মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

১৩১ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

যমুনা নিউজ বিডিঃ কিউই পেসারদের সামনে ডানেডিনের প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ট্রেন্ট বোল্টের শুরু ও শেষের ধাক্কায় এলোমেলো বাংলাদেশ। এই পেসারের সঙ্গে আলো ছড়িয়েছেন জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরি ও কাইল জেমিসন। শুধু পেস আক্রমণ নয়, স্পিনেও সাফল্য পেয়েছেন মিচেল স্যান্টনার। তাদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে ৪১.৫ ওভারে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

বোল্টদের সামনে সফরকারীদের কোনও ব্যাটসম্যানই সুবিধা করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান মুশফিকুর রহিমের। এছাড়া লিটন দাস ১৯, অভিষিক্ত মেহেদী হাসান ১৪, তামিম ইকবাল ১৩, তাসকিন আহমেদ ১০ ও মোহাম্মদ মিঠুন করেছেন ৯ রান। কিউইদের সবচেয়ে সফল বোলার বোল্ট। টপ অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া বাঁহাতি পেসার ৮.৫ ওভারে ২৭ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। দারুণ বল করছেন নিশাম। ৮ ওভারে ২৭ রান দিয়ে তার শিকার ২ উইকেট। স্যান্টনার ৮ ওভারে ২৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। আর হেনরি ৯ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে এখনও জয়ের দেখা নেই বাংলাদেশের। এবার তামিম ইকবালরা গেছেন অতীতের ব্যর্থতা ঘোচাতে। সেই মিশনে আজ (শনিবার) প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। কিউই পেসারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। বোল্টের বল বুঝতে না পেরে তামিম বিদায় নিলে বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট। বল পিচ করে আউট সুইংয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। বাঁহাতি তামিম তো একবার চমকেই উঠলেন বোল্টের সুইংয়ে। উইকেট বরাবর বল পড়ে চোখের পলকে অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গেল! সেই বোল্টের ডেলিভারিতেই শেষ হলো তামিমের ইনিংস। এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরা বাংলাদেশ অধিনায়ক বলটি বুঝতেই পারেননি! যেভাবে বাঁহাতি তামিমের বিপক্ষে আউট সুইং পাচ্ছিলেন বোল্ট, বাংলাদেশ ওপেনার ভেবেছিলেন এই বলটিও হয়তো সুইং করবে। কিন্তু বোল্টের ডেলিভারিতে কোনও সুইং হলো না। তামিম রক্ষণাত্মকভাবে ডান পা বাড়িয়ে ব্যাট পেতে রাখলেন, কিন্তু বল উইকেটে পিচ করে সরাসরি গিয়ে আঘাত করলো তার পায়ে। ব্যাট ও পায়ের গ্যাপ ছিল বেশ খানিকটা। তামিম যেটি মোটেও প্রত্যাশা করেননি। করার কথাও নয়, আগের প্রায় সব ডেলিভারিই যেহেতু আউট সুইং হয়েছে। ‘বোকা’ বনে যাওয়া তামিম ভালো শুরু পেয়েও তাই বিদায় নিলেন ১৩ রান করে। ১৫ বলের ইনিংসটি বাঁহাতি ওপেনার সাজান ১ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। তার বিদায়ের ২ বল পরই ফিরে যান সৌম্য সরকার। প্যাভিলিয়নে থাকা অবস্থাতেই নিশ্চয় সৌম্য দেখেছিলেন বোল্টের বলে বেশ ভুগতে হচ্ছিল তামিমকে। তাছাড়া বাঁহাতি এই পেসারের বলেই ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি না মিটিয়ে ‘আত্মঘাতী’ হয়ে উইকেট বিলিয়ে এলেন তিনি। দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিপদ বাড়িয়ে আসেন ওয়ান ডাউনে নামা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এক সাক্ষাৎকারে সৌম্য জানিয়েছিলেন, অন্য সব ব্যাটসম্যানের কাছে বোল্ট কঠিন বোলার হলেও তার কাছে খুব সহজ মনে হয় তাকে খেলা। অতিআত্মবিশ্বাসী হয়তো এবার কাল হলো তার! মুখোমুখি হওয়া তৃতীয় বলেই বাউন্ডারি চাইলেন সৌম্য, কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় কভারে ধরা পড়েন অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ের হাতে। একটু আগে তামিম ফিরেছেন, তার পরপরই সৌম্যর বিদায়ে চাপ বাড়ে বাংলাদেশের। যদিও ওপেনার লিটন দাস ও চার নম্বরে নামা মুশফিকুর রহিম আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু লিটনের বিদায়ে আবার সব এলোমেলো। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করতে থাকা লিটন সফট ডিসমিসালের শিকার। জিমি নিশামের হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল তার ব্যাটে লেগে জমা পড়ে বোল্টের হাতে। আউট হওয়ার আগে এই ওপেনার ৩৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান। শূন্য রানে বেঁচে গিয়ে পাওয়া নতুন জীবন কাজে লাগাচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশন মাথায় রেখে সাবলীল ব্যাটিংয়ে উইকেটে মানিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। তাতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছিল বাংলাদেশ তার ব্যাটিংয়ে। যদিও তা অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। তার বিদায়ের পর সফরকারীদের বিপদ আরও বাড়ে মোহাম্মদ মিঠুন দুঃখজনক রান আউটের শিকার হলে। ডানেডিনের প্রথম ওয়ানডেতে মোটেও ভালো অবস্থানে নেই ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ। মুশফিক-মিঠুনের পর মেহেদী হাসান মিরাজের আউটে হারায় ষষ্ঠ উইকেট। যদিও মুশফিক ও মিঠুনের ব্যাটে একটা সময় ভালোই প্রতিরোধ গড়েছিল সফরকারীরা। কিউই পেসারদের সামনে রান সেভাবে না উঠলেও অন্তত উইকেট টিকিয়ে রেখেছিলেন তারা। কিন্তু মুশফিকের আউটের পর ভেঙে পড়ে মিডল অর্ডার। এই উইকেটকিপার জিমি নিশামের বলে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। মার্টিন গাপটিলের হাতে ধরা পড়ার আগে ৪৯ বলে করেন ২৩ রান, ইনিংসটিতে ছিল ২ বাউন্ডারি। মুশফিকের বিদায়ের খানিক সময় পরই আউট হয়ে গেছেন মিঠুন। এই ব্যাটসম্যানের আউটটা দুঃখজনক। মাহমুদউল্লাহর শট বোলার নিশামের হাতে লেগে ভেঙে যায় অন্যপ্রান্তের স্টাম্প। সেসময় ক্রিজ থেকে বেরিয়ে ছিলেন মিঠুন। ফলে ৯ রানে শেষ হয় মিঠুনের ইনিংস। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ প্রতিরোধ গড়ায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ। মিচেল স্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন মাত্র ১ রান করে। পরে অভিষিক্ত মেহেদী হাসান ২০ বলে ১৪ রান করে প্যাভিলিয়ে ফিরলে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ একপ্রান্ত আগলে রেখে চেষ্টা চালালেও বেশিদূর যেতে পারেননি। ২৭ রান করে আউট হন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com