শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৮ অপরাহ্ন

কৃষক দল নিয়ে অস্বস্তিতে বিএনপি

যমুনা নিউজ বিডিঃ টানা ২২ বছর পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে জাতীয় সম্মেলন করেছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল। এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। শুধু ব্যর্থ নয় বরং নেতৃত্ব নিয়ে নতুন জটিলতাও দেখা দিয়েছে। এই জটিলতার মধ্যে কবে নাগাদ সংগঠনটি নতুন কমিটি দিতে পারবে তা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে কৃষক দলের কমিটির গঠনের উদ্যোগ ঝুলে যাওয়ার অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপির হাই কমান্ড।

গত ১২ মার্চ গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চের মিলনায়তনে কৃষক দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ওই দিনই বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষক দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দলের সম্মেলনের শুরুর আগে সারা দেশে পুরাতন কমিটি ভেঙে দিয়ে ৫৩টি ইউনিট দেয় সংগঠনটি। ফলে সংগঠনের পুরাতন নেতৃত্ব এই জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলর হতে পারেননি। আর পুরাতন কমিটির নেতারা সম্মেলনে কাউন্সিলর হতে না পারায় তারা ১২ মার্চ ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন চলাকালীন সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তাদেরকে কার্যালয়ের ভেতরে যেতে দেয়া হয়নি।

এদিকে বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন কৃষক দলের কাউন্সিলকে ঘিরে দ্বিতীয় অধিবেশনে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। কার্যালয়ের ভেতরে এক নেতার পক্ষালম্বনকারী বহিরাগতদের কারণে এ জটিলতার সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

দলটির একটি সূত্র জানায়, কৃষক দলের সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত ছিলো- অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে স্লোগান হবে। কিন্তু কৃষক দলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন তার নিজ এলাকা পাবনা থেকে ৪ গাড়িতে নেতাকর্মী সম্মেলন স্থলে নিয়ে এসে তার নামে স্লোগান দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এতে দলের অন্যান্য নেতারা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হলেও শৃঙ্খলার স্বার্থে কোনো প্রতিবাদ করেননি।

নেতাকর্মীরা জানান, সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এতে সংগঠনের কাউন্সিল প্রক্রিয়া পুরোটা বাধাগ্রস্ত হয়। বিলুপ্ত কমিটির নেতৃবৃন্দ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না বলে নতুন এ জটিলতা সৃষ্টি হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে গুলশান কার্যালয়েও হাসান জাফির তুহিনের সমর্থকরা; যারা কৃষক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন তারা অবস্থান নেন। এতে পুরো কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংগঠনের একজন নেতা অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্মেলনে উপস্থিত একজন নেতা জানান, কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ দলের মহাসচিবকে কেন্দ্রীয় কমিটির ভেঙে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতৃবৃন্দরা। এসব কারণে কৃষক দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সম্মেলনে সব কাউন্সিলরদের মতামত পাওয়া যায়নি। আর যারা মতামত দিয়েছেন তাদের মতামতগুলোও অসম্পূর্ণ রয়েছে। তবে যারা মতামত দিয়েছেন, তারা সবাই বলেছেন নতুন কমিটি গঠনের জন্য কৃষক দলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকেই দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছেন।

কৃষক দলের কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় দপ্তরের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সম্মেলন হওয়ার পর এটা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে চলে যায়। তাই এটা এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব আলোচনা করে কমিটি ঘোষণা দেবেন।

কৃষক দলের সম্মেলন ও কমিটি গঠনে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে শামসুজ্জামান দুদু ও হাসান জাফির তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন ১৯৯৮ সালের ১৬ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com