বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

নেপথ্যের রাজনীতিই কাল হলো জামায়াতের

যমুনা নিউজ বিডিঃ আগাগোড়াই বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামের তেমন জনপ্রিয়তা ছিলো না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সরকারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং কিছু ধর্মীয় উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠির সমর্থনের কারণে একটা অবস্থান ছিলো দলটির। যদিও শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী তকমা ছিলো দলটির। কিন্তু সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবস্থান কমতে থাকে দলটির। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যখন একে একে জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় হচ্ছিলো তখন অনেকে বলেছিলেন যে জামায়াতের টাকা এবং বিদেশি সমর্থনের কারণে শেখ হাসিনার সরকার হয়তো শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে পারবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো বাধাই রায় কার্যকর করা আটকাতে পারেনি। আর তখন থেকেই ভাটা পড়তে থাকে জামায়াতের রাজনীতি।

এরপর থেকে শুরু হয় সহিংসতা, জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি। আর এতে সামনে আসে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির। তারা প্রকাশ্যে গাড়ি পুড়িয়ে, মানুষ হত্যা করে আতঙ্কের রাজনীতি শুরু করে। যদিও সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণে বেশি দিন তারা মাঠে থাকতে পারেনি। তারপর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তারা বিএনপির কাঁধে ভর করে নেপথ্যে থেকে নির্বাচন ও সহিংসতায় অংশ নেয়। কিন্তু সব আলোচনা ছাপিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ধর্মভিত্তিক হেফাজতে ইসলাম। দেশব্যাপী তাণ্ডব চালানোর কারণে ধর্মভিত্তিক আরেক দল জামায়াতে ইসলাম বিলিন হয়ে যাচ্ছে। কোনো আলোচনায় জামায়াতের নাম আসছে না। যদিও এই অবস্থানের কারণে জামায়াতের অনেক নেতারা তাদের শীর্ষ নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন।

জামায়াতের একজন নেতা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা যদি করতেই হয় তাহলে সরাসরি রাস্তায় নেমে করা উচিৎ ছিলো কিন্তু তা না করে হেফাজতের নেপথ্যে থেকে ইন্ধন দিয়ে যখন কর্মসূচি সফলতার দিকে তখন সব ক্রেডিট চলে গেলো হেফাজতের। আর মানুষের মধ্যে জামায়াতের যে ধর্মীয় রাজনৈতিক অবস্থান ছিলো সেটি এখন হেফাজতে ইসলামের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে হেফাজতের পেছনে গিয়ে আমাদের অবস্থান সংকটে পড়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে, জামায়াত হেফাজতকে পেছন থেকে ইন্ধন দিয়েছিলো মূলত একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ফায়দা নেয়ার জন্য। কিন্তু সরকার যে ঠাণ্ডা মাথায় ডিল করবে সেটি ভাবেনি জামায়াত। তারা ভেবেছিলো নরেন্দ্র মোদির বিরোধীতা করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকার হয়তো কঠোর অবস্থানে যাবে এবং সেই সুযোগে পরিস্থিতি উস্কে দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে। কিন্তু সরকার যে এতোটা দক্ষতার সঙ্গে ঠান্ডা মেজাজে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে সেটা ভাবেনি জামায়াত নেতারা। আর এটি তাদের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে। আর এই নেপথ্যের রাজনীতি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতের জন্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলাম বিএনপির কাাঁধে ভর করে রাজনীতির মাঠ ধরে রাখার যে কৌশল নিয়েছিলো সেই অবস্থান হয়তো তাদের জন্য সুবিধাজনক ছিলো কারণ বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল না। কিন্তু এবার তারা হেফাজতের নেপথ্যে থেকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছে তা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য। বিশেষ করে হেফাজতও তাদের মতো ধর্মকে সামনে রাখে ফলে এবার যে ক্ষতি হলো তাতে করে ঘুড়ে দাঁড়ানোটা জামায়াতের জন্য অনেক কঠিন হবে। এমনও হতে পারে জামায়াতের যে সামান্য সাংগঠনিক শক্তি আছে তাও বিভাজন হতে পারে হেফাজত ইস্যুতে। তবে সামনের দিনগুলোতে জামায়াত কিভাবে তাদের অবস্থান ধরে রেখে রাজনীতি করবে সেটাই দেখার বিষয়। তবে এখন দলটি খুবই সংকটপূর্ণ সময় পার করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com