Home / জাতীয় / পার্বত্য শান্তিচুক্তি শতভাগ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার চাই

পার্বত্য শান্তিচুক্তি শতভাগ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার চাই

যমুনা নিউজ বিডি: দীর্ঘ একুশ বছরেও পার্বত্য শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাব। কিন্তু দেশের ১০ শতাংশ এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠিকে অবহেলিত রেখে জাতীয় উন্নয়ন অসম্ভব। তাই ওই এলাকার মানুষের প্রতি প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা বন্ধ করে শান্তিচুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আর এই বিষয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অঙ্গীকার দাবি করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ রবিবার রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট-এর থ্রি ডি সেমিনার হলে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১ বছর: বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রত্যাশা’- শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এই দাবি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

আলোচনায় অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ার অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ইনস্টিটিউট ফর ইনভায়রণমেন্ট এণ্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি)’র নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান, কমিউনিষ্ট কেন্দ্রের ডা. অসিত বরণ রায়, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জনসংহতি সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দীপায়ণ খীসা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সংস্কৃতি কর্মী রূপশ্রী চক্রবর্তী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। কিন্ত হতাশ হলে চলবে না। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই দেশটাকে দূর্বৃত্তদের হাতে তুলে দিতে পারি না। দেশটাকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিবেন তাদের শান্তিচুক্তি শতভাগ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা তার প্রতিফল দেখতে চাই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সন্তু লারমা বলেন, ইতোপূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও তার বাস্তায়ন হয়নি। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন দলগুলোর আন্তরিকতার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং পার্বত্য চুক্তিবিরোধী বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এমনকি সারাবিশ্বে প্রশংসিত এই চুক্তি নিয়ে সরকার নানা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে। এই অবস্থায় চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

পার্বত্য চুক্তি নিয়ে সরকার পাহাড়ের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে দাবি করে প্রবীণ রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্য্য বলেন, চুক্তির পর গত ২১বছর অন্তত ৪০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ২০টির বেশী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। কোনো ঘটনারই ন্যায় বিচার হয়নি। এ নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফলে যে কোনো মুহুর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন উল্লেখ করে অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, সারাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চলছে। তেমনি পার্বত্য এলাকায় সংখ্যাগুরু পাহাড়িদের উচ্ছেদ করে সংখ্যালঘু বানানোর জন্য দমন-পীড়ন চলছে। সেখানে রাষ্ট্র জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই সেখানে গণতান্ত্রিক নিশ্চিত করতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদী উদ্যানে সম্পাদিত চুক্তিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরণের চুক্তি শতভাগ বাস্তবায়নের নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ।

তিনি বলেন, ৭২টির মধ্যে ৪৮টি, এটা কোনো কথা নয়। চুক্তির সকল শত পুরণ করতে হবে। কারণ এই চুক্তির সঙ্গে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো জড়িত হবে। আগামী সরকার বিশ্বব্যাপী প্রশংশিত এই চুক্তিটি যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Check Also

আজ মনোনয়ন ফিরে পেতে খালেদার রিটের আদেশ

যমুনা নিউজ বিডি : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের …

Powered by themekiller.com