বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

সিরিয়ায় হামলার অনুমোদন ব্রিটিশ এমপিদের

সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করে।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন চলমান বিমান হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ করার প্রশ্নে গতকাল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তুমুল বিতর্ক চলে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ওই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। প্রস্তাবের পক্ষে ৩৯৭টি এবং বিপক্ষে ২২৩টি ভোট পড়েছে।

ভোটাভুটির কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাজ্যের চারটি যুদ্ধবিমান সাইপ্রাসের বিমানঘাঁটি থেকে আকাশে ওড়ে।

ওই যুদ্ধবিমানগুলোর গন্তব্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের সরকারও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। আরও চারটি যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রয়েছে। ওই যুদ্ধবিমানগুলো ইরাকে আইএসের ওপর বোমা হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেখান থেকেই সিরিয়ায়ও আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিরিয়ায় আইএসের ওপর বিমান থেকে বোমা হামলা চালানোর অনুমোদন চেয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়।

হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণের সমর্থনে পার্লামেন্টে গতকালের বিতর্কে নানা যুক্তি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। পাল্টা যুক্তি দেন বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন। তিনি সিরিয়ায় হামলার ঘোরবিরোধী হলেও দলীয় এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেন।

তুমুল বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি বড় ব্যবধানেই পাস হয়। লেবার দলের ৬৬ জন এমপি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

প্রস্তাব পাসের পর ক্যামেরন বলেন, দেশকে নিরাপদ রাখতে এমপিরা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।

তবে প্রস্তাবের বিরোধিতা করা আইনপ্রণেতারা বলছেন, এটি ভুল পদক্ষেপ।

সিরিয়ায় হামলা নিয়ে উত্তপ্ত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন চলমান বিমান হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ করা প্রশ্নে গতকাল বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্কে জড়ান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও বিরোধী লেবার পার্টির এমপিরা। গত রাতেই এ-সংক্রান্ত এক প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। খবর বিবিসির।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর বিমান থেকে বোমা হামলা চালানোর অনুমোদন চেয়ে সংসদে ওই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের আগে থেকেই যুক্তরাজ্য সিরিয়ার প্রতিবেশী ইরাকে আইএসের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে গতকাল বলা হয়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ১০ ঘণ্টা বিতর্ক হবে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের ওই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা।

হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণের সমর্থনে গতকালের বিতর্কে নানা যুক্তি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। পাল্টা যুক্তি দেন বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন। তিনি সিরিয়ায় হামলার ঘোর বিরোধী।

ক্যামেরন বলেন, আইএস যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে, করবিন সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের চলমান বোমা হামলা ও তাতে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। এ ব্যাপারে করবিনের নিজ দলীয় এমপিদের মধ্যেই বিভক্তি দেখা দিয়েছে। তবে তিনি বলেন, এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

করবিনের সহকর্মীরা বলেন, তাঁদের দলের ৯০ জনের মতো এমপি ভোটাভুটিতে ক্ষমতাসীনদের সমর্থন দিতে পারে। এ ছাড়া, ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস উভয়ই ক্যামেরনকে সমর্থন করছে। এ অবস্থায় প্রস্তাবটি পাস হবে বলেই মনে করা হচ্ছিল।

ভোটের আগে অনুষ্ঠিত বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বিরোধীদলীয় নেতা করবিন এবং অন্য বিরোধিতাকারী নেতাদের কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল কাজের’ সঙ্গে তুলনা করলে বিতর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। করবিনের একজন মুখপাত্র বলেন, ক্যামেরনের এ মন্তব্য নিন্দনীয় এবং এতে এটাই স্পষ্ট যে তিনি যুক্তি হারিয়ে ফেলছেন।

সম্প্রতি করবিন ক্যামেরনের ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, সিরিয়ায় এমন কোনো লোক বাকি নেই, যারা কোনো না-কোনো পশ্চিমা শক্তির বোমা হামলার শিকার হয়নি। হাজার হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অথচ আইএসকে কিছুই করা যায়নি। তিনি বলেন, বোমা হামলা করে কোথাও শান্তি আনা যাবে না। অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে। এদিকে সিরিয়ায় বোমা হামলার বিরোধিতা করে গত শনিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com