Home / সারাদেশ / শেরপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন

শেরপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন

যমুনা নিউজ বিডি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আজ শুক্রবার শেরপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শেরপুর জেলা ইউনিট কমান্ড র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সকাল ১০টায় শহরের রঘুনাথ বাজার সদর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে মুক্ত দিবসের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব ও পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম। সেখান থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সাইকেল র‌্যালি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জেলা প্রশাসনের রজনীগন্ধা সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক জেলা কমান্ডার আবু সালেহ মো. নুরুল ইসলাম হিরু, সাবেক সদর উপজেলা কমান্ডার অ্যাডভোকেট এ,কে,এম মোখলেছুর রহমান আকন্দ, মুক্তিযোদ্ধা-লেখক জাফর ইকবাল, জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ আখতারুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার প্রমুখ।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র সংগঠক ও জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন শহরের বটতলা এলাকায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগ্রাম কমিটির কার্যালয়সহ শেরপুরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় স্থানগুলো সংরক্ষণের দাবি জানান। মুক্তিযোদ্ধা আখতারজ্জামান পৌরপার্কের মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জেনারেল অরোরার আগমনের স্থানটিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেরও দাবি করেন তিনি।

এ উপলক্ষে শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে বিকেল ৩টায় পৌর শহীদ মিনার চত্বরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শেরপুর পৌরসভার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শহরে বসবাসকারী ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ভোজে আপ্যায়িত করার কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া সন্ধ্যায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে উদীচী শেরপুর জেলা সংসদ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যৌথ নেতৃত্বে পাকহানারদের দখল হতে মুক্ত হয় শেরপুর। এদিন শেরপুর টাউনের শহীদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করেছিলেন ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা। মুক্ত শেরপুরবাসী তাকে স্বাগত জানায়। মিত্র বাহিনীর উপস্থিতিতে সেদিন পৌর পার্ক মাঠে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু সালেহ মো. নূরুল ইসলাম হিরু জানান, মূলত: নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই শেরপুরে শত্রু সেনাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে থাকে। জুলাই-আগস্ট মাস থেকেই শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ি এবং পাশ্ববর্তী বকশীগঞ্জ অঞ্চলে শুরু হয় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা লড়াই। এ লড়াই চূড়ান্ত রূপ নেয় নভেম্বর মাসে। এ মাসের শেষ সপ্তাহে শেরপুর-জামালপুর সেক্টরে পাক বাহিনীর দূর্জেয় ঘাঁটি হিসাবে কথিত কামালপুর ক্যাম্পে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী উপর্যুপুরী সাঁড়াশি আক্রমন চালায়। ফলে ৪ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর এ দূর্জেয় ঘাঁটির পতন ঘটে। তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে দ্রুত এ অঞ্চল থেকে গুটাতে শুরু করে।

তিনি আরো জানান, ঝিনাইগাতীর আহমদনগর সেক্টর হেডকোয়ার্টারসহ ৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী শেরপুর ত্যাগ করে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে জামালপুরে আশ্রয় নেয়। পাকবাহিনীকে জামালপুর থেকে হটাতে গিয়ে ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনীর ৬ জওয়ান শেরপুরে শহীদ হন। অপরদিকে ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ি ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত পথে ৭ ডিসেম্বর বিজয়ীর বেশে মুক্তিযোদ্ধার দল যথাক্রমে ক্যাপ্টেন আজিজ, জাফর ইকবাল ও রহুল আমিন তোতার নেতৃত্বে শেরপুর শহরে প্রবেশ করে।

এ সময় ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানে উপস্থিত জনতা চারদিক মুখরিত করে তোলে।

Check Also

বেলকুচিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর

যমুনা নিউজ বিডি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আওয়ামী লীগের দুটি নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের  হামলা করার অভিযোগ পাওয়া …

Powered by themekiller.com