শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৪ অপরাহ্ন

ঐতিহাসিক মহাস্থানে শেষ বৈশাখী মেলা

নয়ন রায় ঃ বগুড়া শহরের মহাস্থানগড়ে বৃহস্পতিবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানের শেষ বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। ১১ মে ২৭ বৈশাখ বৃহস্পতিবার দিন এবং রাতটির অপেক্ষায় থাকে লক্ষ লক্ষ ইনছান। হযরত শাহ্ সুলতান ও পরশুরাম এর ইতিহাসকে ঘিরে প্রতি বৎসরের বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এই মেলাটি উদ্যাপিত হয়ে আসছে। এ মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যে জটধারী বাউল ফকির সন্ন্যাসীরা মহাস্থানে আগমন করেছে। এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে। বিনা দাওয়াতে এতো সমাগম বাংলাদেশের ইতিহাসে মহাস্থানই তার জলন্ত প্রমান। মহাস্থান গড়ের ইতিহাস আড়াই হাজার বছরের অধিক প্রাচীন। এই সুদীর্ঘ সময়ে মহাস্থানে শৃঙ্গ, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজ বংশের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। এই প্রাচীণ নগরের ইতিহাস বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন বর্ণের বিভিন্ন জাতীয় ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা-সংস্কৃতি তাদের উত্থান-পতন এবং হাসি-কান্নার ইতিহাস। এই ঐতিহাসিক মহাস্থান গড় বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্র নগরের ধ্বংসাবশেস। হযরত শাহ্ সুলতান বলখী (র:) এই দিনে বিজয় অর্জন করায় সেই থেকে শান্তির এই বিজয়কে স্মরণে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এখানে শেষ বৈশাখী মেলা উদ্যাপন করে মানুষ। দূর-দূূরান্ত থেকে সকল ধর্মের মানুষ ছুটে আসে মহাস্থানে। লাখ লাখ মানুষের সাথে রচিত যোগ হয়ে যায় জ্বীন পরিবারও। মেলা উপলক্ষে গত কয়েকদিন আগে থেকেই সাধু সন্ন্যাসীরা মহাস্থানে তাদের আস্তানা গেরে বসে। বাউল ফকির দরবেশরা সারা দিন-রাত মারফতি জারী সারি-গানে মগ্ন থাকবে, অন্যদিকে মুছুল্লিরা সারারাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করবেন। মাজারের পাশে সেই ঐতিহ্যবাহী পাথরে দুধ ঢালছে অনেকে ভক্তরা। বাবার মাজার ও তাঁর আসে পাশে মোমবাতি, আগরবাতি, গোলাপজল সহ সুগন্ধে ছড়িয়ে পড়েছে সারা মহাস্থানগড়। মেলায় বেড়াতে আসা অনেকেই ফেরার পথে নিয়ে যায় সেই ঐতিহাসিক কটকটি। এছারাও মেলায় পোশাক, কুঠির শিল্প, খেলনা, হরেক রকম খাবারের দোকান রয়েছে। মাজার এলাকায় যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ওরসের একদিন পূর্বেই সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। আছে শতাধিক পুরুষ ও মহিলা পুলিশ, র‌্যাবের টহল দল, সাদা পোশাকে ডিবি, ট্রাফিক ইউনিট, দমকল ইউনিট। শুধু মাজার এলাকা নয় এর আশে পাশেও কোন অবৈধ কর্মকান্ড যাতে না হয় তার সকল ব্যবস্থা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে অনেক সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠেছে এই দিনটায়। বগুড়া শহর থেকে সিএনজি, বাস, অটো অথবা নিজের মোটরসাইকেল অথবা প্রাইভেট কারে করে যাওয়া যাবে মেলায়।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com