সোমবার, ২১ Jun ২০২১, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারে বিক্ষোভ ঠেকাতে ‘যুদ্ধাস্ত্র’ ব্যবহার হচ্ছে : অ্যামনেস্টি

যমুনা নিউজ বিডিঃ অভ্যুত্থানবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রাণঘাতী কৌশল এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত কয়েক সপ্তাহের ভিডিও এবং ছবির প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি বলছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যার নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির সহিংসতা থামাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে তারা।  গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার করা হয়েছে সু চিসহ তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। সেনাবাহিনীর অভিযোগ, গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি করে জয় পেয়েছে এনএলডি। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। দেশটিতে বর্তমানে জান্তা শাসকদের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ চলছে। এরইমধ্যে এ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি।

বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৫টি ভিডিও ক্লিপ থেকে বিক্ষোভকারীদের ‘সংঘবদ্ধভাবে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যার’ প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির ক্রাইসিস রেসপন্স পরিচালক জোয়ান্নে মেরিনার বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এসব কৌশল নতুন নয় কিন্তু হাতের হত্যার উন্মত্ততা আগে কখনওই দুনিয়ার মানুষ সরাসরি সম্প্রচারে দেখতে পারেনি।’ অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাবে ৫০টিরও বেশি ভিডিও যাচাই করা হয়েছে। চলমান অভিযানের এসব ভিডিও ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পনা মাফিক, পদ্ধতিগত কৌশল বাস্তবায়ন করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘ক্রমবর্ধমানভাবে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করছে তা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য যথাযথ, পুলিশি কার্যক্রমের জন্য নয়।’ ভিডিওতে ধরা পড়া মিয়ানমারের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বারবারই বেপরোয়া আচরণ করতে দেখা গেছে। এসব আচরণের মধ্যে রয়েছে, ঘিরে রাখা এলাকায় নির্বিচারে তাজা গুলির ব্যবহার। উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া পুলিশ সদস্যরা বুধবার জানিয়েছেন তাদেরকে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গুলি চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। সে আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানোর পর ধরপাকড় এড়াতে ভারতে পালাতে বাধ্য হয়েছেন তারা। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছেন, এ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ তাদের সামনে খোলা ছিল না।
খবর আল জাজিরার।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com