মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

News Headline :
“করোনা মহামারীতে পাঠদানের ক্ষেত্রে বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি মডেল হতে পারে -আলী আশরাফ ভুঞা বগুড়ায় জনস্রোতে ১ জনের কারাদন্ড ৯৮ ব্যাক্তির জরিমানা ‘বঙ্গবন্ধু মাচাং’ উদ্বোধন করে বহিষ্কার যুবলীগ নেতা বগুড়ায় ২৪ ঘন্টায় করোনায় ও উপসর্গে ২৬জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১২৬ স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর করোনায় আক্রান্ত প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে সরকার করোনায় আরও ২৪৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫,৯৮৯ সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না: জিএম কাদের সোনাতলার মানবিক ওসির সততা ও কর্মদক্ষতায় প্রশংসিত জিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে সরকার নতুন গীত গাইছে: ফখরুল

অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৭ পেলেন ঝর্না রহমান

যমুনা নিউজ বিডিঃ  বাংলা কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৭’ পেলেন লেখক ও কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, গল্পকার, কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও সাহিত্যসংগঠক।  মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক-নির্মাতা ফরিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অনন্যা-সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পুরস্কৃত লেখক ঝর্না রহমানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন লেখক-নির্মাতা তাপস কুমার দত্ত। এর পর অতিথিরা ঝর্না রহমানের হাতে উত্তরীয়, ক্রেস্ট, সনদপত্র ও এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লেখক ও নির্মাতা ফরিদুর রহমান বলেন, ঝর্না রহমান যখন লিখেন তখন জেন্ডারনিরপেক্ষ হয়ে ওঠেন। তার গদ্য কাব্যিক ও ব্যঞ্জনাময়। নির্ভুল বাক্য লেখেন, নির্ভুল শব্দ তুলে আনেন। ইমেজ ব্যবহারেও তিনি সচেতন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ঝর্ণা রহমান একটি নিজস্ব ভাষা তৈরি করতে পেরেছেন। কিছুদূর পড়লেই বোঝা যায় তার লেখাই পড়ছি। তিনি সত্যিকার অর্থে একজন লেখক। তাঁর লেখায় বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি উঠে আসে। একজন লেখক পথ দেখান সমাজকে। ঝর্না রহমান সেটি পেরেছেন। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ঝর্না রহমান বলেন, অনন্যা দীর্ঘ ২৬ বছর সাহিত্য পুরস্কৃত প্রদান করার কাজটি দক্ষতার সাথে করে আসছে। এটি অত্যন্ত দক্ষ এবং সুনির্বাচিত পুরস্কার। এ তালিকায় আমার নাম যুক্ত হচ্ছে, এটা অত্যন্ত আনন্দের, সম্মানের। সভাপতির বক্তব্যে তাসমিমা হোসেন বলেন, ঝর্নার লেখা এত সুন্দর সেটা এই দুঃসময়ে পড়ে বুঝেছি। ঝর্নার মতো অসংখ্য গুণী মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। অনন্যা তাদের তুলে আনার জন্য কাজ করবে। আমাদের জীবন যেমন বদলাতে বদলে যাচ্ছে সাহিত্যের বিষয় ও ভাষা। ঝর্নার লেখার এই পরিবর্তনটা চমৎকারভাবে ধরা পড়ে। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ, গান পরিবেশন করে এফ-মাইনর ব্যান্ড দল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে পাক্ষিক অনন্যা আয়োজিত ‘রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা’য় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পাক্ষিক অনন্যা ও দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। উল্লেখ্য, ঝর্না রহমানের জন্ম ১৯৫৯ সালে। প্রধানত কথাসাহিত্যিক। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, নাটক, কবিতা, ছড়া, ভ্রমণ, শিশুসাহিত্য, সংগীত—সবক্ষেত্রেই তার কমবেশি বিচরণ। তবে গল্পকার হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। তার সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি বিশদ বিবরণের ভেতর দিয়ে সমাজ ও ব্যক্তিমানসের নানা সংকট উন্মোচন করেন। তার আখ্যানরীতি এবং বর্ণনাশৈলি যেমন স্বতন্ত্র তেমনই উপভোগ্য। নারী পুরুষের সম্পর্ক, নারীজীবনের অন্তর্গত বেদনা তার সাহিত্যের প্রিয় বিষয় হলেও তিনি দেশজ এবং সামাজিক প্রায় প্রতিটি অনুষঙ্গকে তার সাহিত্যের বিষয় করে তুলেছেন। এ পর্যন্ত তার প্রায় ৬০টির মতো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ঝর্না বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে স¤প্রতি অবসরে গেছেন। তিনি সাহিত্য সংগঠন ‘পরণকথা’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া তিনি ছোট কাগজ ‘পরণকথা’ এবং ‘ত্রৈমাসিক অগ্রসর বিক্রমপুর’-এর সম্পাদক।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com