Breaking News
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম বিভাগ / সিম চাষ করে স্বাবলম্বী সুুবর্নচরের কৃষক

সিম চাষ করে স্বাবলম্বী সুুবর্নচরের কৃষক

নোয়াখালী প্রতিনিধি সবুজের সমারহ ,খাদ্য শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত নোয়াখালীর সুবর্নচরে নিজ উদ্যোগে সিম চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষকগন । উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে সিমের চাষ । অনাবাদি জমিতে গত এক যুগের মতো নিজ উদ্দ্যোগে কৃষকরা নানা পদ্দতিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করে আসছে। গত কয়েক বছর সবজি আবাদের তালিকায় যোগ হয়েছে সিম। এ আবাদ প্রতি বছর বেড়ে চলছে, অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সুবর্নচরের কৃষক।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে গত বছর উপ জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে সিম চাষ হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে সুবর্ণচরে ১০০০ হেক্টর জমিতে সিম চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে সুবর্ণচরের চরজুবিলী ,চরবাটা ,চরওয়াপদা ,চরজব্বর , চরক্লার্ক, মোহাম্মদপুর, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন, হেমায়েতপুর, সৈয়দপুর, ভূমিহীন বাজার ও জনতাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায় এলাকাগুলো যেন সিম দিয়ে ঘেরা। প্রতিটি পরিবার নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জমিতে নানা পদ্দতিতে সিম চাষ করছে। চরাঞ্চলের বাড়িগুলোর চারপাশ ঘিরে রয়েছে সবুজ সিম গাছে। এখনার বাসিন্দারা জানান, এসব চরগুলো নদী গর্ভ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর পূর্বে জেগে উঠে। পরবর্তীতে বন বিভাগএই সমস্ত চরে বনায়ন করে। ১৯৯৮ থেকে বন দস্যুরা বন উজাড় করে বিভিন্ন নদী ভাঙ্গা মানুষের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে এই সমস্ত চরের জমি। এরপর শুরু হয় মানুষের বসবাস। বসবাস শুরু হলেও লবণাক্ততার কারণে ঐ সমস্ত জমিনে ধান বা রবি শস্য কিছুই উৎপাদন হতো না। কিন্তু গত এক যুগ থেকে এখানে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে নানা পদ্দতীতে শসা, চিচিংগা, বরবটি, করলাসহ নানা সবজির চাষ শুরু করে। জমি গুলোকে কেটে নালা ও আইলে পরিণত করা হয়।

চরক্লার্ক ইউনিয়নের চরআলা উদ্দিন গ্রামের কৃষক মোঃ সামসুদ্দিন (৪৫)বলেন, বাড়ির চারপাশের এক একর জমিতে মৌসুম হিসেব করে শসা, চিচিংগা, বরবটি,করলা চাষ করে আসছেন তিনি। এগুলোর পাশাপাশি গত তিন বছর রবি মৌসুমে সিম চাষ শুরু করেন। গত দুই বছর লাভবান হওয়ায় এবছর পুরো ৮ একর জমিতেই সিম চাষ করেছেন। একটু শারীরিক পরিশ্রম হলেও ফলন ভালো হলে সিম ও সিমের বিচি বিক্রি করে মৌসুমে ৩ লাখ টাকা বিক্রি করেন। এ বছর পুরো ৮ একরে ১ লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায়৭০ হাজার টাকার সিম ও সিমের বিচি বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করেন মৌসুম শেষ নাগাদ ৫ লাখ টাকার সিম ও সিমের বিচি বিক্রি করতে পারবেন । একই গ্রামের মোস্তান নগর এলাকার সোলেমান মাঝী (৪০) জানান তিনি এবছর ৭একর জমিতে সিমের চাষ করেন , এতে তার খরচ হয প্রায ৮০ হাজার টাকা ।মৌসুম শেষে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার সিম ও সিমের বিচি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেন ।চর আক্রাম উদ্দিন গ্রামের বেলাল মাঝী (৫০) এ বছর প্রায় ৬ একর জমিতে সিমের চাষ করেন ,তাতে তার ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান ।সিম ও সিমের বিচি বিক্রি হবে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বলে তিনি জানান । স্থানীয় মোস্তান নগর বাজারের আড়ৎদার মিয়া মাঝী, আবুল কাশেম,জামাল মেম্বার জানান,ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই সমস্ত সিম চাষীদেরকে দাদন দিয়ে সিম চাষে উৎসাহিত করা হয় ।তাদেও উৎপাদিত সিম আমাদের আড়তে আসার পর বিক্রি হলে আমরা প্রতি মনে ২০টাকা কমিশন পাই ।
এখানে নোয়াখালীর বৃহত্তর বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলার পাইকাররা আসেন। ট্রাক ভরে নিয়ে যায় সিম ও সিমের বিচি। এসব চরাঞ্চলের কৃষকরা উৎপাদন করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। আর্থিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা। সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন সহযোগিতা পাননা তারা । বিভিন্ন এনজিও ও কীটনাশক কোম্পানীর লোকজনের পরামর্শই তাদের এক মাত্র সহযোগিতা ।
কৃষকদের দাবী চাহিদা অনুযায়ী স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি থাকলে কৃষকরা উপজেলার অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে সক্ষম হবে। একই সাথে নিজেদেরও আর্থসামাজিক মর্যাদা বাড়বে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিমের আবাদ বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, উপজেলার চরাঞ্চলে এটি এখন প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে গন্য হচেছ। বিভিন্ন পদ¦তি অবলম্ব করে কৃষকরা সবজি উৎপাদন করে দারুন লাভবান হচ্ছে। জনবল কম থাকায় এত বিশাল উপজেলার সব কৃষকদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছেনা । এর পর ও আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সাধ্যমত পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ।

Check Also

দূর্গম পাহাড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো ১০ কি:মি: রাস্তা

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি থেকে: সরকারী উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টির বাইরে থাকা দুর্গমাঞ্চলের ১০ গ্রামের বাসিন্দারা …

Powered by themekiller.com