্রপালি, বোম্বায়, লতা, দেশীয় লতাসহ নানান জাতের আম।

সিংগা এলাকার হাসানুজ্জামান হাসান নামে এক আম চাষি জানিয়েছেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই পুরো গাছ সাইপারম্যাক্রিন ও কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিয়েছেন। এতে গাছে থেকে শোষক জাতীয় পোকা নিধন হয়েছে। তবে প্রখর সূর্যের তাপে পরিণত আম ঝরছে। এভাবে ঝরতে থাকলে প্রায় ৪৫ শতাংশ ক্ষতি হয়ে যাবে।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্য ফসলের মত আম উৎপাদনের জন্য কলারোয়া একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। আম চাষে সফলতা পাওয়ায় উপজেলা ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এ অঞ্চলের আম ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৮ মেট্রিকটন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ মেট্রিকটন নিরাপদ বিষ মুক্ত আম বিদেশের বাজারে যায়। ক্রেতা সংকট আম্ফান ও করোনার প্রাদুর্ভাবের জন্য ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিষ মুক্ত আম বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ বছর আদর্শ ভাবে পোকা দমনের জন্য ফেরামন ট্রাফ ব্যাবহার করে উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আম আবাদ হয়েছে। ৯ হাজার ১‘শ মেট্রিকটন লক্ষ মাত্রায় হেক্টরপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ মন আমের ফলন ধারণা করা হচ্ছে। সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এবছর ৪৫-৫০ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানি করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media


দেশ রাজনীতিকরাজনীতিবিদরা এখন দেশ পরিচালনা করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশ এখন রাজনীতিবিদরা পরিচালনা করছেন না। একজন রাজনীতিবিদকে (শেখ হাসিনা) সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী সব কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেস কাব মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সংসদে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে তারা আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে। আপনারা জানেন এই আওয়ামী লীগই ৭২-৭৫ সালে চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিল। সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যিনি স্বৈরাচার এরশাদের হাত থেকে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে সম হয়েছিলেন। আমাদের বাক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছি। আজকে একটি সরকার জোর করে বসে আছে। যারা আমাদের ৫০ বছরের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুঃসময় শুধু সংবাদমাধ্যমের নয়, এই দুঃসময় শুধু বিএনপির নয়। এই দুঃসময় পুরো জাতির জন্য। ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আজকে আবার শোনা যাচ্ছে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। কেউ বলছে এটার জন্য একটি আইন করা দরকার। কিন্তু আইনটা করবে কে? সংসদে তো আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কিছু নেই। যারা এদেশে গণতন্ত্রকে হরণ করে এদেশের মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে তারাই আজকে এই আইনটি করবে। ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, প্রেস কাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তামান সভাপতি ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাবেক সভাপতি বাকের হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।রা চালাচ্ছেন না: ফখরুল

© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com