শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

News Headline :
সিরাজগঞ্জ চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ-০১ নিয়মনীতিহীন আইপি টিভির বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী চরকার আদিজন্ম ভারত, ইউরোপের শিল্পে যেভাবে জনপ্রিয় হলো রাজবাড়ীতে অস্ত্র ও গুলি সহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতার আফগানিস্তানে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০, নিখোঁজ ১৫০ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগের ডিডিকে পবিত্রতা অনুশীলনের জন্য এমওই প্রদান আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে ফের সংঘাত, নিহত ৩ আর্মেনীয় সেনা ৫ আগস্টের পরও বিধিনিষেধ বহালের সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত টেকনাফে ১ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাহত তাকবিরের মৃত্যু

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আহত তাকবির ইসলাম খান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ(শজিমেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে( আইসিইউ) মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ। নিহত তাকবির ইসলাম খান বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

ডাঃ ওয়াদুদ জানান, গত ১১ মার্চ রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকবিরকে ভর্তি করানো হয়। তার শরীরে একাধিক জখম চিহ্ন ছিল। মূলত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, হার্টের সমস্যা এবং বুকে আঘাতের কারণে ভর্তির পর থেকে তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে তাকবির মারা যান।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দুপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। শহরের জিলা স্কুলের প্রাচীর ঘেঁষে থাকা পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য শজিমেকে ভর্তি করানো হয়। তবে আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খানের অবস্থা সবেচেয়ে গুরুতর ছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাকবির ইসলামের সঙ্গে থাকা তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, আবদুর রউফের নেতৃত্বে সাতমাথায় তাকবিরসহ অন্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তখন আবদুর রউফ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিল, তুচ্ছ ঘটনার জেরে তাকবিরের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা আমার এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধাওয়া করেন। এতে হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। সামনে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। আমি প্রত্যাশিত পদ যাতে না পাই, এ জন্যই আমার ওপর হামলার দোষ চাপানো হচ্ছে।

এ ঘটনার ৩ দিন পর  ১৩ মার্চ দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে সদর থানায় পাল্টাপাল্টি পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবীর ইসলাম খানের মা আফরোজা ইসলাম বাদী হয়ে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের  মামলা করেন।

অপরদিকে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ হাসান বাদী হয়ে তাকবীর ইসলাম খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাত জনের মামলা করেন।

তাকবীর ইসলামের মা আফরোজা ইসলাম করা মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন জাহিদ হাসান (২৬), আনোয়ার হোসেন (২৭), মো. তারেক (২৭), বিধান চন্দ্র মোহন্ত (২৭), নিশাদ (২১) ও আরমান (২২)।

অপরদিকে, আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সোহাগ হাসানের দায়ের করা মামলায় নাম উল্লেখিত অন্য আসা্মিরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, হাসিবুল হাসান শান্ত, আব্দুল্লাহ ঈমন, জয় কুমার দাস, শাহাদত জামান সঞ্জয়, সামিউল পরান সজল, সিজান রহমান, ফেরদৌস আলম সাফি, মাহবুবুল সাফিন, হাবিবুর রহমান ও মেহেদী হাসান।

এ ঘটনায় সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com